রায়হানের মৃত্যু ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে|253903|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০
দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট
রায়হানের মৃত্যু ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে
নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট

রায়হানের মৃত্যু ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতে

সিলেটে বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশ হেফাজতে মারা যাওয়া রায়হানের দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন তদন্তকারী সংস্থা পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ভোঁতা অস্ত্রের আঘাতই রায়হানের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এ রিপোর্ট হস্তান্তর করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ।

গত ১৫ অক্টোবর নগরীর আখালিয়া এলাকার পঞ্চায়েত গোরস্তান থেকে রায়হানের লাশ উত্তোলন করে দ্বিতীয় দফা ময়নাতদন্ত করা হয়। ওইদিন সাময়িক ফরেনসিক রিপোর্টে তার শরীরে ১১১টি আঘাত রয়েছে বলে জানিয়েছিলেন মেডিকেল বোর্ডের প্রধান ও ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. শামসুল ইসলাম। গতকাল পূর্ণাঙ্গ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রায়হানের শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যা আগের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। প্রথম দফা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার রিপোর্টের মিল রয়েছে বলেও জানান শামসুল ইসলাম।

প্রথম ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন বলছে, রায়হানকে ধরে ফাঁড়িতে এনে তার ওপর বর্বর নির্যাতন চালানো হয়েছে। তার শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১৪টি ছিল গুরুতর। তার দুটি আঙুলের নখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। আর এমন নির্যাতন চালানো হয় তার মৃত্যুর দুই থেকে চার ঘণ্টা আগে। এছাড়া তার শরীরে চামড়ার নিচ থেকে প্রায় ২ লিটার রক্ত পাওয়া গেছে।

সিসি ক্যামেরার ফুটেজ অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর রাত ৩টা ৯ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে স্বাভাবিক অবস্থায় রায়হানকে সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ধরে আনা হয়। পরে সকাল ৬টা ২৪ মিনিট ২৪ সেকেন্ডে ফাঁড়ি থেকে বের করা হয়। ৬টা ৪০ মিনিটে ভর্তি করা হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখানে সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে তিনি মারা যান। ওই হাসপাতালেই দুপুর ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ১৫ অক্টোবর সেই ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, রায়হানের মৃত্যুর দুই থেকে চার ঘণ্টা আগে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। সেই হিসাবে ফাঁড়িতে আনার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন চলে।