সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শীতে|247157|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০
সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শীতে
প্রতীক ইজাজ

সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ শীতে

বাংলাদেশে শীতকালে, অর্থাৎ অক্টোবরের শেষ ও নভেম্বরের প্রথম দিকে করোনার দ্বিতীয় দফা সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের মানুষের মধ্যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে ‘শৈথিল্যের’ কারণেই এ আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সবচেয়ে বেশি। তবে শীতকালে যেহেতু মানুষের শ্বাসযন্ত্রের কোষগুলো দুর্বল হয়ে যায় এবং যেকোনো ভাইরাস প্রতিরোধে এসব কোষের কার্যক্ষমতা কমে আসে, তাই এ ঋতুতে করোনার সংক্রমণের আশঙ্কাও করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত রবিবার এক বক্তব্যে শীতকালে করোনা সংক্রমণের হার বাড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। পরে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে দেশে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অনুশাসন দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকের পর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সীমিত প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আগামী অক্টোবর-নভেম্বরে  করোনার সেকেন্ড ওয়েভ আসবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইদানীং দেশের বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লিদের মাস্ক ছাড়া নামাজ পড়তে দেখা যায়। তাই প্রধানমন্ত্রী ধর্ম মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন, মাস্ক পরার জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। জোহর ও মাগরিব এ দুই ওয়াক্তের সময় যেন সব মুসল্লি মাস্ক পরে নামাজে আসেন তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যান্য সময়ও মসজিদে নামাজ পড়ার সময় মাস্ক পরায় উৎসাহিত করতে হবে। এ মুসল্লিরাই যেন বাইরের মানুষকে সচেতন করেন সেভাবে উৎসাহিত করতে হবে।’

পরে রবিবার রাতেই এ ব্যাপারে জরুরি বৈঠক করে করোনা মোকাবিলায় গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। বৈঠকে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ ঠেকাতে রোডম্যাপ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কমিটি থেকে বলা হয়, প্রতিবেশী ভারত বিভিন্ন দেশে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ দেখা যাচ্ছে। বৈদেশিক যোগাযোগ উন্মুক্ত হয়েছে এবং হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে জনসাধারণের মধ্যে এক ধরনের শৈথিল্য দেখা যাচ্ছে। এসব কারণে বাংলাদেশেও পুনরায় সংক্রমণের আশঙ্কা রয়েছে।

দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ প্রতিরোধের পাশাপাশি, সংক্রমণ হলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পরামর্শক কমিটি। এছাড়া দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ দ্রুত নির্ণয় করার জন্যও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

কমিটি বলে, যেহেতু জীবিকার স্বার্থে লকডাউন সম্ভব নয়, তাই একটি কার্যকর টিকা না পাওয়া পর্যন্ত নিরাপদ থাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করা, সাবান দিয়ে বারবার হাত ধোয়া এবং সামাজিক দূরত্ব মেনে চলাই কভিড-১৯ প্রতিরোধের একমাত্র উপায়।

দ্বিতীয় দফার সংক্রমণ দ্রুত নির্ণয়ের জন্য আরও বেশি করে টেস্ট করা প্রয়োজন বলে মনে করছে পরামর্শক কমিটি। এছাড়া জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোয় এক্স-রে, রক্তের কিছু পরীক্ষার সম্প্রসারণ করা জরুরি বলে মত দিয়েছে। কমিটি বলেছে, কভিড-১৯-এর নমুনা পরীক্ষার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার পদক্ষেপ নিতে হবে। সংক্রমিত ব্যক্তিকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইসোলেট করতে হবে।

এ ব্যাপারে গতকাল বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার সংক্রমণের কারণ ও প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে কথা বলে দেশ রূপান্তর। এ সময় বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাংলাদেশে এখন করোনা সংক্রমণ কমতির দিকে। বর্তমানে পরীক্ষা অনুপাতে শনাক্তের হার গড়ে ১২-১৫ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। এ পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তির হলেও এই হার ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারলে দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে বলা যাবে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে একবার কমে গিয়ে আবার দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায়ও সংক্রমণ দেখা দেওয়ার উদাহরণ রয়েছে। সেখান থেকেই বাংলাদেশেও একবার কমার পর পুনরায় সংক্রমণ দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সেটা নির্ভর করবে রোগটি প্রতিরোধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তার ওপর।

