আবু তাহের তারেকের কবিতা, সঙ্গে মারিয়া রিমার আলোচনা|252020|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:০২
প্রকাশিতব্য বই ‘আম্মা নদী’ থেকে
আবু তাহের তারেকের কবিতা, সঙ্গে মারিয়া রিমার আলোচনা

আবু তাহের তারেকের কবিতা, সঙ্গে মারিয়া রিমার আলোচনা

আবু তাহের তারেক ও মারিয়া রিমা

বুকিশ থেকে নভেম্বরে প্রকাশ হচ্ছে আবু তাহের তারেকের কবিতার বই ‘আম্মা নদী’। সেখান থেকে কয়েকটি কবিতা প্রকাশ হলো দেশ রূপান্তর পাঠকদের জন্য। আর সেই কবিতার ওপর আলোচনা করেছেন কবি ও লেখক মারিয়া রিমা।

 

আম্মা নদী

সবকিছু থাকি বার অইছি

বন্ধুত্ব নাশ অইল

পিরিত নাশ অইল

চুদাচুদিও ট্যাশ নায়

ভাই বইন ছাড়ছি

তান তান লগে কথা কওয়া ছাড়া দিন রাইত যায়

অনেক সমুন্দর গাং খাল হাকম পারইছি

আম্মারে পার অইতাম পাররাম না

আম্মা থাকি বারইছি

কিন্তুক তানরে ছাড়াইয়া যাইতাম পাররাম কই

 

ভাষা আরাইলিছি

ভাষার ডাল থাকি ভাবর গাছো আইয়া বইলাম

ডালর ফাকিন্তে খেছর মেছর খরের

আমি ডালো নায় ভাষার ডালো নায়

খইতাম ফাররাম না

 

মাফ করি দিও

রুডনেসগুলা এখনো শক্ত হই পড়ি আছে তুমার দিলে!

দেখো ত দেখো ত তলায় হাত দি অইগুলারে খুঁজি পাও কিনা

যেকুনু মূল্যে কিনব নে তুমারে দেওয়া আমার এই ভারি জিনিসগুলান

 

আপনার বাংলাত আমি জামাত শিবির

ছাগল দাঁড়ি

বকরি টুব্বি

ঘাস খাই না

ঘাসর তলাত

থাকি দেশর তলাত

 

শাপলাত মেগ ঝরছিল

কসম আল্লার

তাইন বানাইলা

দলা বান্ধা লউ

কসম শাপলার

যেনো লাল লাল মেগ ঝরছিল

 

টেইমস নদীর মত

টেইমস নদীর মত শান্ত হই বইতে চাইলাম

নদীর কূলো বই

হাঁটি

নদীর মত হইলাম!

 

মেগগুলা

মেগগুলা আছমানে দউড়াইল

দউড়াইল

পাহাড়ে

ঝরল ঝুম ঝুম

আবার

আবার

 

কই কই তুমার লগে

কই কই তুমার লগে দেখা করার কথা আছল

স্ক্রিপ্টের ভিত্রে

ভুলিয়া রইছি

ফিলিমে আমরা

দূর সাইটে

মিট করতেছি

আমরার পাকনা ডিরেক্টর

কবে তার স্ক্রিপ্টখান

চিপসের মত ঢুকাইল

মোদের ভিতরে

 

বিকাল

পর্তুগিজ মেয়ে শান্ত বিকাল

দরইয়ার

গান

ফুই বাইলার নু মেও বাতেউ

হার্মাদ ঢেউ

কমর ভাংল

কোরাল রিফে

.........

