মিথ্যা তথ্য এএফসি হেলথের আইপিও প্রসপেক্টাসে|253616|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০
মিথ্যা তথ্য এএফসি হেলথের আইপিও প্রসপেক্টাসে
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিথ্যা তথ্য এএফসি হেলথের আইপিও প্রসপেক্টাসে

প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) অনুমোদনের জন্য এএফসি হেলথ লিমিটেড প্রসপেক্টাসে মিথ্যা বিবৃতি ও ভুলভাবে উপস্থাপন করেছে বলে অভিযোগ এনেছে ভারতীয় স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান। প্রসপেক্টাসে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদানের মাধ্যমে এএফসি হেলথকেয়ার বিনিয়োগকারী ও জনসাধারণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে ভারতের প্রতিষ্ঠান ফরটিস হেলথস্টাফ লিমিটেড ও এসকর্টস হার্ট ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার লিমিটেড। গত ১৩ অক্টোবর পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (এসইসি) পাঠানো এক চিঠিতে এমন অভিযোগ জানিয়েছে তারা।

এসইসিকে দেওয়া চিঠিতে ভারতীয় ওই দুই প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে যে, এএফসি হেলথকেয়ার খুলনা ও চট্টগ্রামে কার্ডিয়াক ও বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা দিতে তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়। তবে এএফসি ওই চুক্তি ভঙ্গ করে কুমিল্লা ও যশোর জেলায় তাদের হাসপাতালেও ফরটিস ও এসকর্টস ব্র্যান্ড ব্যবহার করছে, যা চুক্তি পরিপন্থী। এছাড়া এএফসি হেলথকেয়ারের কাছে দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া পরিশোধ না করার অভিযোগও জানিয়েছে ভারতীয় ওই দুই প্রতিষ্ঠান।     

এ বিষয়ে এসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এমন অভিযোগ আমরা পেয়েছি। এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এএফসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর এএফসি হেলথকেয়ারকে পুঁজিবাজার থেকে অভিহিত মূল্যে ১৭ কোটি টাকা উত্তোলনের অনুমতি দেয় এসইসি। আইপিও অনুমোদনে দাখিল করা প্রসপেক্টাসে এএফসি হেলথকেয়ার দাবি করে, চুক্তির আওতায় এএফসি হেলথকেয়ার ভারতের এসকর্ট হার্ট ইনস্টিটিউট ও ফরটিস হাসপাতাল থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ‘পরিচালন ও ব্যবস্থাপনা’ সুবিধা ভোগ করছে। এই চুক্তির আওতায় দেশের খুলনা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও যশোর জেলায় ‘বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা’ ও ‘কার্ডিয়াক কেয়ার’ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এজন্য ২০১৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ২৭ আগস্টের মধ্যে এসকর্ট হার্ট ইনস্টিটিউট ও ফরটিস হেলথস্টাফের সঙ্গে তিনটি চুক্তি হয়েছে।

ফরটিস ও এসকর্টস জানায়, এএফসির সঙ্গে চুক্তিটি খুলনা ও চট্টগ্রামের এলাকাগুলোতে সেবা দেওয়ার জন্য করা হয়েছিল। কিন্তু পরে চুক্তি লঙ্ঘন করে তারা কুমিল্লা ও যশোরের এলাকাগুলোতেও এসকর্টস ও ফরটিসের নিজস্ব ব্র্যান্ড ব্যবহারের মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম শুরু করে। এছাড়া চুক্তির আওতায় এএফসি হেলথকেয়ার ফরটিস ও এসকর্টকে তাদের পাওনা বুঝিয়ে দেয়নি। এ নিয়ে তিন কোম্পানির মধ্যে আলোচনা হলে সেখানে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত অংশ নেয় ফরটিস ও এসকর্ট। পরিচালন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক চুক্তি ২০১৮ সাল থেকে অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। এসময় চুক্তি পুনঃপর্যালোচনার আশ^াস দেয় এএফসি। কিন্তু পাওনা পরিশোধ না করে এএফসি ফরটিস ও এসকর্টস ব্র্যান্ড ব্যবহার করে আসছে। যদিও তাদের সম্মতি ছাড়া এএফসির কোনো অধিকার নেই উক্ত ব্র্যান্ড ব্যবহারের। এটি বেআইনি কার্যক্রম বলে মনে করছে ফরটিস ও এসকর্টস।

প্রসপেক্টাসে মিথ্যা ও ভুলভাবে উপস্থাপন করা তথ্যের কারণে এএফসি হেলথকেয়ারের বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা ও তদন্ত চেয়েছে ফরটিস ও এসকর্টস। এর সঙ্গে জড়িত কোম্পানি ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।

এএফসি হেলথকেয়ারের ইস্যু ম্যানেজার ইম্পেরিয়াল ক্যাপিটাল লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সালাউদ্দিন শিকদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ফরটিস ও এসকর্টসের সঙ্গে চট্টগ্রাম, খুলনা ও কুমিল্লায় এএফসি হেলথকেয়ারের চুক্তি রয়েছে। আর যশোরে এএফসির কোনো হাসপাতাল নেই। সেখানে জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স সেবা ও রোগীদের জন্য সাময়িক অক্সিজেন সুবিধা রয়েছে। এর সবই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমোদন রয়েছে। যদিও ফরটিস ও এসকর্টস চুক্তি অনুযায়ী সেবা দেয়নি। তারা যে অভিযোগ জানিয়েছে, তাও সংগতিপূর্ণ নয়।