এমন অবস্থায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নতুন করে কিছু উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাস্ক ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে কি না, বিশেষ করে ঠিকমতো মাস্ক পড়ছে কি না, সেটা নিশ্চিত করতে মাঠ পর্যায়ে অভিযান চালানোর কথাও চিন্তা করা হচ্ছে। এছাড়া অ্যান্টিজেন টেস্ট চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এসব ব্যাপারে করোনা কমিটির বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বসে রোডম্যাপ তৈরি করা হবে।

কেন দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের আশঙ্কা করা হচ্ছে জানতে চাইলে জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এখন সারা পৃথিবীতে একটা ধারণা করা হচ্ছে, শীতকালে করোনার সংক্রমণ বাড়ে, সেখান থেকেই কথাটা উঠেছে। যদি হয়, তাই শীতকালে সাবধান থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে। মার্চে প্রথম যখন সংক্রমণ দেখা দেয়, তখন মোকাবিলায় যে রকম লেজেগোবরে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল, সে রকম যেন না হয়, সেজন্যই এ সতর্কতা। কারণ এতদিন পর আমরা যদি আবার সেই ভুলগুলোই করি, তাহলে আমরা কী শিখলাম।

এ বিশেষজ্ঞ দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের দুটি কারণের কথা বলেছেন। একটি হলো স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে শৈথিল্য ও দ্বিতীয় কারণ শীতকাল। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, দেশে এখন করোনা পরিস্থিতি খানিকটা নিয়ন্ত্রণে। তবে আমাদের দেশের লোকদের মাস্ক পরতে হবে। মাস্ক ঠিকমতো পড়ছে না। লকডাউনের যে ‘মপ-আপ’, অর্থাৎ সংক্রমিত এলাকাগুলোকে ছোট ছোট এলাকা করে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া, সেটাও হচ্ছে না। এসব না করলে এমনি এমনি করোনা যাবে না।

দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ প্রসঙ্গে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, কভিড বাড়ার মূল কারণই হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চলা। সব জায়গা খুলে দেওয়া হয়েছে। মানুষের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা আগের মতো নেই। মানুষের মধ্যে যে ভয় ছিল, সেটাও চলে গেছে। আর শীতকালে সর্দি-কাশি হয়, এটা ঠিক ইনফ্লুয়েঞ্জা নয়। সাধারণত যাদের ফুসফুসে সমস্যা আছে, বয়স্ক ও বাচ্চারা সর্দিজনিত রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। যেহেতু এসব রোগের সঙ্গে করোনার উপসর্গের মিল রয়েছে তাই সতর্ক থাকতে হবে। তবে মূল কথা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে করোনা সংক্রমণ কমের দিকে থাকবে আর না মানলে বাড়বে।

শীতের তাপমাত্রার সঙ্গে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো সম্পর্ক আছে কি না এ প্রসঙ্গে এ বিশেষজ্ঞ বলেন, এরকম কিছু কি না, তা এখনো আমরা বলতে পারব না। কারণ কয়েক বছরের সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে আমরা এ ভাইরাসের চেইন বুঝতে পারব। এখন বোঝা যাবে না। কারণ গত ডিসেম্বর থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত আমরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তাপমাত্রা ও সংক্রমণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সব ঋতু ও তাপমাত্রায় রোগটি ছিল। তবে কবে নাগাদ দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণ বাড়তে পারে সেটা নির্ভর করবে আমরা কীভাবে রোগটি নিয়ন্ত্রণ করছি, তার ওপর।

দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের কারণ হিসেবে আইইডিসিআরের উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেকোনো দেশে যেকোনো জায়গায় হতে পারে। সংক্রমণ যেহেতু সারা দুনিয়া থেকে যাচ্ছে না, সংক্রমণ কমার পর আবার সংক্রমণ আসতে পারে। এটা দ্বিতীয় বা তৃতীয় দফায়ও হতে পারে। ঝুঁকি সবসময় থাকে। শ্রীলঙ্কায় ছয়টা ‘পিক’ হয়েছে। আমরা এখন একটু কমতির দিকে। ফলে বাড়তি হওয়ার প্রসঙ্গটা আসে। জুন-আগস্ট পর্যন্ত আমাদের এখানে সংক্রমণ বাড়তির দিকেই ছিল। কাজেই সংক্রমণটা কমে গিয়ে আবার হতে পারে, এজন্য দ্বিতীয় দফায় সংক্রমণের কথা বলা হয়। যাতে কেউ যেন মনে না করে যে আর হবে না, আমরা পার হয়ে গেছি।

এ বিশেষজ্ঞ বলেন, বাংলাদেশে এখন সংক্রমণ একটু কমের দিকে। সেপ্টেম্বর মাসে সংক্রমণ অনুপাতে শনাক্তের হারটা ১৫ শতাংশের নিচে আসে। পাঁচ শতাংশের নিচে নামলেই আমরা আপাতত নিশ্চিত হতে পারব যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে। তবে পুরো নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দফা সংক্রমণ ঠেকাতে কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সবাই মাস্ক পরবে। এক বছর ধরে মাস্ক পরানো যায়নি। সামাজিক দূরত্ব মানতে হবে। সবাইকে শৃঙ্খল হতে হবে। খুব বিশৃঙ্খলা এখনো। কেউ কারও কথা শোনে না। এভাবে সংক্রমণ কমানো খুব কঠিন। রোগী শনাক্ত ও আইসোলেট করতে হবে। পজিটিভ রোগীদের আইসোলেট ঠিকমতো করা হচ্ছে না। এসব ব্যাপারে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া চলবে না।

কী ধরনের প্রস্তুতি দরকার এ ব্যাপারে অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। অফিস-আদালত খুলে গেছে। এখন সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা খুব কঠিন হবে। তাই মাস্ক ব্যবহারে জোর দিতে হবে। পাশাপাশি সাবানপানি দিয়ে হাত ধুতে হবে ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে মাস্ক ঠিকমতো পরতে হবে। যখন ইচ্ছে মাস্ক নামিয়ে ফেলব, এটা করলে হবে না। এছাড়া বাইরে খাওয়া-দাওয়াটা পরিহার করতে হবে।

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, প্রথম দফায় যেসব ব্যবস্থা ছিল, সেই একই ব্যবস্থা নিতে হবে। অর্থাৎ রোগী শনাক্তকরণের জন্য সক্রিয় সার্ভিলেন্স করতে হবে। যেখানেই রোগী পাওয়া যাবে তাকে চিহ্নিত করে আইসোলেট করে চিকিৎসা দিতে হবে। তাদের ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইন করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। একটি হলো রোগী সংক্রান্ত ও আরেকটি হলো সব জনগণের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এ দুটো ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এ দুটোই করতে হবে জনগণকে সম্পৃক্ত করে। এখন শুধু হুকুম দিয়ে হবে না। মানুষের সমস্যা কী, সেটা সমাধান করতে হবে। তাদের সামাজিক ও চিকিৎসা সহযোগিতা দিতে হবে।

তবে শীতে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা বাড়ে কি না, সেট নিয়ে এখনো কিছু জানা যায়নি বলে মত দেন ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, কেউ বলেছে গরমে করোনা চলে যাবে, কেউ বলছে শীতে বাড়বে। তাহলে তো মরু অঞ্চলে করোনা হতো না। অথচ সৌদি আরবে প্রচুর লোক আক্রান্ত হয়েছে ও মারা গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অ্যারিজনা ও ইন্দোনেশিয়ায় খুবই গরম। সেখানে তো এখনো সংক্রমণ চলছে। দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডর, যেখানে বিষুবরেখা, আবহাওয়া খুবই সুন্দর। সেখানেও সংক্রমণে অনেক লোক মারা গেছে। কাজেই তাপমাত্রার সঙ্গে এ ভাইরাসের কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। ইউরোপজুড়েই আমরা দ্বিতীয়বার সংক্রমণ হতে দেখেছি। স্পেনে হয়েছে। নিউজিল্যান্ডে চলেই গিয়েছিল। সেখানে আবার দেখা দিয়েছে। এখনো লকডাউন চলছে। যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে।