ফারইস্ট লাইফে বিশেষ নিরীক্ষা এসইসির|246893|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০
ফারইস্ট লাইফে বিশেষ নিরীক্ষা এসইসির
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফারইস্ট লাইফে বিশেষ নিরীক্ষা এসইসির

বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা কোম্পানির স্থায়ী আমানতের অর্থ তুলে পরিচালকের ব্যক্তিগত হিসাবে স্থানান্তরসহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের আর্থিক প্রতিবেদন বিশেষ নিরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি)। কোম্পানিটির গত তিনটি হিসাববছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশেষ নিরীক্ষা করা হবে। এজন্য নিরীক্ষক নিয়োগ দিয়েছে কমিশন।

এসইসি কোম্পানিটির ২০১৬, ’১৭ ও ’১৮ হিসাববছরের আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করার জন্য ওহাব অ্যান্ড কোং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টসকে নিয়োগ দিয়েছে। এজন্য প্রতিষ্ঠানটিকে ফি দেওয়া হবে ৪ লাখ ৯০ হাজার টাকা। আগামী দুই মাসের মধ্যে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষা করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, কোম্পানিটি বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা স্থায়ী আমানতের কিছু অংশ একজন প্রভাবশালী পরিচালকের নামে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই পরিচালক ওই ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় জামানত রাখা স্থায়ী আমানত থেকে ঋণের অর্থ কেটে রাখে ব্যাংক। ওই ঋণের অর্থও ওই পরিচালক পরিশোধ করেননি। কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০১৬ সালে বিভিন্ন ব্যাংকে কোম্পানির স্থায়ী আমানত ছিল ১ হাজার ৪৩১ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা ২০১৮ সালে ৪১৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকায় নেমে আসে।

এছাড়া আর্থিক সক্ষমতা কমে যাওয়ায় কোম্পানিটি গ্রাহকদের দাবিও যথাযথভাবে পূরণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে কোম্পানিটি গ্রাহক হারাচ্ছে। ফলে জীবন বীমা পলিসির পরিমাণও কমে গেছে। ফারইস্ট লাইফের বিনিয়োগের পরিমাণও কমে গেছে। ২০১৭ সালে কোম্পানিটির বিনিয়োগ ছিল ২ হাজার ৭৫০ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা ২০১৮ সালে ২ হাজার ৫১২ কোটি টাকায় নেমে আসে।

এ বিষয়ে এসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মোহাম্মদ রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক গরমিলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে এসইসিও প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা খুঁজে পেয়েছে। এক প্রভাবশালী পরিচালককে আর্থিক সুবিধা দিতে গিয়ে কোম্পানিটির স্থায়ী আমানত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে এ কোম্পানির কয়েক বছরের আর্থিক প্রতিবেদন বিশেষ নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে একটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগও দেওয়া হয়েছে।

ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ২০০৫ সালে দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হয়েছে। ফারইস্ট ইসলামী সিকিউরিটিজ লিমিটেড এবং ফারইস্ট ইসলামী প্রপার্টি লিমিটেড নামে কোম্পানিটির দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধে বিলম্বের কারণে কোম্পানির জীবন বীমা তহবিলে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। নতুন গ্রাহক কমছে। কমছে তহবিলের পরিমাণও। ২০১৯ সালের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের জীবন বীমা তহবিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২৬৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৩৬৮ কোটি ৯১ লাখ টাকা।