শীতল টিকা যুদ্ধ |238308|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০
শীতল টিকা যুদ্ধ
করোনাভাইরাস
রূপান্তর ডেস্ক

শীতল টিকা যুদ্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া সিএনএন গতকাল রাশিয়ার করোনা টিকা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেই প্রতিবেদনের শুরুই হয়, ‘ভ্লাদিমির পুতিন যদি আমাদের বলেন যে, টিকাটি নিরাপদ, আপনি কি সেই কথা বিশ্বাস করবেন?’ এমন লাইন দিয়ে। এর পরের লাইনেই আছে, ‘পুতিন যদি ট্রাম্পকে বলেন যে, রাশিয়ার উদ্ভাবিত টিকা নিরাপদ, তাহলে কি ট্রাম্প তা বিশ্বাস করবেন?’ প্রতিবেদনের এমন লাইনগুলো দেখেই বোঝা যায় রাশিয়ার টিকা নিয়ে অন্য দেশগুলো ছাড়াও মিডিয়াগুলোও শীতল যুদ্ধে মেতেছে।

গত মঙ্গলবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ‘বিশ্বের প্রথম করোনা ভ্যাকসিন’ নিবন্ধনের কথা জানিয়েছেন। তবে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সব ধাপ অতিক্রম করার আগেই কী করে একটি ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হলো, তা নিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশ্ন উঠেছে। স্পুটনিক ভি নামে ভ্যাকসিনটির নিবন্ধন সম্পন্ন করেছে রুশ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাদের দাবি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল অনুযায়ী টিকাটি কার্যকর ও নিরাপদ, ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের শরীরে পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডির উপস্থিতি পাওয়া গেছে, ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের কারও গুরুতর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি, ভ্যাকসিন গ্রহণের দুই বছর পর্যন্ত ইমিউনিটি কার্যকর থাকবে।

পুতিনের ওই ঘোষণার পর যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ বিষয়কমন্ত্রী অ্যালেক্স আজার তাইওয়ানের রাজধানী তাইপেতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, করোনাভাইরাসের টিকার জন্য রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কোনো প্রতিযোগিতা করছে না। তিনি বলেন, করোনার ছয়টি টিকার জন্য তহবিল দিয়েছে হোয়াইট হাউজ। এর মধ্যে দুটি কয়েক সপ্তাহ আগেই তৃতীয় ধাপের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে প্রবেশ করেছে। অন্যদিকে মস্কোর দাবিকৃত টিকা এখনো এ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক ধাপে রয়েছে। এমনকি রাশিয়ায় প্রাথমিক ট্রায়ালের তথ্যও তারা প্রকাশ করেনি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গতকাল এক বিবৃতিতে জানায় যে, তারা টিকা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের মধ্যে রয়েছে। তবে টিকা নিয়ে নিজেদের মডেলের বাইরের কিছুকে তারা অনুমোদন দেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ডব্লিউএইচও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এমন বিবৃতির পর স্পষ্টতই বোঝা যায়, রাশিয়ার টিকা ব্যবহার প্রশ্নে আক্রান্ত দেশগুলো একদিকে যেমন দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়বে, অন্যদিকে জোট ধরে রাখার বিষয়টিও সামনে আসবে। ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতার্তে অবশ্য কোনো সংস্থার তোয়াক্কা না করেই রাশিয়ার কাছে করোনার টিকা চেয়েছেন বিনামূল্যে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

রাশিয়ার টিকা নিয়ে সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটি দাঁড়িয়েছে তা হলো ‘বিশ্বাস’। রাশিয়ার টিকাকে বিশ্বাস করা যায় কি না এ নিয়ে চলছে জটিলতা। বিশ্লেষকদের মতে, এ জটিলতা যতটা টিকার কার্যকারিতা নিয়ে, তার চেয়েও বেশি রাশিয়ার রাজনৈতিক চরিত্রকে কেন্দ্র করে। ইউরোপ থেকে শুরু করে পুরো পশ্চিমা বিশ্ব এখনো রাশিয়াকে সাবেক সোভিয়েত আমলের ভূত হিসেবে দেখে। ফলে রাশিয়া প্রশ্নে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কমবেশি সব দেশই যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। আর এখানেই চলছে শীতল যুদ্ধ।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এই ইস্যুকে তার আগামী নির্বাচনে জেতার হাতিয়ার করতে পিছপা হবেন না। কারণ দেশের রাজনীতিতে তার অবস্থান সুবিধাজনক নয়। এমন অবস্থা আগামী নির্বাচনে জিততে তার বড় কোনো ঘটনার আশ্রয় নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে করোনার টিকা হতে পারে ট্রাম্পকার্ড।