পেঁয়াজের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি|247852|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৫:৫৯
পেঁয়াজের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি
নাজনীন আহমেদ

পেঁয়াজের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জরুরি

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদের জন্ম ১৯৭২ সালের ২১ জুলাই, ঢাকায়। তিনি ১৯৮৮ সালে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসিতে এবং ১৯৯০ সালে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভের পর তিনি ইংল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্সে উন্নয়ন অর্থনীতিতে মাস্টার্স করেন। তিনি নেদারল্যান্ডসের ওয়েগেনগিন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৯৮ সালে বিআইডিএসে যোগদান করেন। তিনি বিশ্বব্যাংক, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, অ্যাকশন এইডসহ নানা আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। কাজ করেছেন বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শক হিসেবে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের সিদ্ধান্তে স্থানীয় বাজারে এ পণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং পেঁয়াজের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিসহ পেঁয়াজ সংক্রান্ত নানা বিষয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন দেশ রূপান্তরের সম্পাদকীয় বিভাগের অনিন্দ্য আরিফ

দেশ রূপান্তর: সাম্প্রতিক কয়েক বছরে দেখা যাচ্ছে ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করলে বাংলাদেশের বাজারে এ পণ্যের মূল্য লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পায়। এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি কেন বারবার পরিলক্ষিত হচ্ছে?

নাজনীন আহমেদ: আমাদের দেশের পেঁয়াজের যে চাহিদা তা দেশীয় উৎপাদন দিয়ে পূরণ হয় না। দেশে প্রতি বছর ২৬ লাখ টনের মতো পেঁয়াজের চাহিদা রয়েছে। সরকারের তরফ থেকে বলা হয় যে দেশে প্রতি বছর ২৫ লাখ টনের মতো পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। কিন্তু পেঁয়াজের বৈশিষ্ট্য হলো উৎপাদনের সময় এর যে ওজন থাকে, পরবর্তী সময়ে সে ওজন আর থাকে না। এটা স্টোরেজ বা ঘরে যেখানেই থাকুক না কেন, শুকানোর ফলে এর ওজন কমে যায়। সুতরাং দেশীয় চাহিদার ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ আমাদের দেশীয় উৎপাদন থেকে মেটানো যায়, বাকিটা আমদানি করতে হয়। আর এ আমদানির ৭৫ থেকে ৮০ ভাগই হয় ভারত থেকে। তাই ভারতে কী পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে এবং তারা কী পরিমাণ রপ্তানি করবে, তার ওপর আমাদের বাজার নির্ভর করে। বিশেষ করে এ সময়টাতে নির্ভরতা বৃদ্ধি পায়। এর কারণ হলো, আমাদের দেশে পেঁয়াজ একটা নির্ধারিত সময়ে উৎপাদিত হয়। এটা উৎপাদিত হয় খুবই অল্প জায়গায় এবং স্বল্প বৈচিত্র্যের পেঁয়াজ এখানে উৎপাদিত হয়। মূলত এটার দেশীয় জোগান আসে জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যে যে পরিমাণ চাষ হয় সেখান থেকে। এরপর কিন্তু পেঁয়াজের চাষ আর হয় না। তাই আগস্ট-সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই দেশীয় পেঁয়াজের জোগান কমে যায় এবং তখন আমদানি করা পেঁয়াজের চাহিদা বৃদ্ধি পায়। তাই বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত ঘাঁটলে দেখা যায় যে, সেপ্টেম্বর মাস এলে এটার দাম বাড়তে থাকে। তাই এ সময়ে ভারতে কী পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে, তা বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে কি না, এগুলো আমাদের পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত।

জোগান এবং চাহিদার বাইরে আরেকটি বিষয় কাজ করে। আমাদের দেশের সব পরিবারেই কমবেশি পেঁয়াজের ভোক্তা রয়েছে। তাই সব পরিবারেই পেঁয়াজের ব্যবহার হয়। এখন যদি বাজারে এটার দাম বাড়ে তাহলে সব পরিবারই আরও দাম বাড়ার আশঙ্কা কাজ করে। একদিকে আমাদের দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ এ সময়ে কমে যাওয়া, ভারতে পেঁয়াজের ক্ষেত্রে কোনো সংকট এবং দাম বাড়ার আশঙ্কাÑ এ তিন বিষয় মিলে পেঁয়াজের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পায়। কেননা ইনফ্লেশনারি এক্সপেক্টেশনের সময় যাদের কাছে অধিক অর্থ আছে, তারা বেশি পেঁয়াজ কিনে থাকে। ঘরে ঘরে পেঁয়াজের একটা মজুদ তৈরি হয়ে যায়। এ ধরনের ঘটনা ঘটলে দামটা দ্রুত বাড়তে থাকে।

দেশ রূপান্তর: এ ক্ষেত্রে কি সিন্ডিকেটের ভূমিকা রয়েছে?

