দানশীলদের জেমস বন্ড চাক ফিনে|248354|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০
দানশীলদের জেমস বন্ড চাক ফিনে

দানশীলদের জেমস বন্ড চাক ফিনে

সম্প্রতি ৮ বিলিয়ন ডলার দান করে শীর্ষ দানশীল ব্যক্তির তালিকায় নাম লিখিয়েছেন চার্লস চাক ফিনে। বহুদিন যাবৎ দান করলেও নিজের নাম প্রকাশ করতে চাননি। বরং নিজেকে লুকিয়ে দান করতেই তিনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। লিখেছেন আরফাতুন নাবিলা

ডিউটি ফ্রি শপ

১৯৯৭ সালের ২৩ জানুয়ারি। দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসে ‘কাউকে না জানিয়েই ৬০০ মিলিয়ন ডলার দান’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হলো। কেউ জানতে পারল না এত সম্পত্তি মানব উন্নয়নে কে দান করলেন। অথচ এই একটি খবর বদলে দিল অনেক মানুষের জীবন। এ দানের আড়ালে থাকা মানুষটির নাম চার্লস চাক ফিনে। এই অর্থ দান করা হয় ফিনের নির্মিত আটলান্টিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। শুরু থেকেই এ ফাউন্ডেশনের অর্থ খরচ করা হতো পাঁচটি খাত দেখে। সেগুলো হলো বয়স্ক, শিশু এবং তরুণ, জনস্বাস্থ্য, পুনর্মিলনী ও মানবাধিকার এবং ফান্ডের উদ্যোগ। ২০০২ সালে আটলান্টিক ফাউন্ডেশন ঘোষণা করেছিল এটি একটি নির্দিষ্ট মেয়াদী সংস্থা হবে এবং ২০১৬ সালের মধ্যে সব অনুদান সম্পন্ন করবে। ২০২০ সালে এটি বন্ধ হয়ে যাবে। তবে এ ফাউন্ডেশনের কথা কেউ জানতো না। ফিনে নিজেও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তার রহস্য যতদিনে বেরিয়ে আসবে ততদিনে তিনি এই জীবনদর্শনকে বেশ ভালোভাবেই প্রচার করবেন। তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ লোকে ভালো কাজের জন্য অর্থ ব্যয় করে ততক্ষণই এটি সার্থক।’ ফিনের এমন উদারতায় মুগ্ধ হয়েছেন ওয়ারেন বাফেট এবং বিল গেটসও।

আটলান্টিক ফাউন্ডেশন তৈরি হয়েছিল মানুষের জন্য মহৎ কাজের উদ্দেশ্যেই। তবে একটি ফাউন্ডেশন এককভাবে চলতে পারে না। এর পেছনে মূল বিষয় থাকে অর্থ, যা ফিনে প্রচুর আয় করেছিলেন। চাক ফিনের সম্পদ এবং আটলান্টিকের প্রথম ফান্ডিংয়ের উৎসের শুরু ফিনে ও তার সঙ্গী রবার্ট মিলারের ১৯৫০ সালে ইউরোপে আমেরিকান নেভিদের কাছে হুইস্কি বিক্রির মধ্য দিয়ে। পরে এতে যুক্ত হয় বিলাসবহুল নানা পণ্য এবং গাড়ি। শুরুতে ইউরোপিয়ান নেভালদের চাহিদামতো পণ্য আনতেন ফিনে। পরে এতে যুক্ত হয় বিশ্ব ভ্রমণের জন্য মধ্যবিত্ত জাপানিদের প্রয়োজনীয় নানা জিনিস, আমেরিকান সিগারেট, ফ্রেঞ্চ ব্র্যান্ডি এবং ইতালিয়ান চামড়া। ১৯৮৪ সালে ফিনে ডিউটি ফ্রি শপের মাধ্যমে বাড়তে থাকা সম্পদ থেকে গোপনে আটলান্টিক ফাউন্ডেশনে তার সম্পদের ৩৮.৭৫ শতাংশ দান করে দেন। এটা ২০১২ সালের ঘটনা। তখন ফিনে ফোর্বস ম্যাগাজিনকে বলেছিলেন, ‘আপনি যদি কোনো কিছুর প্রতি আসক্ত হয়ে যান, তবে সবসময় সেটি নিয়ে আপনার চিন্তা হতে থাকবে।’ প্রচুর আয় হওয়া সত্ত্বেও এসব যে ফিনের অ্যাকাউন্টে না গিয়ে দাতব্য সংস্থায় যাচ্ছিল সে কথা তেমন কেউ জানতেন না। ‘আমি প্রতিযোগিতা বেশ পছন্দ করি, সেটা বাস্কেটবল খেলাতেই হোক অথবা ব্যবসায়িক খেলা। আমি অর্থ অপছন্দ করি না, কিন্তু আমি খরচ করতে পারি এমন প্রচুর অর্থ আমার কাছে এখনো আছে’ তাই কাউকে না জানিয়ে দান করাতেই ফিনের আনন্দ।

৮৯ বছর বয়সী চার্লস চাক ফিনে ১৯৬০ সাল থেকে রবার্ট মিলারের সঙ্গে মিলে এয়ারপোর্ট রিটেইলার ডিউটি ফ্রি শপ চালু করেন। বলাবাহুল্য, শুরুর পর থেকে আজ অবধি এই শপ থেকে আয় হয়েছে কোটি কোটি অর্থ। একজন পরোপকারী হিসেবে তিনি মনে করেন, বেঁচে থাকাকালে যত অর্থই আয় করা হোক না কেন, যতই স্বাচ্ছন্দ্যে জীবন কাটুক না কেন, মৃত্যুর আগে সেই অর্থ যদি অন্য কারও উপকারে আসে তবে এর চেয়ে বেশি আনন্দের আর কিছু হয় না। যেহেতু চাইলেই অর্থগুলো মৃত্যুর পর নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়া যায় না তাহলে বেঁচে থাকতেই কেন সেই অর্থের মাধ্যমে অন্যের সাফল্য দেখে যাওয়া নয়?

‘আমরা প্রচুর শিখেছি। আমরা হয়তো ভিন্ন কিছু করছি, কিন্তু আমি খুবই সন্তুষ্ট। বেঁচে থাকতেই এমন কিছু করতে পেরে আমি ভীষণ আনন্দিত। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ যারা এ যাত্রায় আমার সঙ্গে ছিলেন। আর যারা ভাবছেন বেঁচে থাকতে কীভাবে দান করবেন তাদের বলতে চাই, একবার চেষ্টা করে দেখুন, আপনার নিজের কাছেই অনেক ভালো লাগবে। সবকিছু দেরিতে দান করার মধ্যে আমি আসলে বড় কোনো কারণ খুঁজে পাই না, যেখানে কিছুটা সাপোর্ট করলেই অনেক বড় বড় কাজ সম্পাদন হওয়া সম্ভব। সত্যি বলতে জীবিত অবস্থায় সবকিছু দান করার মধ্যে আনন্দই অন্যরকম’ বলছিলেন ফিনে।

আন্তর্জাতিক বিলাসবহুল ভ্রমণে এসে মানুষ কোনো শপ থেকে খরচ করবে এমন কিছু হুট করে তৈরি করা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। কিন্তু যখন থেকে এটি শুরু করা হয়েছে তখন থেকে ডিউটি ফ্রি শপের আলো কখনো নেভেনি। আমেরিকা, ইউরোপ, আলাস্কা, হাওয়াই, অস্ট্রেলিয়া, ঘুরতে আসা সব ক্রুজ শিপ এবং পূর্ব এশিয়াতেও এই শপ আছে। ভ্রমণকারীরা এসে থামতে পারে এমন প্রতিটি জায়গায় ফিনে তার শপ স্থাপন করেছেন। সাইপানের একটি আইল্যান্ডে তারা দোকান দিতে চেয়েছিলেন। সমস্যা ছিল সাইপানে কোনো এয়ারপোর্ট ছিল না। তাই ডিউটি ফ্রি শপ ৫ মিলিয়ন ডলার খরচ করে একটি এয়ারপোর্টও তৈরি করে ফেলে। আটলান্টিক সবসময় এমন ধরনের বৈশ্বিক সমস্যা নিয়েই কাজ করেছে। ফিনে এবং আটলান্টিক সবসময় বিভিন্ন জায়গার সুযোগ নিয়ে কাজ করেছেন, কখনো হয়তো সেই জায়গা বাতিল হয়েছে, কখনোবা সেখান থেকেই অনেক আয় হয়েছে। যে জায়গা অন্যদের চোখে লাভজনক মনে হয়নি, সেখান থেকেই ফিনে তুলে এনেছেন বিশাল লাভের অঙ্ক।

সাতটিরও বেশি জোন নিয়ে আটলান্টিক ফাউন্ডেশনে ৩০০ জনেরও বেশি কর্মী এবং ১০টি গ্লোবাল অফিস রয়েছে। কোন কাজে কতটুকু ঝুঁকি রয়েছে, দান করার পর কেমন প্রভাব পড়বে, দীর্ঘমেয়াদি ফল কেমন হবে এমন সব বিষয় আলোচনা করে বছরখানেক ধরেই এ দানের বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছিল। ২০২০ সালের এই তারিখটি (১৪ সেপ্টেম্বর) নেওয়া হয়েছে জরুরিভাবে এবং বেশ নিয়ম মেনে। এটি আটলান্টিক দানকারীদের সময় দিয়েছে ইতিহাসকে নথিভুক্ত করার, জয় ও পরাজয়ের গল্প সাজানোর এবং প্রতিষ্ঠানটি মেনে চলে এমন কিছু নিয়ম তৈরি করার। ফিনে বলেছিলেন, ‘ব্যবসাকে দীর্ঘ সময় ধরে রাখার জন্য নয়, আমরা দান করছি আরও সুযোগ তৈরির জন্য।’

যত ক্ষেত্রে দান

গত চার দশক ধরে, ফিনে প্রায় ৮ বিলিয়নেরও বেশি অর্থ দান করেছেন বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং নানা ফাউন্ডেশনে। এ সবই তিনি দান করেছেন তার ফাউন্ডেশন আটলান্টিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে। ২০১২ সালের দিকে ফিনে জানান, অবসরে যাওয়ার পর তিনি শুধু তার নিজের ও স্ত্রীর জন্য সব মিলিয়ে ২ মিলিয়ন অর্থ রেখেছেন। এক কথায়, তিনি তার বর্তমান সম্পদের চেয়ে প্রায় ৩৭৫,০০০% বেশি অর্থ দান করেছেন। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে এ অর্থ পুরোটাই তিনি দিয়েছেন বেনামে। যেখানে অনেক বড় বড় ধনী ব্যক্তি নিজেদের যেকোনো অনুদানকেই বেশ বড় করে প্রচার করেন, সেখানে ফিনে তার সব অনুদান করেছেন একদম নিঃশব্দে। বিশ্বব্যাপী নানা জায়গায় গোপনভাবে অর্থ দান করার কারণে ফোর্বস তাকে ‘দানশীলদের জেমস বন্ড’ হিসেবে উপাধি দিয়েছে।

ফিনে সবসময় বড় সমস্যায় বড় অর্থ দান করেছেন। উত্তর আয়ারল্যান্ডে শান্তি আনতে, ভিয়েতনামের স্বাস্থ্য পদ্ধতি আধুনিক করতে প্রচুর অর্থ তো বটেই, ৩৫০ মিলিয়ন ডলার দান করেছেন নিউ ইয়র্কে দীর্ঘ সময় অবহেলিত থাকা রুজভেল্ট আইল্যান্ডকে প্রযুক্তি কেন্দ্র বানানোর জন্য।

তার মৃত্যুর পর কোনো নির্দিষ্ট ফান্ড থেকে প্রতি মাসে গিফট দেওয়া হবে অথবা ১০ ডলারের সমস্যা সমাধান করা হবে এমনভাবে কোনো অর্থ রেখে যাননি তিনি। তিনি সবসময় বড় সমস্যা খুঁজেছেন, তার সমাধান করেছেন, সেই সমাধানে যেন দীর্ঘমেয়াদি উপকার হয় সে চেষ্টা করেছেন।

