পিবিআই হেফাজতে কলেজছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ|248886|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০০:০০
পিবিআই হেফাজতে কলেজছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ
বাগেরহাট প্রতিনিধি

পিবিআই হেফাজতে কলেজছাত্রের মৃত্যুর অভিযোগ

বাগেরহাটে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) হেফাজতে নির্যাতনে অসুস্থ হয়ে রাজা ফকির (২২) নামে এক আসামির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। গত সোমবার সন্ধ্যায় বাগেরহাট সদর হাসপাতালে রাজা ফকিরের লাশ পড়ে রয়েছে এমন খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হয়। পরিবারের দাবি, পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যুর পর রাজাকে হাসপাতালে আনা হয়। রাজা ফকির বাগেরহাট সদর উপজেলার খানজাহান আলী (রহ.) মাজারের খাদেম আল মর্তুজা ফকির ওরফে বাবু ফকিরের ছেলে এবং শহরের খানজাহান আলী ডিগ্রি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি তালিম মল্লিক নামে এক কলেজছাত্র হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

সোমবার রাতেই বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে রাজার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে তার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পিবিআই। রাজার পরিবার তার মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে। তবে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করে পিবিআই বলছে, তাদের হেফাজতে নয়, অসুস্থ হয়ে রাজার মৃত্যু হয়েছে।

রাজার বাবা বাবু ফকিরের অভিযোগ, গত রবিবার দুপুরে তার ছেলেকে পটুয়াখালী থেকে ধরে নিয়ে আসে পিবিআই। সে কলেজছাত্র তালিম মল্লিক হত্যা মামলায় পলাতক ছিল। এরপর তাকে ব্যাপক মারধর করা হয়। খবর পেয়ে বেশ কয়েকবার পিবিআইয়ের বাগেরহাট অফিসে যোগাযোগ করে ছেলে সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরে সোমবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ছেলের লাশ পড়ে আছে লোকজনের কাছে এমন খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান।

বাবু ফকির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত আমার ছেলের বিচার করত। নির্যাতন করে কেন তাকে মেরে ফেলা হলো? পটুয়াখালীতে আনার পথে ওর ওপর নির্যাতন করা হয়। বাদীপক্ষের সহায়তায় পুলিশ আমার ছেলেকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠ তদন্ত ও বিচার চাই।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত বছরের ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় সদর উপজেলার মাজার মোড় এলাকায় তামিম মল্লিক নামে এক তরুণ ছুরিকাঘাতে খুন হন। ওই সময়ে মাজারের সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজে যে তরুণকে দেখা গেছে সেই তরুণ হলেন এই রাজা ফকির। ঘটনার পরদিন নিহতের পরিবার রাজা ফকিরকে আসামি করে বাগেরহাট মডেল থানায় একটি মামলা করেন। এর পর থেকে রাজা ফকির এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন।

পিবিআইয়ের ভাষ্য, গত রবিবার রাতে পটুয়াখালী থেকে রাজাকে গ্রেপ্তার করে তারা। এরপর সোমবার দুপুরে অসুস্থ বোধ করায় তাকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাজার মৃত্যু হয়।

নিহত রাজা ফকির হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কি না জানতে চাইলে বাগেরহাটের সিভিল সার্জন ডা. কে এম হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, ‘সোমবার দুপুর ১টা ২০ মিনিটে ওই তরুণকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন পিবিআই সদস্যরা। সে সময় দায়িত্বরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাকে মৃত পান। নিয়ে আসা পুলিশ সদস্যরা চিকিৎসককে জানিয়েছিলেন, হঠাৎ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। রাতেই তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে জানা যাবে।’

রাজার মৃত্যুর বিষয়ে পিবিআই বাগেরহাট কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তবে ওই কার্যালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজা পুলিশ হেফাজতে মারা যায়নি। তার ওপর কোনো নির্যাতনও হয়নি। এক বছর ধরে সে পলাতক ছিল। পটুয়াখালী থেকে তাকে বাগেরহাটে নিয়ে আসার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।’