শিশুকে মারধরের অভিযোগে বিজিবি-এলাকাবাসী সংঘর্ষ|253743|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২২ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:৪৬
শিশুকে মারধরের অভিযোগে বিজিবি-এলাকাবাসী সংঘর্ষ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

শিশুকে মারধরের অভিযোগে বিজিবি-এলাকাবাসী সংঘর্ষ

সুনামগঞ্জ তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীতে কয়লা কুড়ানোর সময় এক শিশুকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগে বিজিবি ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গুরুতর আহত শিশুকে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওই শিশুকে মারধরের অভিযোগ তুলে বুধবার রাতে বিজিবি ও স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।  পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে বিজিবি। এ সময় বিজিবির এক সদস্যও আহত হন।

বিজিবি ও এলাকাবাসী সূত্র জানায়, বুধবার সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা লাউড়ের গড় সীমান্তের শাহ আরেফিন এলাকার যাদুকাটা নদী এলাকায় সুমন মিয়া (৯) নামে এক শিশু আহত হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়। এলাকাবাসী রাত ৭টায় বিজিবির লাউড়ের গড় সীমান্ত ক্যাম্পের সামনে মিছিল করলে বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিশুর অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, বুধবার সন্ধ্যার ঠিক আগ মুহূর্তে উপজেলা বাদাঘাট ইউনিয়নের লাউড়ের গড় সীমান্তের শাহ আরেফিন মোকাম এলাকায় লাউড়ের গড় বাজারে যাদুকাটা নদীতে কয়লা সংগ্রহের কাজে আসার সময় বিজিবির এফএস নাইম ফোর্সসহ শ্রমিকদের ধাওয়া দেয়। সবাই দৌড়ে পালিয়ে গেলে সুমনকে কাছে পেয়ে মারধর করেন এফএস নাইম। এতে সুমন অজ্ঞান হয়ে পড়ে। স্থানীয়রা মৃত ভেবে বিজিবির ওপর চড়াও হলে এফএস নাইমসহ সবাই ক্যাম্পে ফিরে যায়। এরপর স্থানীয় লোকজন বিজিবির বিরুদ্ধে মিছিল শুরু করলে লাউড়ের গড় ক্যাম্পের বিজিবির সদস্যরা ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে ছত্রভঙ্গ করে।

আহত শিশুর বাবা বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার ছেলেকে বিজিবি সদস্য কয়লা কুড়ানোর জন্য বেধড়ক মারধর করেছে। সারা শরীরে আঘাত রয়েছে। শিশুটি এখনো অজ্ঞান। মৃত ভেবে বিজিবি ফেলে যায়। স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আমার ছেলেকে রক্ষা করে।

সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহত শিশুর শরীরে ও মাথায় অনেক আঘাত এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। তাকে ভর্তি করা হয়েছে।

২৮ বিজিবি সুনামগঞ্জ অধিনায়ক মাকসুদুল আলম জানান, যাদুকাটা নদীতে শ্রমিকদের ধাওয়া করলে শিশু সুমন বাঁশের সঙ্গে আঘাত পেলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তখন মানুষ মনে করে সে মারা গেছে। পরে স্থানীয় লোকজন বিজিবির ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এ সময় আমাদের এক সদস্য আহত হন। তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা ক্যাম্পে হামলা করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১১ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। ঘটনার যারাই জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।