বৃদ্ধের বাড়ি দখলচেষ্টা আ.লীগ নেতার!|245894|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০
বৃদ্ধের বাড়ি দখলচেষ্টা আ.লীগ নেতার!
কামরাঙ্গীরচর
আলাউদ্দিন আরিফ

বৃদ্ধের বাড়ি দখলচেষ্টা আ.লীগ নেতার!

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী হাজি আবদুল করিম বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সিনিয়র টেকনেশিয়ান ছিলেন। স্থানীয় ৫৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামাল দেওয়ান আবদুল করিমের বাড়িটি দখলের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। আর এ নিয়ে গত মাসে দুপক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে উভয়পক্ষের কমপক্ষে সাতজন আহত হয়েছেন।

ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা জামাল দেওয়ান এবং তার সহযোগী এমারত, কামাল, জয়নাল, লিটন, মকবুল ও রাব্বিসহ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। গত ১৭ আগস্ট কামরাঙ্গীরচরের পশ্চিম রসুলপুরে ওই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আবদুল করিমের ছেলে ইসলামপুরের ব্যবসায়ী রহমতুল্লাহ অভিযোগ করে বলেন, তার বাবার বয়স ৯৩ বছর। তিনি অবসরে যাওয়ার পর ১৯৮৮ সালের ৯ জুন কামরাঙ্গীরচর থানার পূর্ব রসুলপুর এলাকায় স্ত্রী ভানু বিবির নামে জনৈক আবদুর রাজ্জাকের কাছ থেকে তিন কাঠা ও রফিক মিয়ার কাছ থেকে এক কাঠা জমি কেনেন। তাদের দূরসম্পর্কের আত্মীয় হাজি বাবু ওই জমি দেখাশোনা করতেন। সিটি জরিপের সময় পারিবারিক সমস্যার কারণে যোগাযোগ করতে না পারায় জমিটি আবদুল করিমের নামে রেকর্ড হয়নি। পরে রেকর্ড সংশোধনের জন্য সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে মামলা করা হলে তারা রেকর্ড সংশোধনের রায় পান। এরপর ওই জমির ওপর গড়ে তোলা বাড়ির কেয়ারটেকার বাবু ২০১৪ সালে অসুস্থ অবস্থায় বেশ কিছুদিন দেশের বাইরে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

এ সুযোগে তাদের বাড়ির রাজমিস্ত্রি মনিরের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ নেতা জামাল দেওয়ান জমিটি দখলের উদ্দেশ্যে জাল কাগজপত্র তৈরি করেন উল্লেখ করে রহমতুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের অনুপস্থিতিতে জমিটি দখল করে নেওয়া হয়। বিষয়টি আমার বাবা স্থানীয় এমপির কাছে জানিয়ে বিচার চাইলে তিনি বিষয়টি মীমাংসার জন্য ৫৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেনকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু তার মধ্যেই জামাল বাড়িটি বিক্রির চেষ্টা করেন। স্থানীয় লোকজন তাতে বাধা দিলে জামাল দেওয়ানের লোকজন হামলা চালায়।’

রহমতুল্লাহ আরও বলেন, ‘কাউন্সিলর কাগজপত্র দেখে আমাদের কিছু সহযোগিতা করেন। বর্তমানে জমিটি আমাদের দখলে আছে। এখন জামাল দেওয়ান আমাদের নানাভাবে হয়রানি করছেন। এ বিষয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দিয়েছি ও থানায় মামলা করেছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জামাল দেওয়ান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি জমি দখল করিনি। আমি রেকর্ডীয় মালিকের কাছ থেকে ওই জমি ক্রয় করেছি, খাজনা দিয়ে খারিজ করাসহ সব করেছি। কিন্তু কয়েকজন আমার ক্রয় করা জমি তাদের বলে দাবি করছেন। তারা যদি কাগজপত্র দিয়ে তাদের জমি প্রমাণ করে দিতে পারেন, তাহলে আমি ওই জমির দাবি ছেড়ে দেব।’ স্থানীয় কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন ১০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে তা না পাওয়ায় তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন জামাল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা স্থানীয় এমপির কাছে বিচারপ্রার্থী হলে তিনি আমাকে দায়িত্ব দেন। আমি সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মানুষের মতামত নিয়ে দেখি, আবদুল করিমের দাবি সঠিক। তাই আমি জামাল দেওয়ানকে ওই জমি বিক্রি করতে দিইনি। তাই তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।’