পরামর্শক খাতে ২১৫ কোটি টাকা চায় এলজিইডি|258462|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০
দুই বছর পর উপজেলা শহর মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন প্রকল্প সংশোধনী
পরামর্শক খাতে ২১৫ কোটি টাকা চায় এলজিইডি
মামুন আব্দুল্লাহ

পরামর্শক খাতে ২১৫ কোটি টাকা চায় এলজিইডি

সংসদ নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে ‘উপজেলা শহর (নন-মিউনিসিপ্যাল) মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন ও অবকাঠামো উন্নয়ন’ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু প্রকল্প পাসের ২ বছর পার হয়ে গেলেও ব্যয় হয়েছে মোট বরাদ্দের মাত্র ৬ শতাংশ। এখন বিভিন্ন খাত যুক্ত করে অতিরিক্ত ৩৫২ কোটি টাকা প্রকল্প সংশোধনের প্রস্তাব পাঠিয়েছে দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এর মধ্যে পরামর্শক নিয়োগে ব্যয় হবে ২১৫ কোটি টাকা। পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকল্প হাতে না নেওয়ার কারণে এমনটি হচ্ছে। নির্বাচনের আগে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ শীর্ষক দর্শনের আলোকে কিছু প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। এখন সেগুলো আবারও সংশোধন করে ঠিকঠাক করতে হচ্ছে। 

সম্প্রতি পরিকল্পনা কমিশনে এই প্রকল্পে প্রথম সংশোধনীর প্রস্তাব পাঠিয়েছে এলজিইডি। প্রস্তাবনা থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রকল্পের প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে প্রকল্পটি পাস হয়। ২০২২ সালের জুন নাগাদ এর কাজ শেষ করার কথা ছিল। সরকারের সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ৫৮টি জেলায় ২০৮টি উপজেলায় এটি বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে গত আগস্ট পর্যন্ত  প্রকল্পটির ক্রম-পুঞ্জীভূত ব্যয় ৮৭ কোটি ৮০  লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দে ৬.২১ শতাংশ।

এই অবস্থায় প্রকল্পের প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব পাঠিয়েছে এলজিইডি। প্রস্তাবে প্রকল্পের মেয়াদ আরও ২ বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের জুন নাগাদ মেয়াদ বাড়ানোর আবদার করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় ৩৫২ কোটি টাকার মধ্যে পরামর্শক সেবা খাতে ২১৫ কোটি ২৬ লাখ টাকা (পরামর্শক প্রতিষ্ঠান খাতে ১৮০ কোটি ৯০ লাখ টাকা ও ব্যক্তি পরামর্শক খাতে ৩৪.৩৬ কোটি টাকা) চাওয়া হয়েছে। এছাড়া পূর্ত কাজের রেট সিডিউল হালনাগাদকরণের (২০১৯ সাল) ফলে ১২৫ কোটি ১১ টাকা এবং প্রস্তাবিত বর্ধিত মেয়াদে প্রকল্পের প্রশাসনিক ও পরিচালন ব্যয় ১১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা বাড়তি ব্যয় হবে বলে জানানো হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে বিশ^ব্যাংকের ঢাকা অফিসের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া প্রকল্প হাতে নেওয়ার একটা পুরনো সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। প্রথমে কম ব্যয়ে অনুমোদন করিয়ে নেয়, পরে আবার ব্যয় বাড়ায়। এতে রাষ্ট্রেয় অর্থ অপচয় বাড়ছে। এ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

প্রকল্পের আওতায় ১৫টি উপজেলার সামগ্রিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন, নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত ১৬টি উপজেলার মাস্টারপ্ল্যান রিভিউ, ৫৭৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ; ৯৪০ মিটার ব্রিজ বা কালভার্ট, ২৮১.৬৫ কিলোমিটার ড্রেন, ৫৬৪টি পাবলিক টয়লেট, ১৮৮টি কসাইখানা, ১৮৮টি কাঁচাবাজার নির্মাণ করা হবে।  এছাড়া ১০ একর সমপরিমাণ ভূমি অধিগ্রহণও করা হবে।

