বিআরটিসির চেয়ারম্যান হয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েন তৈমূর|258519|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০
বিআরটিসির চেয়ারম্যান হয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েন তৈমূর
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিআরটিসির চেয়ারম্যান হয়ে সম্পদের পাহাড় গড়েন তৈমূর

জাতীয় অন্ধ ও বধির সংস্থার অর্থ আত্মসাৎ, টাকার বিনিময়ে নিজ ভাই সাব্বির হত্যা মামলা নিয়ে ব্যবসাসহ আরও অনিয়মের খবর আসছে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও দলটির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাম-লীর সদস্য তৈমূর আলম খন্দকারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি ও তৎকালীন বিআরটিসির চেয়ারম্যান থাকাকালীন দুর্নীতি করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন তিনি।

বিগত ২০০১ থেকে ২০০৫ সাল অবধি বিআরটিসির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন সংস্থাটি হয়ে ওঠে অকেজো।

তিনি টাকার বিনিময়ে সরকারের কেনা কোটি কোটি টাকার বাস পছন্দের মহাজনদের লিজ দিয়ে বিআরটিসিকে করে ফেলেন সম্পদশূন্য। তিনি নিয়োগ বাণিজ্য করে ৫৩৭ জন অদক্ষ লোক নিয়োগ দিয়ে দেশব্যাপী আলোচনায় আসেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি থাকাকালে তৈমূর আলম স্বজনপ্রীতি, অযোগ্য ব্যক্তিদের পদায়ন করেন বলে অভিযোগ স্থানীয় নেতাকর্মীদের। তারা বলছেন, ওইসময় জেলা-উপজেলার নেতাকর্মীকে পদ পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। এভাবে গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। এ কারণে পরবর্তী কমিটিতে স্থান হয়নি তার। জেলা বিএনপি তখন থেকেই কাজী মনিরুজ্জামান, অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন, গিয়াসউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান ভূইয়া দিপু ও অধ্যাপক মামুন মাহমুদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

জানা যায়, তৈমূর আলম খন্দকারের নিজ জন্মস্থান নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার রূপগীতে রয়েছে অঢেল জমিজমা।

নারায়ণগঞ্জের মাইজ ও কাজীর লালমাটিয়ায় নিজ নামে ১৭ শতাংশ জমিতে রয়েছে ছয় তলা বাড়ি। এছাড়া রয়েছে রাজউকের কাছ থেকে পাওয়া পাঁচ কাঠার প্লট। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ঢাকার তোপখানা রোডে মেহেরবা প্লাজা ও সেগুনবাগিচায় তিনটি ফ্ল্যাট এবং ফতুল্লায় বিসিক এলাকায় প্লট। স্টেডিয়াম মার্কেট, জোরায় সাহারাসহ রাজধানীয় বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে নামে-বেনামে দোকান ও ফ্ল্যাট।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে গতকাল শনিবার অ্যাডভোকেট তৈমূর আলম খন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিআরটিসির চেয়ারম্যান থাকাবস্থায় আমি দুর্নীতি করেছি এ কথা কেউ বলতে পারবে না। বরং আমার সময়ে এ প্রতিষ্ঠান লাভজনক ছিল। তৎকালীন সময়ে বিআরটিসির হিসাব যাচাই করলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে।’

তৎকালীন জেলা বিএনপির কমিটি গঠনে আর্থিক অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি থাকাবস্থায় কমিটি গঠনে আমি কোনো অনিয়ম করিনি। আর্থিক অনিয়ম তো দূরের কথা। দলের হাইকমান্ড এ বিষয়ে বলতে পারবে।’