যৌতুকে হার মীমের|245888|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০
যৌতুকে হার মীমের
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

যৌতুকে হার মীমের

দুই সপ্তাহ ধরে বেঁচে থাকার সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে মৃত্যুর কাছে হার মেনেছেন কুষ্টিয়ার মিরপুরের গৃহবধূ তাসমীম আক্তার মীম। গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনে মীম গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বলে জানিয়েছেন তার বাবা মিরপুরের কামিরহাট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. মহিবুল আলম।

তিনি আরও জানান,তার একমাত্র মেয়ে তাসমীম আক্তার মীমের নিজের পছন্দেই চার বছর আগে কলেজে পড়ার সময় বিয়ে হয়েছিল কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তাড়াগুনিয়া গ্রামের প্রয়াত জিন্না মোল্লার ছেলে এজাজ আহমেদ বাপ্পীর সঙ্গে। যৌতুকের দাবিতে গত ১ সেপ্টেম্বর শ্বশুরবাড়িতে নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে মীম। সেখান থেকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে ২ সেপ্টেম্বর সকালে ভর্তির পর থেকে ঢামেকের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন মীম।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে মীমের বাবাসহ তার পরিবারের অন্য সদস্যরা অভিযোগ করে বলেন, নিজেরা পছন্দ করে বিয়ে করার কারণে বিয়ের পর থেকেই মীমের শাশুড়ি কোহিনূর বেগম ছেলের স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করতে শুরু করেন। এছাড়া তিনি বাবার বাড়ি থেকে যৌতুক হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা এনে দেওয়ার জন্য মীমকে চাপ দিতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে স্বামী বাপ্পী এবং শাশুড়ি কোহিনূর বেগম মিলে মীমের ওপর নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে অচেতন হয়ে পড়েন মীম। তখন মা-ছেলে মিলে তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝোলানোর চেষ্টা করেন। এ সময় চেতনা ফিরে এলে পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বাঁচার আকুতিতে সাহায্য চেয়ে চিৎকার করে ওঠেন মীম। প্রতিবেশীরা এসে তাকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখেন। লোকজন জড়ো হওয়ায় পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বাপ্পী ও তার মা পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশীরা মীমকে উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে ঘটনার পর মীমের বাবা মহিবুল আলম স্থানীয় পুলিশের কাছে গিয়ে সাহায্য চাইলেও তা পাননি বলে অভিযোগ করেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘটনার পরপরই দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ নিয়ে গেলে উল্টো পুলিশ আমাকে বলে, আপনার মেয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে। এসবের কোনো মামলা হয় না। এখানে পুলিশের কিছু করার নেই।’

অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে দৌলতপুর থানার ওসি জহুরুল আলম গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তাসনীম মীম নামে ওই গৃহবধূর ঘটনাটি ঘটেছিল গত ১ সেপ্টেম্বর। আমি মাত্র দুদিন হলো এখানে (থানায়) যোগদান করেছি। ওই সময় নিহতের বাবার দেওয়া অভিযোগের বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। পুলিশ অভিযোগ পেয়েও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি, এমন অভিযোগের সত্যতা পেলে সে বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নিহতের বাবাকে এজাহার দিতে বলেছি, দাফন সম্পন্ন করে এজাহার নিয়ে আসার কথা। পেলে মামলা রুজুসহ ন্যায়বিচারের জন্য আইনগত যা কিছু করার আছে সবই করবে পুলিশ।’