নাজনীন আহমেদ: অনেকে বলে থাকেন, সিন্ডিকেট করে দাম বৃদ্ধি করে থাকেন। কিন্তু পেঁয়াজের বাজারে সিন্ডিকেশন করার কোনো সুযোগ নেই। সিন্ডিকেশন কখন হয়? যখন কিছু বিক্রেতা মিলে সিদ্ধান্ত নেয় যে তারা দাম বাড়িয়ে দেবেন, তারা সবাই মিলে দাম বৃদ্ধি করবে। কিন্তু পেঁয়াজের বাজারে এ সুযোগ নেই। কেননা সারা দেশে লাখ লাখ পেঁয়াজ বিক্রেতা রয়েছেন। এদের কথা না ধরলেও, কমিশন এজেন্টই তো রয়েছে অনেক। এসব কমিশন এজেন্ট পারস্পরিক যোগাযোগ করে দাম বৃদ্ধি করবেন, এমন সুযোগ নেই। মূলত বাজার অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার ভেতরে চাহিদা ও জোগানের মধ্যে যখন অসামঞ্জস্য তৈরি হয়, তখনই পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেতে থাকে। তার সঙ্গে ইনফ্লেশনারি এক্সপেক্টেশন যুক্ত হয়।

দেশ রূপান্তর: পেঁয়াজের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির সংকট থেকে উত্তরণের উপায় কী?

নাজনীন আহমেদ: আমাদের পেঁয়াজের লোকাল সাপ্লাইয়ে ইমপোর্টের পরিমাণ কত? ২০১১ থেকে ’১৫ পর্যন্ত যেসব তথ্য-উপাত্ত পাওয়া গেছে, তার ওপর ভিত্তি করে দেখা যায় এটা শতকরা ৩০ ভাগের বেশি নয়। আর আমাদের দেশীয় পেঁয়াজের জোগান থাকে ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশের মতো। তবে ফেব্রুয়ারি-মার্চে উৎপাদিত পেঁয়াজ এ সময়টাতে এসে আর থাকছে না। তাই এখন ভারতের পেঁয়াজের বাজার আমাদের পর্যবেক্ষণ করতে হয়। আরেকটা বিষয় আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আমাদের দৈনন্দিন খরচের মধ্যে পেঁয়াজের কেনাকাটার জন্য খরচ কত? আমরা যত বেশি ধনী, ততবেশি পেঁয়াজের প্রোপোরশন কম। কেননা ধনী পরিবারে অনেক কিছু কেনাকাটা হয় এবং অনেক পদের খাবার থাকে। যদি পরিসংখ্যান ব্যুরোর হাউজহোল্ড ইনকাম অ্যান্ড এক্সপেন্ডিচারের দিকে তাকাই, তাহলে নিচের দিকে থাকা ১০ ভাগ মানুষ মাসে ১ দশমিক ৬ শতাংশ পেঁয়াজ কনজাম্পশন করে থাকে। আর ওপরের দিকে সবচেয়ে বেশি আয় করা ১০ ভাগ মানুষের মাসে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ পেঁয়াজ লাগে। অর্থাৎ পেঁয়াজের কেজি ৫০ টাকা হলে এদের মাসে ২৫০ টাকার পেঁয়াজ লাগে। আর গরিব পরিবারের খরচ হচ্ছে মাসে একশ টাকা। এখন পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেয়ে যদি মাসে আরও বাড়তি ৫০ টাকা যুক্ত হয়, তাহলে অতিদরিদ্র বা দরিদ্র পরিবারের জন্য সেটা চাপ হয়ে যায়। কিন্তু ধনী পরিবারগুলোর জন্য তেমন একটা চাপ হয় না। অথচ ধনী পরিবারগুলোই সমস্যা তৈরি করে। যাদের মাসিক আয় ২০ হাজারের বেশি, তারা একটা ইনফ্লেশনারি এক্সপেক্টেশন থেকে বেশি পেঁয়াজ কিনতে থাকে। আর তখন দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। এ ক্ষেত্রে সচেতনতা প্রয়োজন।