প্রস্তাবনায় প্রকল্প সংশোধনের কারণ হিসেবে এলজিইডি বলছে, ১৮৮টি নন-মিউনিসিপ্যাল উপজেলা শহরের মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের পরিবর্তে সরকারের ‘আমার গ্রাম আমার শহর : প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নাগরিক সুবিধার সম্প্রসারণ’ শীর্ষক দর্শনের আলোকে ১৫টি উপজেলার সামগ্রিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং নগর উন্নয়ন অধিদপ্তর কর্তৃক প্রণীত ১৬টি উপজেলার মাস্টারপ্ল্যান রিভিউ করা হবে। এছাড়া পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি নিয়োগ এবং পূর্তকাজের রেট সিডিউল হালনাগাদকরণের (২০১৯ সাল) ফলে প্রকল্প ব্যয় বাড়বে।

প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, অনুমোদিত ডিপিপিতে ৪ জন ব্যক্তি পরামর্শক বাবদ ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকার সংস্থান রয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধিত ডিপিপিতে তা বৃদ্ধি করে ২৬ জন ব্যক্তি পরামর্শক বাবদ ৩৭ কোটি ৯৬ লাখ টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন বলছে, এটি যৌক্তিক নয়। কারণ পিপিআর অনুসরণপূর্বক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করা হলে উপজেলাগুলোর মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের সার্বিক দায়িত্ব পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ওপর পড়বে। সে ক্ষেত্রে একই কর্মপরিধি বিবেচনায় নিয়ে পুনরায় ব্যক্তি পরামর্শক নিয়োগ করা হলে কাজ দ্বৈততা হবে এবং সরকারের  অপচয় হবে।

প্রস্তাবে আউটসোর্সিং খাতে ২.৫০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হলেও এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের জনবল নির্ধারণ সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির সুপারিশ সংযোজন করা হয়নি। প্রশিক্ষণ খাতে ১.৫০ কোটি টাকার জায়গায় ২.৫০ কোটি টাকা বৃদ্ধি করে ৪ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে যৌক্তিক বলে প্রতীয়মান হয় না। এ বিষয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় আলোচনা করা হবে বলে জানায় পরিকল্পনা কমিশন।

অন্যদিকে প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি মাত্র ৬ শতাংশ হলেও গত জুন পর্যন্ত ব্যক্তি পরামর্শক খাতে ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এ বিষয়গুলো সভায় আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

মূল অনুমোদিত ডিপিপিতে ১৮৮টি নন-মিউনিসিপ্যাল উপজেলা শহরের মধ্যে ১৭৯টির প্রতিটি ৩ কিলোমিটার এবং ৯টির ৪ কিলোমিটার করে মোট ৫৭৫ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের সংস্থান ছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত সংশোধনীতে ১৮৮ নন-মিউনিসিপ্যাল উপজেলা শহরের মধ্যে ৬টি শহরের ১ কিলোমিটার, ২৯টি শহরের ২ কিলোমিটার, ১২০টি শহরের প্রতিটি ৩ কিলোমিটার করে সংস্থান রেখে ১৬টি শহরের প্রতিটিতে ৬ কিলোমিটার, ২টি শহরের প্রতিটিতে ৯ কিলোমিটার, ১টি শহরের প্রতিটিতে ১০ কিলোমিটার করা হয়েছে। যদিও মোট সড়কের দৈর্ঘ্য মূল ডিপিপিতে অনুরূপ অর্থাৎ ৫৭৫ কিলোমিটার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অপরদিকে মূল ডিপিপিতে প্রতিটি শহরে ৫ মিটার কালভার্ট নির্মাণ অর্থাৎ ১৮৮টি শহরে মোট ৯৪০ মিটার কালভার্ট নির্মাণের সংস্থান ছিল। কিন্তু প্রস্তাবিত ডিপিপিতে ১টি উপজেলা শহরের জন্যই ১০৫ মিটার সেতু নির্মাণ ও অপর দিকে ২টি উপজেলা শহরের জন্য যথাক্রমে ১৬ মিটার ও ১০ মিটার কালভার্ট নির্মাণের সংস্থান রেখে অবশিষ্ট ১৮৫টি উপজেলা শহরের জন্য কালভার্ট নির্মাণ হ্রাস করে মোট কালভার্ট নির্মাণের দৈর্ঘ্য মূল ডিপিপি’র অনুরূপ অর্থাৎ ৯৪০ মিটার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। যদিও অনুমোদিত ডিপিপিতে দেশের সুষম উন্নয়নসম্পদ সমবণ্টনের বিবেচনায় নন-মিউনিসিপ্যাল উপজেলা শহরগুলোর উন্নয়নে সমহারে বরাদ্দের সংস্থান রাখা হয়েছে। কিন্তু প্রস্তাবিত আরডিপিপিতে বিষয়টি প্রতিপালন করা হয়নি। এ বিষয়ে সভায় আলোচনা করা হবে।