৫২ বছরের বাদশার ধর্ষণের শিকার ৬ বছরের শিশু|245887|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০
৫২ বছরের বাদশার ধর্ষণের শিকার ৬ বছরের শিশু
নিজস্ব প্রতিবেদক

৫২ বছরের বাদশার ধর্ষণের শিকার ৬ বছরের শিশু

আতঙ্কে কখনো খাটের নিচে চলে যায়, আবার কখনো বালিশের নিচে মাথা গুঁজে থাকে। বাবা ও মায়ের সঙ্গেও ঠিকমতো কথা বলে না। শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। ৬ বছর বযসী প্রথম শ্রেণির শিশু শিক্ষার্থীর বর্তমান মানসিক অবস্থা এভাবেই বর্ণনা করলেন বাবা শাহেদ আহমেদ। গতকাল মঙ্গলবার দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, তার দুই মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বয়স ৬ বছর। লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। এরইমধ্যে গত ৩ আগস্ট মেয়েটি তার জ্যাঠার বাড়ি যাওয়ার পথে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী বাদশা মিয়ার (৫২) নিপীড়নের শিকার হয়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, গত প্রায় দেড় মাস ধরে মেয়েটিকে চিকিৎসা করাচ্ছি তারপরও ভালো হচ্ছে না। ঠিকমতো হাঁটতে পারছে না। চিকিৎসকরা ক্ষতস্থানে চারটি সেলাই দিয়েছে।  এরপর ইনফেকশন হয়েছে। নানা ধরনের পথ্য দিয়েছে, তারপরও স্বাভাবিক হচ্ছে না। আতঙ্কে কখনো খাটের নিচে চলে যায়। আবার কখনো বালিশের নিচে মাথা গুঁজে জড়োসড়ো হয়ে থাকে। যে মেয়েটি আমার দুরন্তপনায় সারা বাড়ি ছোটাছুটি করত, সে এখন একেবারেই চুপচাপ হয়ে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করেই ক্ষান্ত হয়নি নিপীড়ক। এবার শিশুটিকে হত্যার হুমকি দিয়ে হামলার চেষ্টাও করেছে। এ ঘটনায় ৩ আগস্ট লক্ষ্মীপুর সদর থানায় মামলা হয়। পরে হামলা চেষ্টা ও হুমকির ঘটনায় ১২ সেপ্টেম্বর সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন মেয়েটির বাবা।

এ প্রসঙ্গ জানতে চাইলে লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি আজিজুর রহমান গতকাল সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি কারাগারে আছে। শিশুটির পরিবারের প্রতি আমাদের নজর রয়েছে।

শিশুটিকে হত্যার হুমকি ও হামলা চেষ্টা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আজিজুর রহমান বলেন, কে বলল আপনাকে? আমরা তো এ ধরনের কথা শুনিনি। আমাদের কাছে তো বলেনি। তাহলে জিডি হয়েছে কেন জানতে চাইলে বলেন, মামলার পর জিডি করেছে। তারা নিরাপত্তাহীন মনে করেছে তাই জিডি করেছে। বিষয়টি তদন্ত করছেন এসআই মোতাহের হোসেন।

শিশুটির স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, গত ৩ আগস্ট লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জ গ্রামের দরিদ্র পরিবারের ৬ বছর বয়সী এক শিশু  যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী তার জ্যাঠার বাড়ি যাওয়ার পথে মাছ ব্যবসায়ী বাদশা মিয়া জোর করে ঘরে নিয়ে যৌন নিপীড়ন করে। ওই সময় বাদশা মিয়া একাই ছিল। বাড়ির অন্য সদস্যদের সবাই সাগরপাড়ে ঘুরতে বেড়িয়েছিল। পরে শিশুর চিৎকারে আশপাশের লোকজন জড়ো হলে পালিয়ে যায় ৫২ বছর বয়সী ধর্ষক বাদশা। পেশায় মাছ ব্যবসায়ী বাদশা বর্তমানে কারাগারে থাকলেও শিশুটিকে হত্যার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বাদশার স্ত্রী, মেয়ে ও দুই ছেলে কামাল ও আল আমিন। এছাড়া এই পরিবারের আরও অনেকেই মেয়েটির বাবাকে সমঝোতা করার প্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শিশুটি ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর মেয়ের বাবা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা নেয়নি। পরবর্তী সময়ে এলাকাবাসী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীর  ফোন পেয়ে রাতে মামলা নিতে বাধ্য হয়। পরের দিন স্থানীয়রা ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত করতে মানববন্ধনের আয়োজন করলে সেটিও করতে দেয়নি পুলিশ। তারা আরও জানান, ধর্ষক বাদশা পেশায় মাছ ব্যবসায়ী। তাদের অনেক বড় গোষ্ঠী। নিপীড়নের শিকার মেয়েটির পরিবার যেখানে খুবই দরিদ্র, সেখানে ধর্ষকের পরিবার ধনাঢ্য ও  প্রভাবশালী। এসব কারণে পুলিশের প্রাথমিক ভূমিকা ছিল রহস্যময়। যদিও পরবর্তী সময়ে স্থানীয়রা ওইদিন রাতেই পালিয়ে যাওয়া ধর্ষককে খুঁজে বের করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

মেয়েটির বাবা শাহেদ আহমেদ মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি কৃষিজমিতে ট্রাক্টর চালাই। মাঝে-মধ্যে ছোটভাইয়ের কম্পিউটারের দোকানে বসে থাকি। আমার মেয়ের ওপর এই অত্যাচারের ঘটনায় ইতিমধ্যে চিকিৎসাবাবদ প্রায় নিজেরই ৬০-৭০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় লোকজন, লক্ষ্মীপুর ফ্রেন্ডস ক্লাব, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আমাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তাদের মাধ্যমেও আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছি। তবে মেয়ে আমার সুস্থ হয়নি। আমি এই ঘটনার বিচার চাই। তিনি বলেন, এ ঘটনার পর বাদশার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে রাতের বেলায় আমার ঘরের চারপাশে হাঁটাচলা করে আর বলতে থাকে, এই মেয়েটিই তো সাক্ষী। এখন ওকেই মেরে ফেলতে হবে। মেয়েটির মা স্বপ্না আক্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি নিজের কানে শুনেছি তাদের এই হুমকির কথা। এরপর ঘরের বাইরে গিয়ে দেখেছি বাদশার পরিবারের লোকজনকে। হুমকি ও হামলাচেষ্টার  বিষয়ে মোবাইল ফোনে কল করে জানতে চাইলে ধর্ষক বাদশার ছেলেদের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।