আগস্ট মাস এলেই আমাদের পেঁয়াজ ব্যবসায়ীদের কাছে খোঁজ নিতে হবে কী পরিমাণ পেঁয়াজ আছে এবং ভারতে কী পরিমাণ উৎপাদন হয়েছে- সেগুলোর খোঁজ নিতে হবে। এই যে এখন শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপের ব্যাপারে আগেই চিন্তা করা উচিত ছিল। গত বছর আমরা দেখেছিলাম ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে দিল আর আমাদের এখানে পেঁয়াজের দাম ৩০০-৩৫০ টাকা হয়ে গিয়েছিল। তাই আগস্ট এলেই আমাদের ভারতের বাজার পর্যবেক্ষণ করার বিকল্প নেই। কেননা ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন কমে গেলে তারা নিজের দেশের লোকদের না খাইয়ে তো রপ্তানি করবে না। তাই আমাদের বাজার উত্তপ্ত হওয়ার আগেই ভারতের বাজারের ওপর তীক্ষè পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এছাড়া আমরা যদি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে ফেলতে পারি, তাহলে ভারতের পেঁয়াজ আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা অনেক কমিয়ে আনা যাবে।

দেশ রূপান্তর: আমরা কীভাবে ভারতের পেঁয়াজের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে পারি?

নাজনীন আহমেদ: পেঁয়াজ উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত আমাদের ছোট ছোট কৃষকরা আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা সম্পর্কে তেমন একটা জ্ঞাত নন। তাই এ ক্ষেত্রে তাদের উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। পেঁয়াজের বাজারে দেখা যায় যে অনেক সময় কৃষকরা উপযুক্ত দাম পান না আর অনেক সময় দাম বেড়ে যাওয়ায় ভোক্তার দুর্ভোগে পড়ে। তাই যদি সরকার চালের মতো পেঁয়াজের একটা মিনিমাম প্রাইস ডিক্লিয়ার করে, তাহলে বাজারে সিগন্যালটা থাকে। যেহেতু পেঁয়াজের মতো পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলে মানুষের মধ্যে হিউ অ্যান্ড ক্রাই তৈরি হয়, তাই এসব পণ্যের একটা মিনিমাম প্রাইস থাকা দরকার। পাশাপাশি আমাদের পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়ের মধ্যে যেসব সমতল ভূমি আছে, সেগুলোতে উচ্চফলনশীল জাতের পেঁয়াজ চাষ করা যায়। হাওর এলাকায় শুকনো মৌসুমেও উচ্চফলনশীল জাতের পেঁয়াজ চাষের চেষ্টা করা যেতে পারে। আমাদের পেঁয়াজের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। তাই চালের মতো পেঁয়াজের উৎপাদনে মনোযোগ দেওয়া উচিত। কৃষকদের এবং অ্যাগ্রিকালচার এক্সটেনশন অফিসারদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আর ভারতের বাজার পর্যবেক্ষণ করে সেখানে ঘাটতি হলে চীন, তুরস্ক এমনকি নেদারল্যান্ডসের মতো অন্যান্য দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির কথা ভাবতে হবে। স্থানীয় বাজারে কী পরিমাণ ঘাটতি হচ্ছে, সেটা বিবেচনায় এনে আমদানিকারকদের ওইসব দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য সরকারের তরফ থেকে উৎসাহিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে টিসিবিকে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেলে শহুরে দরিদ্ররা বেশি দুর্ভোগে পড়ে। কেননা গ্রামীণ দরিদ্ররা সংকট হলে আরেকজনের কাছ থেকে চেয়ে-চিন্তে আনতে পারে। কিন্তু শহরে সংযোগ কম থাকায় তা সম্ভব হয় না। এটার সংকটে ধনী বা মধ্যবিত্তদের তেমন সমস্যা হয় না। সমস্যা হয় নিম্ন-মধ্যবিত্ত বা দরিদ্রদের। কাজেই উচ্চবিত্তরা যে পেঁয়াজের মূল্য বৃদ্ধি পেলে একসঙ্গে ২০-৩০ কেজি কেনার যে সংস্কৃতি তৈরি করেছে, সেখান থেকেও বের হয়ে আসতে হবে।

পেঁয়াজের মূল্য নিয়ে আমরা যদি গত এক মাসের সার্বিক চিত্র পর্যালোচনা করি, তাহলে দেখব যে প্রতি বছরই এ সময়টাতে এ বিষয় নিয়ে একটা হিউ অ্যান্ড ক্রাই হচ্ছে। কোনো সময় এটা তাড়াহুড়ো করে পদক্ষেপ নিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। আবার কোনো বছর এটা লাগামহীন অবস্থায় চলে যায়। পেঁয়াজ একটা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, কেননা আমরা সবাই পেঁয়াজ খাই। কিন্তু বছরের এ সময়টাতে এসে পেঁয়াজের মূল্য নিয়ে সংকট সৃষ্টি হয়। সেজন্য একটা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা দরকার।

দেশ রূপান্তর: দেশে পেঁয়াজের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে?

