ডিসি-ইউএনওদের গুরুত্বে আ.লীগ নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ|258323|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০
ডিসি-ইউএনওদের গুরুত্বে আ.লীগ নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ
পাভেল হায়দার চৌধুরী

ডিসি-ইউএনওদের গুরুত্বে আ.লীগ নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের প্রতি জেলায় গৃহহীনদের মধ্যে ঘর উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়। সারা দেশে গৃহহীন এক লাখ পরিবারকে ঘর উপহার দেবে সরকার, মন্ত্রিসভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়। সব জেলায় এ লক্ষ্যে কাজ এগিয়ে চলছে। কোনো স্তরের জনপ্রতিনিধিকে এ কাজে সম্পৃক্ত করেনি সরকার। ঘর কারা পাবেন, কীভাবে নির্মাণ হবে এ প্রকল্পের ঘর সব কাজের সম্পূর্ণ তদারকিতে রাখা হয়েছে স্থানীয় জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও)। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন স্তরের নেতারা। আওয়ামী লীগের অন্তত এক ডজন নেতা এ কাজে জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত না করায় সমালোচনা করছেন। রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ হুকমির মুখে পড়ার আশঙ্কায় নাম প্রকাশ করে ক্ষোভ জানাতে পারছেন না দলের কেউ। তাদের প্রশ্ন, জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গৃহহীনদের মধ্যে যেসব ঘর উপহার দেওয়া হবে তা নির্মাণের ব্যয়ভার বহন করবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও দায়িত্বশীল নেতারা। আর তদারকি করবেন ডিসি-ইউএনওরা এটা কেন?

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর গুরুত্বপূর্ণ একজন সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, গৃহহীন কারা অন্তত সেই তালিকা করার জন্য এলাকার জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। অথচ তালিকাও ডিসি-ইউএনওরা করবেন গৃহহীনদের চিনবেন কীভাবে? তারা কি স্থানীয়?

ক্ষোভ প্রকাশ করে দলটির এক সভাপতিমন্ডলীর সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় অথচ রাজনীতিকরা উপেক্ষিত। করোনাকালীন থেকে জনসেবার বিভিন্ন কাজে রাজনীতিকদের বাইরে রাখার নতুন সংস্কৃতি শুরু হয়েছে। এটা কি রাজনীতির জন্য অশনিসংকেত নয়? এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবেও জনসেবায় সম্পৃক্ত রাখা না হলে ভোটের সময় জনগণের সামনে দাঁড়াবেন কীভাবে তারা? এটা কি ভাবছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। তাছাড়া এ প্রকল্পের ব্যয়ভার বহন করবেন জনপ্রতিনিধিরা আর ক্রেডিট যাবে ডিসি-ইউএনওদের ঘরে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিক নেতাদের গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। তিনি মনে করেন, করোনাকালীন ত্রাণ লুটপাটের অভিযোগে রাজনীতিকদের গায়ে এক ধরনের কালিমা লেপন করা হয়েছে। এখন সেটিকে পুঁজি করে এক ধরনের আমলাচক্র রাজনীতিক নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের এসব কাজ স্থানীয় প্রশাসনের হস্তগত করে নেওয়া হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর এক সদস্য আরও বলেন, গৃহহীনদের মধ্যে ঘর বিতরণ করার যে প্রজেক্ট তার আর্থিক ব্যয় বহন করছেন প্রত্যেক জেলার আওতাধীন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌরসভা মেয়র ও স্থানীয় এমপিরা। যারা প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের কর্মী। দলীয় কর্মীদের তদারকি করার কাজে না রেখে এ প্রকল্পের সুফল ও সুনাম ডিসি-ইউএনওদের পকেটে চলে যাচ্ছে। জনপ্রতিনিধিদের যুক্ত থাকার সুযোগ না দেওয়ায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ও রাজনৈতিক নেতারা রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, পিছিয়ে পড়ছেন বলে দাবি করেন ওই নেতা।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমন্ডলীর গুরুত্বপূর্ণ এক নেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, রাজনীতিকদের কাজ প্রশাসনকে দিয়ে করানোর কারণ আমাদের অজানা। তিনি বলেন, আর্থিক ব্যয় বহন করবেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আর সুফল যাবে স্থানীয় প্রশাসনের ঘরে। এর কারণ কারোরই জানা নেই। স্থানীয়ভাবে এখন ডিসি-ইউএনওরা গুরুত্বপূর্ণ জনগণের কাছে। আমরা নিগৃহীত। এর পরিণাম ফল নিশ্চয়ই মিষ্ট হবে না রাজনীতিকদের জন্য। সম্পাদকমন্ডলীর ওই নেতা বলেন, এসব কাজের জন্য আমাদের পস্তাতে হবে। কিন্তু তখন সংশোধনের সুযোগ পাওয়া যাবে না।

দলের সভাপতিমন্ডলীর এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্থানীয়ভাবে কারা ঘর পাবে কারা পাবে না সেই তালিকাও ডিসি-ইউএনওরা করছেন। সেখানেও জেলা-উপজেলার দলীয় নেতাদের যেমন গুরুত্ব নেই তেমনি জনপ্রতিনিধিরাও গুরুত্বহীন। তিনি আরও বলেন, দলীয় নেতারা এসব কাজে সম্পৃক্ত হলে দুর্নীতি-স্বজনপ্রীতি হবে, সরকারের মাথায় এমন একটি ধারণা ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। করোনাকালীন কিছু জনপ্রতিনিধির নামে নয়-ছয় করার অভিযোগ তুলে রাজনীতিক নেতাদের বিতর্কিত করা হয়েছে এবং সেবামূলক কাজগুলো থেকে কৌশলে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগামীর রাজনীতিতে এর কুফল সবাইকে ভোগ করতে হবে।