যুক্তরাজ্যে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ|246687|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০
যুক্তরাজ্যে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ
রূপান্তর ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিশ্ব পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এর মধ্যেই ইউরোপসহ কিছু দেশে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাজ্যেও এখন করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ দেখছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে যে আমরা এটি (দ্বিতীয় ঢেউ) দেখব তা একরকম অনিবার্যই ছিল।’ প্রধানমন্ত্রী যতই দ্বিতীয় ঢেউ অনিবার্য বলুন না কেন, দেশটির জনগণের মধ্যে জনসনের এমন মন্তব্য নেতিবাচক মনে হয়েছে। কারণ প্রথম ঢেউয়ে স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা ও চিকিৎসাসেবার অপ্রতুলতা দেখেছে যুক্তরাজ্যের জনগণ।

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি মোকাবিলায় ‘কঠোর লকডাউন’ দিতে চান না জানালেও সামাজিক দূরত্বের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কঠোর হওয়া লাগতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন এই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। পরিস্থিতি সামলাতে যুক্তরাজ্য তিন স্তরে বিধিনিষেধ দেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। এর মাধ্যমে জাতীয়ভাবে লকডাউন না দিয়ে এক বাড়ির বাসিন্দাদের সঙ্গে অন্য বাড়ির বাসিন্দাদের দেখাসাক্ষাৎ বন্ধ এবং বার ও রেস্তোরাঁ খোলা রাখার সময় কমিয়ে আনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম স্তরে কেবল সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। এই স্তরে যেসব বিধিনিষেধ রাখার কথা ভাবা হচ্ছে তা এখনই ইংল্যান্ডের অধিকাংশ এলাকায় আছে। দ্বিতীয় স্তরে বিভিন্ন ভেন্যুতে কারফিউ এবং এক বাড়ির বাসিন্দাদের সঙ্গে অন্য বাড়ির বাসিন্দাদের দেখাসাক্ষাতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। ইংল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু কিছু এলাকায় স্থানীয়ভাবে এ ধরনের বিধিনিষেধ বলবৎ আছে।

সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকলে তৃতীয় স্তরে দেওয়া হবে লকডাউনসহ কঠোর সব বিধিনিষেধ। আলোচনা-পর্যালোচনার পর শেষ পর্যন্ত এ তিন স্তরবিশিষ্ট ব্যবস্থাপনা অনুমোদিত হলে অঞ্চলভেদে কর্র্তৃপক্ষ পৃথক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে ‘দ্বিতীয় ঢেউয়ের কারণে’ যুক্তরাজ্যের বেশিরভাগ অংশ দ্বিতীয় স্তরের বিধিনিষেধই দেখতে যাচ্ছে বলে অনুমান বিশ্লেষকদের।

শনাক্ত রোগী বাড়তে থাকায় ৯ লাখ বাসিন্দার লন্ডন শহরে ইংল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মতোই বিধিনিষেধ দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন শহরটির মেয়র সাদিক খান। শীতের সময় করোনাভাইরাস মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে এ শঙ্কায় কর্মকর্তারা বসন্তকাল পর্যন্ত বিধিনিষেধ দেওয়ার কথাও ভাবছেন। যুক্তরাজ্যে গত শুক্রবার নতুন ৪ হাজার ৩২২ জনের দেহে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। দেশটিতে ৮ মে’র পর এদিনই ৪ হাজারের বেশি নতুন কভিড-১৯ রোগীর দেখা মিলল।