তদন্তে কমিটিই করতে পারেনি বিএনপি|248877|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০
তদন্তে কমিটিই করতে পারেনি বিএনপি
রেজাউল করিম লাবলু

তদন্তে কমিটিই করতে পারেনি বিএনপি

দুই সপ্তাহের বেশি সময় কেটে গেলেও গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে দুই মনোনয়নপ্রত্যাশীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা তদন্তে তদন্ত কমিটি গঠন করতে পারেনি দলটি। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তদন্ত কমিটি গঠন করে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেও গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি। গতকাল দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

এদিকে সংঘর্ষের জন্য ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনেন এ আসনের অপর পাঁচ মনোনয়নপ্রত্যাশী। তারা সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ীদের খুঁজে বের করার পর প্রার্থীর নাম ঘোষণার অনুরোধ জানালেও তা সম্ভব হয়নি। কারণ ইতিমধ্যে ঢাকা-১৮ আসনের উপনির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রার্থী ঘোষণার আগে আর তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় হতাশ পাঁচ মনোনয়নপ্রত্যাশী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্থায়ী কমিটির সভায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছিল। দলের মহাসচিব সংবাদ সম্মেলনে কমিটি গঠনের কথা বলেছিলেন। কিন্তু আমার জানা মতে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।

সাক্ষাৎকারের দিন ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি কফিল উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তার সমর্থক নাজিম উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। কফিল উদ্দিন হামলার জন্য এস এম জাহাঙ্গীরকে দায়ী করেন। তবে এস এম জাহাঙ্গীর তার অভিযোগ অস্বীকার করেন। 

গত ১২ সেপ্টেম্বর গুলশান কার্যালয়ে নওগাঁ-৬, ঢাকা-৫, ঢাকা-১৮ ও সিরাজগঞ্জ-১ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেয় বিএনপির পার্লামেন্টারি বোর্ড। বিকেল পাঁচটায় সাক্ষাৎকার গ্রহণের আগে ঢাকা-১৮ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি কফিল উদ্দিন ও এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কফিল উদ্দিনের প্রায় ১০ জন সমর্থক নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনায় কফিল উদ্দিন একই আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী এস এম জাহাঙ্গীরকে দায়ী করেন। পরে কফিল উদ্দিনের সঙ্গে যোগ দেন অপর চার মনোনয়নপ্রত্যাশী। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেওয়ার পর প্রার্থী ঘোষণার দাবিও জানান তারা। কিন্তু গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।

এরপর গত ১৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গুলশান কার্যালয়ে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করতে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরের দিন এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তদন্ত কমিটি করে দোষীদের খুঁজে বের করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তা ঘোষণায়ই থাকে। পরে ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আবারও তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান তারেক রহমান। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলার পরও গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।

এদিকে গত সোমবার কফিল উদ্দিনসহ তিনজন মনোনয়নপ্রত্যাশী উত্তরায় বিএনপি মহাসচিবের বাসায় গিয়েছিলেন। তারা সংঘর্ষের ঘটনা তদন্ত করে দেখতে বলেন। কমিটি গঠনের কথা বলেন। জবাবে মহাসচিব বিষয়টি দেখবেন বলে আশ^াস দিয়েছেন। পরে আশ^াস নিয়ে ফেরত আসেন তারা।