নাজনীন আহমেদ: গত বছর পেঁয়াজের দাম বেশি হওয়ায় এ বছর অনেকেই পেঁয়াজের চাষ করবে। কিন্তু আমাদের উৎপাদনশীলতা অনেক কম। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের উৎপাদনশীলতার সঙ্গে যদি তুলনা করি, তাহলে ভারতে যেখানে প্রতি একরে সাড়ে ছয় মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়, বাংলাদেশে সেখানে চার মেট্রিক টনের মতো পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়। চীনে প্রতি একরে ৯ মেট্রিক টন, মেক্সিকোতে প্রতি একরে ১৩ মেট্রিক টন, এমনকি পাকিস্তানে প্রতি একরে ৫ মেট্রিক টন উৎপাদিত হয়। তাই আমাদের উৎপাদনশীলতা অনেক কম। এ ক্ষেত্রে আমরা যদি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করতে পারি, তাহলে ভারতের ওপর আমাদের নির্ভরতা কমাতে পারি। গত বছর এক্সপোর্ট ব্যান্ড হওয়াতে ৩০ টাকার পেঁয়াজ ৩০০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছিল। এমনকি দু-এক দিন তার বেশিতেও বিক্রি হয়েছিল। এবারও বলা হচ্ছে যতটুকু এক্সপোর্ট করা হয়েছে, ঠিক ততটুকু এলসি খুলব। নতুন এলসি খোলা হবে না।

প্রকৃতঅর্থে, ইনফ্লেশনারি এক্সপেক্টেশন কাজ করছে বিক্রেতাদের মধ্যেও। তারাও রয়েসয়ে বিক্রি করছেন, আর ক্রেতারা লাইন ধরে কেনার জন্য দাঁড়াচ্ছেন। যাদের হাতে টাকা আছে, তারা বেশি করে পেঁয়াজ কিনে রাখছেন। বিক্রেতারা ভাবছেন যে সাত দিন পর যদি বেশি দামে বিক্রি করা যায়। এটা আসলে সিন্ডিকেশন নয়। কেননা লাখ লাখ বিক্রেতা যদি বেশি দামে বিক্রি করার মাধ্যমে মুনাফা করতে চায়, তাহলে সেটা তো সিন্ডিকেশন হয় না। পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক নিয়মেই এই মুনাফা করতে চাচ্ছে তারা। একজন যদি লাভ করতে চান, তাহলে তো তাকে বাধা দেওয়া যায় না। আবার তাকে লাভ ত্যাগ করার কথাও বলা যায় না। এজন্য উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। আমরা যেমন চাল, টমেটোর ক্ষেত্রে সাফল্য লাভ করেছি, তেমনি পেঁয়াজের ক্ষেত্রেও সাফল্য পাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। আরও গবেষণা এজন্য প্রয়োজন হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে স্টোরেজের মাধ্যমে যদি পেঁয়াজের মজুদ রাখতে পারি, তাহলে আমরা এ বিষয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে পারি।

দেশ রূপান্তর: বাণিজ্য সচিব দেশের চার জেলায় পেঁয়াজের সংরক্ষণাগার তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন। বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

নাজনীন আহমেদ: পেঁয়াজের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। এজন্য পেঁয়াজের হাইব্রিড বীজ কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। অবশ্যই পেঁয়াজের সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। যখন ফেব্রুয়ারি মাসে পেঁয়াজ ওঠানো শুরু হবে তখন থেকেই পেঁয়াজের সংরক্ষণ করতে হবে। কিছু বাজারে যাবে, কিছু সংরক্ষণ হবে। এটা সংরক্ষণের জন্য কিন্তু এত ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় না। এটা শুধু ঠা-া রাখতে হয়। সে রকম ফ্রিজিংয়ের প্রয়োজন হয় না। এটা যেহেতু পানিজাতীয়, তাই ভেতরে যেন ভিজে না যায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য স্টোরেজের ব্যবস্থা করতে হবে। পাবলিক স্পেস ভাড়া নিয়ে যেন পেঁয়াজচাষিরা এটা সংরক্ষণ করেন, সে ব্যবস্থা করা জরুরি। এগুলো আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে করা সম্ভব। সরকার এবার চার জেলায় যে সংরক্ষণাগার করার প্রস্তুতি নিয়েছে, এটা খুবই প্রয়োজন ছিল। এখন এটা দ্রুত বাস্তবায়ন করার প্রচেষ্টা চালাতে হবে। পাশাপাশি সরকারি এবং বাণিজ্যিক উদ্যোগে আরও সংরক্ষণাগার নির্মাণ করতে হবে।