তিন দিনব্যাপী সেলিম আল দীন জন্মোৎসব মঙ্গলবার শুরু|239323|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৭ আগস্ট, ২০২০ ২০:৫৫
তিন দিনব্যাপী সেলিম আল দীন জন্মোৎসব মঙ্গলবার শুরু
নিজস্ব প্রতিবেদক

তিন দিনব্যাপী সেলিম আল দীন জন্মোৎসব মঙ্গলবার শুরু

নাট্যকার ও অধ্যাপক সেলিম আল দীনের ৭১তম জন্মদিন ১৮ আগস্ট। ১৯৪৯ সালের এই দিনে ফেনী জেলার সোনাগাজি থানার সেনেরখিল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রতি বছরের মতো এবারও জন্মোৎসব উদ্‌যাপন করতে যাচ্ছে তার হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটার। ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে তিন দিনব্যাপী জন্মোৎসব শুরু হবে মঙ্গলবার।

এদিন রাত ৯টায় উদ্বোধনী পর্বে থাকবে নছিমনে পালা, গম্ভীরা, লালনগীতি, তথ্যচিত্র। পরদিন ১৯ আগস্ট একই সময়ে থাকবে নাটক, আলোচনা, লোকপালা, সংগীত ও তথ্যচিত্র। জন্মোৎসবের সমাপনী দিন থাকবে সেমিনার, নাটক ও তথ্যচিত্র প্রদর্শন।

অন্যদিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ দিনটি উদ্‌যাপন করবে ফেসবুক লাইভের মাধ্যমে। এর আগে সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসে সেলিম আল দীনের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে। সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে আয়োজন, যা সম্প্রচার করা হবে বিভাগের ফেসবুক পেইজে।

মফিজউদ্দিন আহমেদ ও ফিরোজা খাতুন দম্পতির তৃতীয় সন্তান সেলিম আল দীন। ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি তিনি ঢাকায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। জাবি ক্যাম্পাসে তাকে সমাহিত করা হয়।

তিনি ১৯৬৪ সালে এসএসসি, ১৯৬৬ সালে এইচএসসি এবং টাঙ্গাইল সাদত কলেজ থেকে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৯৫ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যে নাটক’ অভিসন্দর্ভের জন্য পিএইচডি লাভ করেন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি নাটক ও সংস্কৃতিকর্মে জড়িয়ে পড়েন।

সেলিম আল দীন একাধারে নাট্যজন, নাট্য বিষয়ে গবেষক, নাটক রচয়িতা, নির্দেশক ও চলচ্চিত্র সংলাপ লেখক এবং গীতিকার। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ঢাকা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত হন। পরে গ্রাম থিয়েটারসহ নাটক ও চলচিত্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি বিজ্ঞাপন সংস্থা বিটপিতে চাকরি করেন। ১৯৭৪ সালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। সেই থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘকাল শিক্ষকতা করেন অধ্যাপক সেলিম আল দীন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘নাটক ও নাট্যতত্ত্ব ’ বিভাগের তিনি প্রতিষ্ঠাতা।

তার প্রথম নাটক ‘বিপরীত তমসা’ ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান রেডিওতে প্রচারিত হয়। টিভিতে প্রথম নাটক ‘ঘুম নেই’ ১৯৭০ সালে এবং প্রথম মঞ্চনাটক ১৯৭২ সালে ‘সর্প বিষয়ক গল্প’ মঞ্চস্থ হয়। দেশ স্বাধীনের পর থেকে বাংলা নাটকে শিকড় সন্ধানী এবং নাটকের ভাষায় লোকজধারার নাটক লেখা ও মঞ্চায়নে নিজের স্বাতন্ত্রবোধকে উপস্থাপন করতে থাকেন।

তার লেখা নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে, জন্ডিস ও বিবিধ বেলুন,মূল সমস্যা, প্রাচ্য, কীত্তনখোলা, বাসন, আততায়ী, সয়ফুল মূলক বদিউজ্জামান, কেরামত মঙ্গল, হাত হদাই, যৈবতী কন্যার মন, মুনতাসীর ফ্যান্টাসি ও চাকা। চিত্রনাট্য রচনা ও সম্পাদনা করেছেন চাকা, কীত্তনখোলা, কালু মাঝি ও একাত্তরের যিশু চলচ্চিত্রের।

তার প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে বাংলা নাটক, সেলিম আল দীনের রচনা সমগ্র। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় নাটক ও সংস্কৃতি বিষয়ে লিখেন। নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, একুশের পদক, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন।