রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ থাকবে|258183|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৩ নভেম্বর, ২০২০ ১২:১৬
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ থাকবে

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ থাকবে

আলী রীয়াজ

আলী রীয়াজ যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর এবং আটলান্টিক কাউন্সিলের অনাবাসিক সিনিয়র ফেলো। সম্প্রতি আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের (এআইবিএস) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন এবং আগামী চার বছর এ দায়িত্ব পালন করবেন অধ্যাপক আলী রীয়াজ। বাংলাদেশ নিয়ে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় কাজ করে, তাদের একই ছাতার নিচে নিয়ে আসা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্কিত বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করে থাকে এআইবিএস। এর আগে দীর্ঘদিন বাংলাদেশ এবং ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন তিনি। ২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটিতে যোগ দেন এবং দশ বছর বিশ্ববিদ্যালয়টির সরকার ও রাজনীতি বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৭ সালে ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হয়। পাবলিক পলিসি স্কলার হিসেবে ‘উড্রো উইলসন ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর স্কলার্স’-এ কাজ করেছেন তিনি। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও রাজনৈতিক ইসলামের বিশেষজ্ঞ আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই অধ্যাপক নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, করোনা মহামারী এবং সাম্প্রতিক বিষয়াবলি নিয়ে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সম্পাদকীয় বিভাগের আহমেদ মুনীরুদ্দিন

দেশ রূপান্তর : অভূতপূর্ব করোনাভাইরাস মহামারীতে যখন সারা পৃথিবী নাকাল তার মধ্যেই বিশ্বব্যাপী নানা ধরনের উত্তেজনা বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধ যেমন তীব্র হয়ে উঠছে তেমনি চীন-ভারত সীমান্ত সংঘাতসহ নানা আঞ্চলিক ও মহাদেশীয় সংঘাতও নতুন রূপ নিচ্ছে। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, করোনা মহামারী এক্ষেত্রে একটা ‘স্মোকস্ক্রিন’ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মহামারীর আড়ালে পৃথিবীর বাণিজ্য ও সামরিক ভারসাম্যে নতুন মেরুকরণের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। আপনি বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

আলী রীয়াজ : সারা বিশ্বে বিভিন্ন ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে এটা ঠিক, কিন্তু এর কারণ যেমন করোনাভাইরাস নয় তেমনি করোনাভাইরাসকে স্মোকস্ক্রিন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে সেটাও আমার কাছে মনে হচ্ছে না। গত কয়েক দশক ধরে, বিশেষ করে গত এক দশক ধরে, ভূ-রাজনীতির নতুন সমীকরণ হচ্ছিল এটা তারই অংশ। চীনের উত্থান ও প্রভাব বিস্তারের জন্য আগের চেয়ে আগ্রাসী ধরনের চেষ্টা সহজেই চোখে পড়ে, কিন্তু সেটা একমাত্র বিষয় নয়; অন্যত্রও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাব বাড়ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব হ্রাস পাচ্ছিল। এ ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈদেশিক নীতি, একলা চলার নীতি, নেতৃত্ব দিতে অনীহা, বিভিন্ন বহুজাতিক কাঠামো থেকে সরে আসা এগুলো বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে। যে মেরুকরণ দেখছেন সেটা করোনাভাইরাস না হলেও হতো বলেই আমি মনে করি।

দেশ রূপান্তর : চলমান এই মহামারীর মধ্যেই রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশও নানামুখী চাপে পড়েছে। আগস্টের শেষদিকে আকস্মিকভাবে ঢাকা সফরে এসেছিলেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব। ওই সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক করার কথা আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে ছাপা হলেও সরকার এ বিষয়ে কিছু বলেনি। এর কিছুদিন পরই ঢাকা সফর শেষে রোহিঙ্গা সংকটে চীনের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন ই বিগানের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ঢাকার চীনা দূতাবাস। রোহিঙ্গা সংকট এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ কি চীন-ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের কোনো টানাপড়েনে পড়ছে বলে মনে করছেন?

আলী রীয়াজ : বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব বেড়েছে, অনেক দিন ধরেই বেড়েছে। তার কারণ হচ্ছে পৃথিবীর অর্থনীতির ভরকেন্দ্র এশিয়ার দিকে সরে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্র-ভারত-চীনের ভারত মহাসাগর-কেন্দ্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার একটা ক্ষেত্র আপনি চাইলে থিয়েটার বলতে পারেন। গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ ভারতের দিকে ঝুঁকে ছিল এখনো আছে; কিন্তু এই ঝুঁকে থাকাটা আঞ্চলিক-বৈশ্বিক রাজনীতির বিবেচনায় ছিল না, ছিল অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিবেচনায়। এখন ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় বাংলাদেশকে ভূ-রাজনীতির বিবেচনাকে গুরুত্ব দিতে হচ্ছে। এখন যে টানাপড়েন দেখছেন সেটা এই বিবেচনাগুলো থেকেই একসময় এমনভাবে বলা হতো যেন বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে ভারতের বিকল্প নেই, হঠাৎ করে বলা হলো চীন হচ্ছে ভারতের বিকল্প। সাম্প্রতিককালে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগ মনে করিয়ে দিচ্ছে যে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের একটা স্টেইক আছে, সেটা কেবল ভারত-নির্ভর নাও হতে পারে। রোহিঙ্গা সমস্যাকে কেন্দ্র করে যেসব কথাবার্তা সেগুলো এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে স্পষ্ট করে দিচ্ছে।

দেশ রূপান্তর : বৈশ্বিক এই মহামারীতে বাংলাদেশের অভিবাসী শ্রমিকদের নিয়ে নতুন উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। বিপুলসংখ্যক অভিবাসী শ্রমিক দেশে ফিরে এসেছেন এবং অনেকেরই ফিরে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে আমরা দেখছি মহামারীকালেও প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের নতুন রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। আবার সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের দেশগুলোতে প্রবাসী শ্রমিক পাঠানো নিয়ে সমস্যায় পড়েছে বাংলাদেশ। প্রবাসে শ্রমবাজার রক্ষা এবং নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টিতে বাংলাদেশের করণীয় কী বলে মনে করেন?

আলী রীয়াজ : বাংলাদেশের করণীয় হচ্ছে যে সব দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার আছে তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও বেশি শক্তিশালী করা, ঐ সব দেশের উদ্বেগের বিষয়গুলো ধর্তব্যে নেওয়া, তাদের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা বুঝে সেই হিসেবে আগামী দিনে সেই পরিকল্পনায় কী ধরনের শ্রমবাজার তৈরি হবে সেই অনুযায়ী মানবসম্পদ তৈরির দিকে নজর দেওয়া। সবচেয়ে বেশি দরকার এটা বোঝা যে, এখন রেমিট্যান্স বাড়ছে মানে সেটা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এমন নিশ্চয়তা নেই; এখন কেন বেড়েছে সেটা অনুসন্ধান করলেই এটা যে সাময়িক তা বোঝা যাবে। আর একটা কথা হচ্ছে, প্রবাসী শ্রমিকদের স্বার্থ, স্বাস্থ্য এবং নিরাপত্তার বিষয়ে আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়া, মানবিক হওয়া। সরকারের আচরণ অনেক সময় অমানবিক বলেই প্রতীয়মান হয়।

দেশ রূপান্তর : অতিসম্প্রতি ফ্রান্সে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শনকে ঘিরে উত্তেজনা এবং ফরাসি প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের জেরে আরও কয়েকটি মুসলিম দেশের মতোই বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ফরাসি পণ্য বর্জন এবং ঢাকায় ফরাসি দূতাবাস বন্ধের ডাক দিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে ইসলামপন্থি দলগুলো। ফ্রান্সসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এর কি কোনো প্রভাব পড়তে পারে?

আলী রীয়াজ : আমার মনে হয় না যে, এই নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে। ইসলামপন্থিদের এই আহ্বানের পরে বাংলাদেশে ফরাসি পণ্য বিক্রি কি কমেছে? আমার তা মনে হয় না। ফরাসি সরকারের ভূমিকা ঠিক হয়েছে কি না, বাক-স্বাধীনতার আদৌ সীমা থাকা উচিত কি না এই সব আলোচনার অবকাশ এখানে নেই। কিন্তু যেটা আমার নজরে এসেছে সেটা বলে রাখি। এই প্রথম বাংলাদেশের ইসলামপন্থিরা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে দাবি করে সরকারের কাছ থেকে কিছু আদায় করতে পেরেছে। বাংলাদেশ সরকারের যে অবস্থান সেটা চাপের মুখে নেওয়া অবস্থান। এটা দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটা ইঙ্গিত দেয় সেটা যেন আমাদের নজর এড়িয়ে না যায়।

দেশ রূপান্তর : বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রাক্কলনেও দেখা যাচ্ছে করোনা মহামারীর প্রভাব সত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতি অগ্রসরমান রয়েছে এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধিসহ নানা ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। অবশ্য দেশে প্রবলভাবে বেকারত্ব বাড়ছে এবং পদ্মা সেতুসহ বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের গতি ধীর হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে প্রবাসী শ্রমবাজার, বাণিজ্য-ভারসাম্য এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তেমন কোনো সাফল্য দেখা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এবং কূটনৈতিক তৎপরতায় কোনো ঘাটতি আছে বলে মনে করেন কি?

