ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে বড় উদ্যোগ|247296|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০
ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে বড় উদ্যোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইলিশ উৎপাদন বাড়াতে বড় উদ্যোগ

জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দেশে সারা বছরই ইলিশ পাওয়া যাবে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প পাস হয়। সব মিলিয়ে ১ হাজার ২৬৬ কোটি টাকায় পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

গতকালের একনেক সভায় সভাপতিত্ব করেন একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে গণভবন থেকে এবং অন্যান্য মন্ত্রী-সচিবরা রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত এনইসি সম্মেলন কক্ষ থেকে একনেক সভায় অংশ নেন। একনেক সভা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। প্রকল্পটি চলতি বছর থেকে ২০২৪ সালের জুন মেয়াদে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের আওতায় মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে মৎস্য সংরক্ষণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে। ৩০ হাজার জেলে পরিবারের জন্য সৃষ্টি করা হবে বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ। জেলেদের ১০ হাজার বৈধ জাল বিতরণ ও প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হবে। 

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রকল্পের আওতায় ইলিশের ছয়টি অভয়াশ্রমে সুরক্ষা দেওয়া হবে। মেঘনা, তেঁতুলিয়া, আন্ধারমানিক, নিম্ন পদ্মা নদীতে নির্দিষ্ট সময়ে মা ইলিশ আহরণ বন্ধ করা হবে। ইলিশ মাছ বাংলাদেশের প্রায় সব প্রধান নদ-নদী, মোহনা এবং উপকূলে ডিম ছাড়ে। তবে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে ইলিশের চারটি প্রজননক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলোতে পাহারা দেওয়া হবে। প্রকল্পের আওতায় ইলিশের ছয়টি অভয়াশ্রম পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করা হবে। ইলিশ অভয়াশ্রম সংলগ্ন ১৫৪টি ইউনিয়নের জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ১ হাজার ২৩২টি সভা, ৬০টি নানা ধরনের কর্মশালা, অভিযান পরিচালনার জন্য ১৯টি বোট কেনাসহ মা ইলিশ সংরক্ষণে ১৩ হাজার ৪০০টি মোবাইল কোর্ট ও জেলে পরিবারে বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য ১৮ হাজার জেলেকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘জামালপুর জেলার দিগপাইত-সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি সড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ’ প্রকল্প। এতে খরচ হবে ২৭৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ‘সীমান্ত এলাকায় বিজিবির ৭৩টি কম্পোজিট/আধুনিক বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) নির্মাণ’ প্রকল্প। এতে খরচ হবে ২৩৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘৮টি সরকারি শিশু পরিবারে ২৫ শয্যাবিশিষ্ট শান্তিনিবাস স্থাপন’ প্রকল্প। এতে খরচ হবে ৭৩ কোটি ৯৯ লাখ টাকা। ২০২০ সালের জুলাই থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।