সংগীতের তিন সংগঠনের সঙ্গে মত বিনিময় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর |250005|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৫ অক্টোবর, ২০২০ ১৪:২৭
সংগীতের তিন সংগঠনের সঙ্গে মত বিনিময় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংগীতের তিন সংগঠনের সঙ্গে মত বিনিময় সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর

সংগীত সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘ দিনের চাওয়া ও অমীমাংসিত বিষয়গুলো প্রস্তাব আকারে তুলে ধরা হয়

গীতিকবি, সুরকার ও কণ্ঠশিল্পীদের পৃথক তিনটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মত বিনিময়ে অংশ নিয়েছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। রবিবার দুপুরে বাংলাদেশ কপিরাইট অফিসের উদ্যোগে এ সভা আয়োজিত হয়। 

সভায় তিন সংগঠনের পক্ষ থেকে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর কাছে সংগীত সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘ দিনের চাওয়া ও অমীমাংসিত বিষয়গুলো প্রস্তাব আকারে তুলে ধরা হয়।

গীতিকার আসিফ ইকবালের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন কণ্ঠশিল্পীদের সংগঠন সিঙ্গার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের যুগ্ম আহ্বায়ক কুমার বিশ্বজিৎ। ১৫টি দাবি সংবলিত প্রস্তাবনা পাঠ করেন গীতিকবি সংঘের সিনিয়র সদস্য কবির বকুল, মিউজিক কম্পোজার সোসাইটি বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ আহমেদ ও সিঙ্গার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নির্বাহী সদস্য জয় শাহরিয়ার।

সভাপতিত্ব করেন সিঙ্গার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা।

মিউজিক কম্পোজার সোসাইটির সভাপতি নকিব খান বলেন, “সঠিক আইন না থাকায় ও বিদ্যমান আইনের উপযুক্ত প্রয়োগ না হওয়ায় দেশের সংগীত অঙ্গনের সার্বিক উন্নয়ন এবং সংগীতকর্মীদের প্রাপ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব হচ্ছে না। সংগীতাঙ্গনে তৈরি হয়েছে স্থবিরতা।” দ্রুত কপিরাইট আইন সংশোধন ও এর আওতাধীন বিধিগুলো প্রণয়নের আহ্বান জানান।

গীতিকবি সংঘের প্রধান সমন্বয়ক শহীদ মাহমুদ জঙ্গী সংগীতের রয়্যালটি ও সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির জন্য সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানান।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে রেজিস্ট্রার অব কপিরাইট জাফর রাজা চৌধুরী বলেন, “এ দেশের সংগীত জগতের জন্য আজ একটি অসাধারণ মুহূর্ত। কারণ দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সংগীতের মূল অংশীজন তথা গীতিকবি, সুরস্রষ্টা ও কণ্ঠশিল্পীদের তিনটি শক্তিশালী সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে এবং তিনটি সংগঠনের সমন্বয়ে আজ এক শক্তিশালী সাংগঠনিক অভিযাত্রার শুরু হলো।”

সংগীতের স্বার্থ সুরক্ষায় এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং তাদের প্রস্তাবিত  দাবিগুলোর প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করেন।  

অনুষ্ঠানের সভাপতি কণ্ঠশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা বলেন, “সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এ দেশের সংগীতাঙ্গনের সকল সংগীত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন প্রয়োজন।”

দেশের গানের ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ, প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে একটি নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করতে প্রতিমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।

তিনটি প্রতিষ্ঠান একযোগে একই প্ল্যাটফর্মে এসে একটি শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশের পক্ষে অভিমত দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সংগীতের সুরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় একটি সংগীত নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন।

বলেন, “শিগগিরই এই নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে সংগীত সংশ্লিষ্টদের মতামত গ্রহণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং মতামতের ভিত্তিতে নীতিমালা প্রণীত হবে।”

উপস্থাপিত ১৫টি দাবি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়ন সম্ভব, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন এবং প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে বাকি দাবিগুলো বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।