৫ কোটি টাকা জলে!|248423|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০
৫ কোটি টাকা জলে!
সুমন্ত চক্রবর্ত্তী, খুলনা

৫ কোটি টাকা জলে!

২০১২ সালে খুলনা নগরীর নতুন বাজারে ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয় ওয়েস্ট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট। রূপসা নদী ঘেঁষে গড়ে ওঠা চিংড়িমাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানগুলোর দূষিত পানি শোধন এবং সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পরিবেশ সুরক্ষার জন্য প্ল্যান্টটি নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু জনগুরুত্বপূর্ণ এ প্ল্যান্টটি ‘দরকার নেই’ জানিয়ে চার বছর আগে বন্ধ করে দেয় রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। ফলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত প্ল্যান্টটির জিনিসপত্র।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা যায়, এলজিইডির ‘মাঝারি শহর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-২’র আওতায় প্ল্যান্টটি নির্মাণ করা হয়। এর মাধ্যমে রূপসা নদী ঘেঁষে গড়ে ওঠা চিংড়ি কারখানার নির্গত পানি শোধন করা হতো। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) প্ল্যান্টটি নির্মাণে অর্থায়ন করে। এলজিইডি কাজটি বাস্তবায়ন করে। প্ল্যান্টটি নির্মাণের আগেই শর্ত রাখা হয় নগরীর অভ্যন্তরে হওয়ায় এর রক্ষণাবেক্ষণ করবে কেসিসি। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্ল্যান্টটি বুঝে নেয় কেসিসি। তবে কয়েক মাস চালিয়ে সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। চিংড়ি ব্যবসায়ী জুয়েল হাওলাদার বলেন, ‘চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং এলাকার পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে প্ল্যান্টটি স্থাপন করা হলেও তা বর্তমানে কোনো কাজে আসছে না।’

এদিকে প্ল্যান্টটি রক্ষণবেক্ষণে তিনজন দারোয়ান নিয়োগ দেওয়া হলেও দুই বছর তাদের কোনো বেতন দেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে দুজন চলে গেছেন। একজন পরিবার নিয়ে সেখানে থাকছেন। সৈয়দ শেখ নামে ওই দারোয়ান বলেন, ‘মাঝেমধ্যে বেতন পাই। পরিবার নিয়ে ভেতরে থাকি। চার বছর ধরে এটি বন্ধ। মেশিনগুলোও নষ্ট। ছয়টি পাম্পের মধ্যে পাঁচটিই নষ্ট।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব আশরাফ উজ জামান বলেন, ‘এত টাকা দিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান করে তা ফেলে রাখা খামখেয়ালিপনা ছাড়া কিছুই নয়। এটি দ্রুত চালু করে নগরীর পরিবেশ সুরক্ষা করতে হবে।’

এলজিইডির প্রকৌশলী এএসএম তরিকুল হাসান খান বলেন, ‘আমাদের কাজ ছিল প্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করে দেওয়া। পরে এটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয় কেসিসির হাতে। বর্তমানে তারাই এটি দেখাশোনা করছে।’

কেসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মশিউজ্জামান খান বলেন, ‘প্ল্যান্টটি নির্মাণের সময় নতুন বাজার এলাকায় প্রায় ২৬০টি চিংড়ি প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা ছিল। বর্তমানে এগুলো উল্লেখযোগ্যহারে কমে গেছে। ফলে আগের মতো আর ওই এলাকায় দূষিত পানি হয় না। যে কারণে প্ল্যান্টটি আর চালানো হচ্ছে না।’