করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসাকর্মীদের সম্মানী-বিমায় ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ|210897|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ এপ্রিল, ২০২০ ২০:২৪
করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসাকর্মীদের সম্মানী-বিমায় ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ
অনলাইন ডেস্ক

করোনা মোকাবিলায় চিকিৎসাকর্মীদের সম্মানী-বিমায় ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ

সীমাবদ্ধতা এবং মৃত্যুঝুঁকি উপেক্ষা করে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের পাশে দাঁড়ানো চিকিৎসক ও চিকিৎসাকর্মীদের বিশেষ সম্মানী ও বিমার জন্য ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে ভাষণে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই ঘোষণা দিয়ে চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিতদের এই করোনা সংকটে দৃঢ় মনোবল নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি চিকিৎসাকর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীগণ সম্পদের সীমাবদ্ধতা এবং মৃত্যুঝুঁকি উপেক্ষা করে একেবারে সামনের কাতারে থেকে করোনাভাইরাস-আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের পেশাটাই এ রকম চ্যালেঞ্জের। এই ক্রান্তিকালে মনোবল হারাবেন না। গোটা দেশবাসী আপনাদের পাশে রয়েছে। আমি দেশবাসীর পক্ষ থেকে আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, প্রত্যক্ষভাবে যারা কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় কাজ করে যাচ্ছেন, সেই সব স্বাস্থ্যকর্মীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছি। তাদের বিশেষ সম্মানী দেওয়া হবে। এ জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।

সুরক্ষা সরঞ্জামের কোনো ঘাটতি নেই বলে চিকিৎসকদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজেকে সুরক্ষিত রেখে স্বাস্থ্যকর্মীগণ সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে যাবেন, এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা। একই সঙ্গে সাধারণ রোগীরা যাতে কোনোভাবেই চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সেদিকে নজর রাখার জন্য আমি প্রতিটি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানাচ্ছি।

মহামারি প্রতিরোধে চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা,আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, সশস্ত্র বাহিনী ও বিজিবি সদস্য এবং প্রত্যক্ষভাবে নিয়োজিত প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য কর্মচারীর জন্য বিমার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দায়িত্ব পালনকালে যদি কেউ আক্রান্ত হন, তাহলে পদমর্যাদা অনুযায়ী প্রত্যেকের জন্য থাকছে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবিমা এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে এর পরিমাণ ৫ গুণ বৃদ্ধি পাবে। স্বাস্থ্যবিমা ও জীবনবিমা বাবদ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে ৭৫০ কোটি টাকা।

 

করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে নিয়োজিত পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, রোগী আনা-নেওয়ার কাজে এবং মৃত ব্যক্তির দাফন ও সৎকারের দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীসহ জরুরি সেবা কাজে যারা নিয়োজিত রয়েছেন, তাদেরও ধন্যবাদ জানান সরকার প্রধান।

ভাষণের শুরুতে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৪২৭ বঙ্গাব্দের শুভেচ্ছা। দেশে-বিদেশে যে যেখানেই আছেন, সবাইকে জানাই বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা।

দেশে করোনাভাইরাসের মহামারি মোকাবিলায় এই উৎসবের সময় সবাইকে ঘরে থাকার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এবার সবাইকে অনুরোধ করব, কাঁচা আম, জাম, পেয়ারা, তরমুজসহ নানা মৌসুমি ফল সংগ্রহ করে পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাড়িতে বসেই নববর্ষের আনন্দ উপভোগ করুন। আপনারা বিনা কারণে ঘরের বাইরে যাবেন না। অযথা কোথাও ভিড় করবেন না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে নিজেকে রক্ষা করুন, পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করুন।