মানুষের জীবন ও জীবিকা দুটোই রক্ষা করতে হবে : তথ্যমন্ত্রী|213218|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ এপ্রিল, ২০২০ ১৮:৩৩
মানুষের জীবন ও জীবিকা দুটোই রক্ষা করতে হবে : তথ্যমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক

মানুষের জীবন ও জীবিকা দুটোই রক্ষা করতে হবে : তথ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, সরকারকে একই সাথে দুটি বিষয়ে ভাবতে হয়। মানুষের জীবন যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনি মানুষের জীবিকাও রক্ষা করতে হবে। সুতরাং মানুষের জীবন এবং জীবিকা দুটোই রক্ষাকল্পেই আমরা কাজ করছি।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশে বর্তমানে ১৭ লক্ষ টন খাদ্য মজুদ আছে। ইতিমধ্যে ১ লক্ষ টন খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে এবং আরো ৬ লক্ষ টন খাদ্য শস্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে কোভিট-১৯ সংক্রমণে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় ত্রাণ ও অন্যান্য বিষয়ের সমন্বয়ের লক্ষ্যে আয়োজিত সভাশেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে, করোনাভাইরাস মোকাবিলায় প্রশাসনের সাথে চট্টগ্রামের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, স্বাস্থ্য বিভাগসহ বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে তথ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা সঞ্চালন করেন কোভিট-১৯ মোকাবেলায় চট্টগ্রাম জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মস্তফা কামাল উদ্দিন। এতে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার গত কয়েক বছর ধরে পঞ্চাশ লাখ পরিবারকে ১০ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল বছরের সাত মাস বিতরণ করে আসছে। এ ধরণের আরো পঞ্চাশ লাখ কার্ড করার ঘোষণা দিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। অর্থাৎ এক কোটি কার্ডধারী মানে পাঁচ কোটি মানুষ। সমগ্র বাংলাদেশে সরকারিভাবে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষকে সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে। এর বাইরে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, পঙ্গু ভাতাসহ নানা ধরণের ভাতা এবং সরকারের ১৪৪টি কর্মসূচির মাধ্যমে আরো এক কোটি মানুষ সামাজিক সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে আছে।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যে কারণে আমাদের দেশে করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি আল্লাহর রহমতে এখনো অনেক উন্নত দেশের তুলনায় কিছুটা ভালো অবস্থায় আছে। তাই বলে সরকার বসে নেই। ভবিষ্যতে যেকোন পরিস্থিতি হতে পারে, সেজন্য সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। যে সমস্ত দেশে নাজুক পরিস্থিতি হয়েছে, সেরকম হলে আমাদের কি করতে হবে সেটি নিয়েও আমরা নানা প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। তারই অংশ হিসেবে আজকের এই সমন্বয় সভা করা হয়েছে।

অসহায় মানুষের মাঝে সরকারের ত্রাণ বিলি বণ্টনে চট্টগ্রামের বিভিন্ন সংসদ সদস্যদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে না, তাদের এড়িয়ে চলা হচ্ছে, এমন ধরণের অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে এবং এই দূরত্ব ঘুচিয়ে সমন্বয় নিশ্চিত হয়েছে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আজকে একটি মাস দেশের সমস্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ। বাংলাদেশে একটি মানুষও না খেয়ে মৃত্যুবরণ করেনি। এটিই হচ্ছে সরকারের সফলতা। সরকারি সাহায্যের বাইরে আমাদের সংসদ সদস্য, অন্যান্য জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং অবস্থা-সম্পন্ন বিত্তশালীরা সহায়তা দিচ্ছেন। সুতরাং সমস্ত কিছু সমন্বয় করার জন্যই আজকের এই বৈঠক।

সমন্বয় সভায় আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চৌধুরী এমপি, এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপি, মোসলেম উদ্দিন আহমেদ এমপি, নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী এমপি, মোস্তাফিজুর রহমান এমপি, আবু রেজা নদভী এমপি, ওয়াসিকা আয়েশা খানম এমপি, খাদিজাতুল আনোয়ার সনি এমপি, বিভাগীয় কমিশনার এবিএম আজাদ, জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বি প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।