ব্যবসায় প্রচুর অর্থ আয় করেছেন ফিনে। তার এ অর্থ প্রভাবিত করেছে স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান, শিক্ষা এবং সামাজিক নানা কর্মকাণ্ডে। তিনি যে ৮ বিলিয়ন ডলার দান করেছেন তার মধ্যে ৩.৭ বিলিয়ন শিক্ষায়, প্রায় ১ বিলিয়ন মায়েদের জন্য, ৮৭০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে মানবিক অধিকার ও সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদ- বাতিলের অনুদানের জন্য ৬২ মিলিয়ন ডলার এবং ওবামাকেয়ারের ক্যাম্পেইন সাপোর্টের জন্য ৭৬ মিলিয়ন ডলার খরচ করা হয়েছে। তিনি বিভিন্নভাবে ৭০০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি দান করেছেন স্বাস্থ্য খাতে, ২৭০ মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন ভিয়েতনামের স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নের জন্য, ডাবলিনের ট্রিনিটি কলেজ এবং সান ফ্রান্সিসকোর ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার যৌথ উদ্যোগে গ্লোবাল ব্রেইন হেলথ ইনস্টিটিউটের জন্য দিয়েছেন ১৭৬ মিলিয়ন ডলার। জীবনে বহু উত্থান-পতন দেখে বড় হওয়া ফিনে সবসময় প্রস্তুত ছিলেন অনেক বেশি খরচ করার জন্য। ঝুঁকি নিয়ে হলেও তিনি চেয়েছেন মানবকল্যাণে বড় বড় উন্নতি করতে।

ব্যক্তি চাক ফিনে

চার্লস ফ্রান্সিস ফিনের জন্ম হয় ১৯৩১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি নিউ জার্সিতে, গ্রেট ডিপ্রেশনের সময়। নিউ জার্সির এলিজাবেথ শহরের বিনয়ী আইরিশ-আমেরিকান পরিবারে জন্ম ফিনের। ১৯৪৯ সালে এলিজাবেথের সেন্ট মেরি অব দ্য অ্যাজাম্পশন হাই স্কুল থেকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেন। তার ভেতর এত কাজের উৎসাহ তৈরি জন্য তিনি বরাবর এ স্কুলকেই ধন্যবাদ দেন। ২০১৬ সালে এ স্কুলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার দান করেন। কোরিয়ান যুদ্ধের সময়, আমেরিকান এয়ার ফোর্সে রেডিও অপারেটর হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। তার ক্যারিয়ার মূলত শুরু হয় ডিউটি ফ্রি শপের মাধ্যমে। কর্নেল ইউনিভার্সিটি স্কুল অব হোটেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন ফিনে।

আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক এই প্রাচুর্য তৈরির জন্য, আর্থিক প্রতিপত্তি বাড়ানোর জন্য, পরবর্তী সময়ে বৈশ্বিক দানশীল হওয়ার জন্য চাক ফিনেকে বিশ্বব্যাপী মিলিয়ন মাইল ঘুরতে হয়েছে। ভ্রমণকারীদের জন্য বিলাসবহুল পণ্য বিক্রি করলেও ফিনের পছন্দ ছিল একদম সাদাসিধে। তিনি সবসময় মামুলি একটি ব্লেজার ও রবারের ক্যাসিও ঘড়ি পরতেন। প্লাস্টিকের শপিং ব্যাগে ম্যাগাজিন এবং পেপার নিয়ে চলতেন। জীবনে তিনি একটি মাত্র ব্যবহৃত জাগুয়ার গাড়ি কিনেছিলেন।

এই হচ্ছে ফিনে। যদি তার ব্যক্তি জীবনের কথা বলতে হয় তবে সেটি হয়তো খুব বড় নয়, তবে এর প্রভাব অনেক বেশি। তার এ অনুদান এখন আর গোপন কিছু নয়। দাতব্য সংস্থায় এত বড় বড় অনুদান অসংখ্য উদ্যোক্তা আর দেশপ্রেমী মানুষের মন জিতে নিয়েছে। ফিনের বিভিন্ন সময় নেওয়া নানা অনুদানে উৎসাহিত হয়ে বিল গেটস ও ওয়ারেন বাফেট ২০১০ সালে ‘গিভিং প্লেজ’ নামে একটি ক্যাম্পেইন চালু করেন। এ ক্যাম্পেইনের উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের মৃত্যুর আগে তাদের অর্ধেক সম্পত্তি দান করে যাওয়া। ওয়ারেন বাফেট বলেন, ‘চাক হচ্ছেন গিভিং প্লেজ ক্যাম্পেইন তৈরির প্রধান ভিত্তি। তিনি আমাদের সবার জন্য মডেল। যে কাজ তিনি তার জীবদ্দশায় করে গেলেন সে কাজ আমার মৃত্যুর পরও করতে অন্তত ১২ বছর লাগবে।’

এত সম্পত্তির মালিক হয়েও ফিনে সবসময় সাদাসিধে জীবনে চলেছেন। যেই মানুষটি ভ্রমণকারীদের জন্য বিলাসবহুল পণ্য বিক্রি করেন, জেনারেল আটলান্টিকের মতো প্রাইভেট ইক্যুইটি পাওয়ার হাউজ লঞ্চ করেন, সেই মানুষটিই বাস করেন সান ফ্রান্সিসকোর একটি অ্যাপার্টমেন্টে যেটি একজন ব্যক্তি ডর্মরুম হিসেবে ব্যবহার করতেন। কাঠের টেবিলের ওপরের দেয়াল থেকে শুরু করে একদম ওপর পর্যন্ত পুরো দেয়ালজুড়ে সাদাকালো প্রিন্ট করা বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যদের ছবি লাগানো। টেবিলের ওপর ছোট্ট একটি ফলকে লেখা আছে, ‘৮ বিলিয়ন ডলার দান করার জন্য চাক ফিনেকে অভিনন্দন।’ নিজে ভালো জায়গায় থাকার চেয়ে কোথাও অর্থ দান করার বিষয় এলে ব্যাংকে জমানো অর্থ খরচ করতে একদমই ভাবেন না ফিনে। ফোর্বস ম্যাগাজিনে তার সম্পর্কে বলা হয়েছিল, ‘আমরা অনেক বিলিয়নিয়ারের সঙ্গে দেখা করেছি যারা শুধু নিজেরাই বড় হতে চেয়েছেন, একমাত্র ফিনে বড় হয়েছেন কোনো একটি উদ্দেশ্য নিয়ে।’ এ লেখা দেখে ফিনে বলেছিলেন, ‘বেঁচে থাকার সময় অর্থ খরচ হয় দ্রুত, অথচ সবাই এ আয় করা অর্থের ফল দেখতে চায়।’

২০২০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ফিনে শেষবারের মতো চার দশকের সব কাজ সম্পন্ন করেন। আটলান্টিক ফাউন্ডেশন বন্ধের জন্য সব কাগজে দস্তখত করেন। তার বিদায়ের এ আয়োজনটি হয় জুমে। উপস্থিত ছিলেন আটলান্টিক ফাউন্ডেশন বোর্ডের সদস্যবৃন্দ, বিল গেটস এবং সাবেক ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর জেরি ব্রাউন। আমেরিকান কংগ্রেস থেকে ন্যান্সি পেলোসি হাউজের স্পিকার ফিনের কাজের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠান। কয়েক দশক লাগলেও বৃহৎ খুচরা বিক্রেতা ডিউটি ফ্রি শপারসের সহপ্রতিষ্ঠাতা সাবেক কোটিপতি চাক ফিনে অবশেষে তার সব সম্পত্তি দান করে দিয়েছেন। এই মুহূর্তে তার কাছে কোনো সম্পত্তি নেই। সবকিছু দান করে দিয়েও তিনি বলেন, এর চেয়ে বেশি খুশি তিনি কখনই ছিলেন না।