আলী রীয়াজ : বাংলাদেশের জিডিপি’র হিসাব নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক আছে, সরকারি তথ্যের ব্যাপারে অর্থনীতিবিদরা সংশয় প্রকাশ করেছেন। ফলে আমি এই প্রবৃদ্ধির হিসাব নিয়ে খুব বেশি উত্তেজিত হই না। আমার কাছে যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হচ্ছে দেশের সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনে এবং তাদের আয়-রোজগারের ওপরে করোনাভাইরাসের যে প্রভাব পড়েছিল সেটা থেকে তারা মুক্তি পাচ্ছেন কি না, যে ক্ষতি হয়েছে সামনের দিনে তারা তা সামলে উঠতে পারবেন কি না, অনেকে এতদিনের সঞ্চয় ভেঙে মাসের পর মাস চলেছেন তাদের ভবিষ্যৎ কী হবে। বড় ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতির একটা অন্যতম কারণ হচ্ছে দুর্নীতি, প্রকল্প অব্যাহত রাখলে তার ব্যয় বাড়িয়ে আরও দুর্নীতির সুযোগ থাকে।

প্রশ্ন হচ্ছে প্রবাসী শ্রমবাজার, বাণিজ্য-ভারসাম্য এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কী করতে পারে। শ্রমবাজারের ব্যাপারে আরও বেশি প্রো-অ্যাক্টিভ হওয়া দরকার, শুধু সংকট হলেই সমাধান খোঁজা নয়; দরকার সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অর্থনীতির গতিমুখ বুঝে পরিকল্পনা করা বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা রেমিট্যান্স নিয়ে গর্ব করেন, যারা এই রেমিট্যান্স আয় করেন তাদের ব্যাপারে দায়িত্ববোধ অনুভব করেন না। আর ভূ-রাজনীতিতে সাফল্যের জন্য দরকার ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক ভাগ্য এবং জাতীয় স্বার্থকে আলাদা করা।

দেশ রূপান্তর : যুক্তরাষ্ট্রের ৪৬তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জো বাইডেন নির্বাচিত হয়েছেন। তার নির্বাচনী ইশতেহার এবং আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের বিশ্লেষণ বলছে, জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে প্যারিস চুক্তিতে যোগ দেবে বাইডেন নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে জাতিসংঘ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রেও তিনি জোর দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বের সঙ্গেও বাইডেন প্রশাসনের ভূমিকার ইতিবাচক রূপান্তর আশা করছেন বিশ্লেষকরা। এসব পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কতটা লাভবান হতে পারে বলে মনে করেন। বিশেষত রোহিঙ্গা সংকট নিরসন এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ক্ষেত্রে কি আমরা বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন আশা করতে পারি?

আলী রীয়াজ : বাইডেন প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে; এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকাতে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়া হবে বলেই অনুমান করা যায়। বহুজাতিক চুক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিশেষ করে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় যুক্তরাষ্ট্র যোগ দিলে এই সব চুক্তির বাস্তবায়ন এবং প্রতিষ্ঠানের কাজে গতি আসবে যা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হবে। বাংলাদেশ এ থেকে লাভবান হবে।

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে জো বাইডেন নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ থাকবে সেটা যেমন মানবিক বিবেচনায় তেমনি ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায়, কিন্তু তা থেকে বাংলাদেশ যদি সুবিধা পেতে চায় তবে তার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতি দরকার গত কয়েক বছরে নেওয়া পদক্ষেপের থেকে ভিন্নভাবে ভাবতে হবে। সেটা করতে বাংলাদেশ আগ্রহী কি না সেটা একটা বড় বিষয়, তার সঙ্গে ঝুঁকিও আছে সেটা হিসাব করেই বাংলাদেশকে এগুতে হবে। এসব বিবেচনায় জাতীয় স্বার্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি নিতে হবে।

বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নয়নের সুযোগ থাকবে। কিন্তু তার জন্য দরকার হবে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, মতপ্রকাশের অধিকার এবং শ্রমিক অধিকারের বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া, সেটা বাংলাদেশের নিজস্ব উদ্যোগে করলে সম্পর্কোন্নয়ন সহজতর হবে। এগুলোকে এড়িয়ে গিয়ে খুব বেশি দূর যাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। অভিবাসনের ক্ষেত্রে যে সব বাধা ট্রাম্প প্রশাসন তৈরি করেছে সেগুলো তুলে নেওয়া হবে; অভ্যন্তরীণভাবে কিছু পরিবর্তন আসবে যা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও সুবিধা পেতে পারেন। কিন্তু অভিবাসনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

দেশ রূপান্তর : আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

আলী রীয়াজ : আপনাকে এবং দেশ রূপান্তরকেও অনেক ধন্যবাদ।