আবু তাহের তারেক দেশ রাজনীতি সচেতন কবি:  মারিয়া রিমা

আবু তাহের তারেক তার কবিতায় ভাষারে ভাষা দিয়া ট্রিট করতেছেন। কবিতায় আমরা ভাষা খুঁজি। আপন করতে চাই। সিলেটের উচ্চারণে কিছু শব্দ আপনি পাইবেন তারেকের কবিতায়। কখনও কিছু বাক্যও আছে। কবি বুঝতে চায় না যে পাঠক তো নিতে চাইতেছে। অধরা থাকে যেন। মনটা খচখচ করবে। কবিতার লাইনগুলো পড়ি:

“ভাষার ডাল থাকি ভাবর গাছো আইয়া বইলাম

ডালর ফাকিন্তে খেছর মেছর খরের”

“পর্তুগিজ মেয়ে শান্ত বিকাল

দরইয়ার

গান

ফুই বাইলার নু মেও বাতেউ”

চাইলে তো আপনি ভাষার চিজ মজা করে খাইতে পারেন।

তারেক কবিতায় কম বর্ণনা, গভীরতাকে ঠাঁই দিয়েছেন। কবিতার অনুভূতিগুলো হঠাৎ এসে চুরমার করে গেল অবস্থায় থাকে। ইমেজ দাঁড় করায়—

“টেমস নদীর মত শান্ত হই বইতে চাইলাম

নদীর কূলো বই

হাঁটি

নদীর মত হইলাম!”

তারেকের স্মৃতি, মিস করার ব্যাপার, না পাওয়া, হেয়ালীতে ভরপুর কবিতা। প্রেম, কল্পনায় ঢুকে বিরহ গাইছেন যেন সর্বত্র।

“কই কই তোমার লগে দেখা করার কথা আছল

স্ক্রিপ্টের ভিত্রে

ভুলিয়া রইছি

ফিলিমে আমরা

দূর সাইটে

মিট করতেছি

আমরার পাকনা ডিরেক্টর

কবে তার স্ক্রিপ্টখান

চিপসের মত ঢুকাইল

মোদের ভিতরে”

“রুডনেসগুলা এখনো শক্ত হই পড়ি আছে তোমার দিলে!

দেখো তো দেখো তো তলায় হাত দিই অইগুলারে খুঁজি পাও কিনা”

ছোট বর্ণনার কবিতা একটা হাহাকার সৃষ্টি করে। একটা জিদ তৈয়ার হবে যে, কেনো শেষ হয়ে গেল? কবি কাউরে পরোয়া করতে নারাজ, যেন কবিতা পড়ে টরে চলে যাও। আমাকে ঘোরের মধ্যে থাকতে দাও। আমি তোমাতে দায়বদ্ধ নই যেন—

“মেঘগুলা আছমানে দউড়াইল

দউড়াইল

পাহাড়ে

ঝরল ঝুম ঝুম

আবার

আবার”

আবু তাহের তারেককে দেখা যায় দেশ রাজনীতি সচেতন কবি। মাইনোরটির প্রতি তার প্রেম উতলায়। ক্ষোভ প্রকাশে ছাড় দেন না। কবিতার শিরোনামগুলো:

“আপনার বাংলাত আমি জামাত শিবির”

“শাপলত মেগ ঝরছিল”

কবিতার বইয়ের নাম “আম্মা নদী”। কবি তারেক পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং দিলে হিট করতে চাইছেন। পাঠক চাইলে এই আবদার স্বেচ্ছায় গ্রহণ করবেন। আম্মা নদী কবিতায় দেখবেন, তারেক বলতেছেন এইভাবে—

“অনেক সমুন্দর গাং খাল হাকম পারইছি

আম্মারে পার অইতাম পাররাম না

আম্মা থাকি বারইছি

কিন্তুক তানরে ছাড়াইয়া যাইতাম পাররাম কই”

 

আবু তাহের তারেক ও মারিয়া রিমার বই: আবু তাহের তারেকের অন্য বই— ফের্নান্দ পেসোয়ার নির্বাচিত কবিতা (অনুবাদ, ২০১৬) ও আইয়ো রেগো ময়না (কবিতা, ২০১৮)। ২০১৭ সালে বইমেলায় প্রকাশ হয় মারিয়া রিমার প্রথম কবিতার বই ‘মেয়েরা আসো ডান্স করি’ । চলতি বছর এসেছে প্রথম উপন্যাস ‘ডেসপারেট মারিয়া’।