৭০% বিদেশফেরত জীবিকা সংকটে|238330|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ আগস্ট, ২০২০ ০০:০০
আইওএমের প্রতিবেদন
৭০% বিদেশফেরত জীবিকা সংকটে
নিজস্ব প্রতিবেদক

৭০% বিদেশফেরত জীবিকা সংকটে

করোনা পরিস্থিতিতে কাজ হারিয়ে দেশে ফিরে এসেছেন অনেক বিদেশফেরত। কর্মস্থল থেকে ফিরতে বলায় বাধ্য হয়ে দেশে ফিরেছেন ২৯ শতাংশ। এখন কোনো কাজ পাচ্ছেন না তারা। জীবিকার সংকটে আছেন দেশে ফেরা ৭০ শতাংশ প্রবাসীকর্মী।

দেশের ১২ জেলায় বিদেশফেরত অভিবাসীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় এমন তথ্য পেয়েছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। গতকাল বুধবার বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

‘র‌্যাপিড অ্যাসেসমেন্ট অব নিডস অ্যান্ড ভালনারেবিলিটিস অব ইন্টারনাল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল রিটার্ন মাইগ্র্যান্টস ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ২৩ শতাংশ কভিড-১৯ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলেন এবং পরিবারের কাছে ফিরতে চেয়েছেন। পরিবারের অনুমতি নিয়ে ফিরে এসেছেন ২৬ শতাংশ। আর সীমান্ত বন্ধ করে দিলে আটকে পড়ার ভয়ে ফিরেছেন ৯ শতাংশ।

আইওএম বলছে, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ১ হাজার ৪৮৬ বিদেশফেরত অভিবাসীর ওপর জরিপটি চালানো হয়। গত মে ও জুলাইয়ে দেশের ১২টি উচ্চ অভিবাসনপ্রবণ জেলায় এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে সাতটি জেলার সীমান্ত রয়েছে ভারতের সঙ্গে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেরত আসা অভিবাসীরা জীবিকা, আর্থিক সংকট (উপার্জনের অভাব এবং বর্ধিত ঋণ), স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিষয়সহ পুনরেকত্রীকরণে নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। একেকজন অভিবাসীকর্মী গড়ে তার পরিবারের তিনজন সদস্যকে সহায়তা দিয়ে থাকেন। সে ক্ষেত্রে অপরিকল্পিত ও বৃহৎসংখ্যক জীবিকাহীন অভিবাসীকর্মী ফেরত আসায় সারা দেশে রেমিট্যান্সনির্ভর জনগোষ্ঠীর ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ছে। জরিপ বলছে, করোনার প্রভাবে অভিবাসীকর্মীদের সুনির্দিষ্টভাবে বিপদাপন্নতা তৈরি হয়েছে। উপার্জন ব্যবস্থা, সামাজিক সেবা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক সহায়তার নেটওয়ার্কের অভাবে হাজারো অভিবাসীকর্মী বিদেশে যে দেশে কাজ করছিলেন, সেখান থেকে বাংলাদেশে তাদের জেলায় ফিরতে বাধ্য হন। কর্মস্থলে তথ্য ও স্বাস্থ্যসেবা পেতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন ৬৪ শতাংশ প্রবাসী।

জরিপে ৫৫ শতাংশ জানান, তাদের ওপর ঋণের বোঝা রয়েছে। তাদের মধ্যে ৫৫ শতাংশ পরিবার ও বন্ধুর কাছে ঋণী, ৪৪ শতাংশ ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান (এমএফআই), স্বনির্ভর দল এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ঋণগ্রস্ত। এমএফআই, এনজিও এবং বেসরকারি ব্যাংক থেকে গৃহীত ৬৫ শতাংশকে ঋণের জন্য সুদ বহন করতে হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। মহাজন বা সুদে টাকা ধার দেন, এমন ব্যক্তিদের কাছ থেকে নেওয়া ঋণের ক্ষেত্রে ৬২ শতাংশ ঋণগ্রহীতাকে সুদ গুনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ১৫০ শতাংশ।

আইওএম বাংলাদেশের মিশনপ্রধান গিওরগি গিগাওরি বলেন, ‘কভিড-১৯ মহামারীর সময় সবচেয়ে বিপদাপন্ন গোষ্ঠীদের মধ্যে রয়েছেন অভিবাসীকর্মীরা। তাদের ফের সংহত করার জন্য আমাদের একসঙ্গে কাজ করা উচিত।’

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে প্রায় ৭৫ শতাংশ জানান, তারা আবার অভিবাসনে আগ্রহী। তাদের মধ্যে ৯৭ শতাংশই কভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবের আগে যে দেশে কাজ করতেন, সে দেশেই ফের অভিবাসনে ইচ্ছুক। অন্যদিকে ৬০ শতাংশ অংশগ্রহণকারী আরও ভালো বেতনের চাকরি নিশ্চিতে নিজেদের দক্ষতা বাড়াতে আগ্রহী।