কৃষিতে প্রণোদনার ঋণ বিতরণের সময় বাড়ল |246889|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০
কৃষিতে প্রণোদনার ঋণ বিতরণের সময় বাড়ল
নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষিতে প্রণোদনার ঋণ বিতরণের সময় বাড়ল

কৃষি খাতের জন্য সরকারঘোষিত ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজের ঋণ বিতরণের সময়সীমা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি বছর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ ঋণ বিতরণ করতে পারবে ব্যাংকগুলো। আগে এ সময়সীমা ছিল ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষিঋণ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করা হয়েছে।

বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো ওই সার্কুলারে বলা হয়, কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কিমটি সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে গ্রাহক পর্যায়ে ঋণ বিতরণের সময়সীমা ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে চলতি বছর ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলো। নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকগুলো প্রণোদনার কৃষিঋণ বিতরণে ব্যর্থ হওয়ায় নতুন করে সময় বাড়ানোর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

করোনাকালীন দেশে যাতে খাদ্য সংকট না হয় এবং চাষযোগ্য কোনো জমি যাতে অনাবাদি না পড়ে থাকে সেজন্য সরকার কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনাভাইরাসে ক্ষতি মেটাতে অন্যান্য খাতের পাশাপাশি কৃষি খাতের কৃষকের জন্য ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঋণ ঘোষণা করেন। পরবর্তীকালে ‘কৃষি খাতে বিশেষ প্রণোদনামূলক পুনঃঅর্থায়ন স্কিম’ নামে একটি বিশেষ তহবিল গঠন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ছয় মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ ১৮ মাস মেয়াদি এ ঋণের সর্বোচ্চ সুদহার হবে ৪ শতাংশ।

সরকারঘোষিত প্রণোদনার অংশ হিসেবে ৪৩ ব্যাংককে ৪ হাজার ৪০৩ কোটি টাকা ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলতি বছর সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ ঋণ বিতরণের সময় নির্ধারণ করা হলেও ব্যাংকগুলো তাতে ব্যর্থ হয়।

আগস্ট শেষে সরকারঘোষিত

কৃষিঋণের প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে বিতরণ করা হয়েছে মোট ১ হাজার ১১৪ কোটি ১৬ লাখ টাকা, যা ৪৩ ব্যাংকের মোট নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ২৫ শতাংশ। ঋণগুলো ৪৬ হাজার ৮১৫ কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। অনেক ব্যাংক এ সময়ে কৃষি খাতের জন্য প্রণোদনার কোনো ঋণই বিতরণ করেনি। প্রণোদনার কৃষিঋণ বিতরণে সবচেয়ে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ

কৃষি ব্যাংক। আগস্ট শেষে এ ব্যাংকটি প্রণোদনা থেকে ৬২০ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণ করেছে। এ সময়ে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক বিতরণ করেছে ১৩৮ কোটি টাকা। সরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে রূপালী ব্যাংক বিতরণ করেছে প্রায় ৩০ কোটি টাকা। বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৬ কোটি টাকা বিতরণ করেছে এক্সিম ব্যাংক।

এ স্কিমের আওতায় ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্ধারিত এক শতাংশ সুদহারে পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা পাবে। আর গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৪ শতাংশ। এ সুদহার চলমান গ্রাহক এবং নতুন গ্রাহক উভয় ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।