চিকিৎসা ও পরীক্ষায় ইচ্ছামতো ফি নয়|259341|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৯ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০
চিকিৎসা ও পরীক্ষায় ইচ্ছামতো ফি নয়
প্রতীক ইজাজ

চিকিৎসা ও পরীক্ষায় ইচ্ছামতো ফি নয়

সরকারি চিকিৎসক ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কঠোর হচ্ছে সরকার। এখন থেকে কোনো সরকারি চিকিৎসক অফিস সময়ে বাইরে বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখতে ও ব্যক্তিগত চেম্বারে প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। এমনকি সরকারি চাকরিরত অবস্থায় কোনো বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকে খন্ডকালীন চাকরিও করতে পারবেন না তারা।

পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিকের রোগীদের চিকিৎসা ও রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ইচ্ছেমতো ফি নেওয়া বন্ধ করতে যাচ্ছে সরকার। এজন্য আগামী রবিবার বেসরকারি হাসপাতাল মালিক, তাদের সংগঠন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করা হবে। সে কমিটি দেশব্যাপী এসব বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ফি নির্ধারণ করে দেবে। কমিটি গঠনের পর ৩০ দিনের মধ্যে সমন্বিতভাবে এসব ফি বেঁধে দেবে সরকার।

যেসব বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার গত ১৬ নভেম্বরের মধ্যে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেনি, সেগুলোকে অবৈধ ঘোষণা করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এমনকি আবেদনকারীদের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠানের সেবার মান ভালো নয়, সেগুলোসহ লাইসেন্সবিহীন বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের চিঠি দিয়েছে।

গত মঙ্গলবার ও গতকাল বুধবার দুটি পৃথক সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্স কমিটি এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের যৌথ সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অবশ্য বৈঠকে বেসরকারি হাসপাতালের মালিক ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা এসব সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করলেও এগুলো বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

বেসরকারি হাসপাতালের মালিক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এর আগেও কয়েক দফায় এসব ব্যাপারে সরকারি চিকিৎসক ও বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের সতর্ক করা হয়েছে। চিঠি দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকেই এসব ব্যাপারে বারবার সতর্ক করে আসছেন। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের নজরদারির অভাবে ও আইনের প্রয়োগ না থাকায় এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা যায়নি।

বিশেষ করে দেশব্যাপী বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে একটা নিয়মের মধ্যে আনতে সরকারের বাস্তবমুখী কোনো উদ্যোগ নেই বলেও জানান বেসরকারি হাসপাতালের মালিক ও সরকারি কর্মকর্তারা। তারা বলেন, সরকার এখন ফি নির্ধারণ করে দিলে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ছোট ছোট হাসপাতাল-ক্লিনিকগুলো বন্ধ হয়ে যাবে। তারকামানের বড় হাসপাতালগুলোকে সরকারি ফি মানানো কঠিন হয়ে পড়বে।

গতকাল বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা আনতে হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াও বিভিন্ন সেবার ‘ফি’ নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি সেবার মান ও সুযোগ-সুবিধা অনুযায়ী দেশের বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ‘ক্যাটাগরিও’ নির্ধারণ করা হবে। যে চার্জ নির্ধারণ করে দেওয়া হবে সেগুলো ডিসপ্লে করতে হবে। সেখানে থাকবে এই ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ সেবা দেওয়া হয়, এ সেবার মূল্য এই। যেটা তারা একটা বোর্ডে দিয়ে দেবেন, যেটা সরকারি হাসপাতালে আছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, জনগণ যাতে প্রতারিত না হয়। জনগণ যাতে সঠিক মূল্যে চিকিৎসা পায়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা সঠিক মূল্যে করতে পারে। আমরা কমিটি গঠন করে দেব। কমিটি আস্তে আস্তে তাদের নিয়ে এ কাজগুলো করে সুন্দর একটি সমাধান দেবে।

এর আগে গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্স কমিটি বৈঠক করে। সেখানে চারটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এগুলো হলো ১. অফিস সময়ে সরকারি হাসপাতালের কোনো চিকিৎসক বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকতে পারবে না। কোনো কারণে কর্মরত অবস্থায় থাকলে টাস্কফোর্স ও সংশ্লিষ্টদের অবগত করতে হবে। ২. হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ল্যাব ও ক্লিনিকগুলোতে লাইসেন্স নিবন্ধন নম্বর স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে। ৩. টাস্কফোর্স কর্র্তৃক সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিদর্শন বা অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। ৪. ১৬ নভেম্বরের মধ্যে অনিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোর লাইসেন্স গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মুহাম্মদ খুরশীদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এটা নতুন করে বলার কিছু নেই। কোনো আইনেই পড়ে না। সরকারি আইন বা চাকরিবিধির মধ্যেই পড়ে না যে সরকারি চাকরির সময়ে সে বাইরে কাজ করবে। সরকার তো এ সময়টা তার কাছে থেকে কিনে নিয়েছে। এটা নজরদারিতে আনতে হবে। সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনিটরিং। তবে যতই আইন করি না কেন, ব্যক্তি মানুষ হিসেবে আমরা যদি জীবনযাপন চর্চায় সৎ না হই, কতক্ষণ একটা লোককে পাহারা দিয়ে রাখবেন? সরকারি আচরণবিধির মধ্যে এখন শুদ্ধাচার শেখানোর জন্য বলা হয়েছে। সরকার এ সময়টা আমার কাছে থেকে কিনে নিয়েছে, এ সময়টা সরকারি হাসপাতালে সার্ভিস দিতে হবে। অফিসের পর বাইরে কাজ করেন। যদি কেউ এ নিয়ম না মানে তাকে কঠিন শাস্তির আওতায় আনতে হবে। যে শাস্তি দেখে অন্যরা যেন সিদ্ধান্ত নেয় যে এমন কাজ করা যাবে না। কারণ আমাদের দেশে শাস্তি ছাড়া কিছু মানাতে পারি না। আইনি প্রয়োগ না থাকার কারণেই এ কথাটা এসেছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ উদ্দিন মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ ব্যাপারে আমরা অনেকবারই সতর্ক বাণী দিয়েছি। কোনো সরকারি ডাক্তার অফিস টাইমে প্রাইভেট কোনো হাসপাতাল বা ক্লিনিকে প্র্যাকটিস করতে পারে না। যদি কেউ করে ও সেটা ধরা পড়ে তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। অনেকবারই সতর্ক করেছি। অনেকেই নিয়মে এসেছে। দু-চারজন নিয়ম মানছে না। তাদের যেন নিয়মে আনতে পারি, সেজন্যই নতুন করে হুঁশিয়ারি করা হলো।

যেসব ডাক্তার অফিস টাইমে বাইরে প্র্যাকটিস করেন, তাদের ব্যাপারে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয় কি না জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, এসব ক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ কিছু জানায় না। আমাদের দেশে যেসব বেসরকারি হাসপাতাল আছে, সেখানে সরকারি ডাক্তাররা দুপুর ২টার পর প্র্যাকটিস করেন। সেটা করতে পারে। কিন্তু সেখানে খ-কালীন বা অন্য যেকোনোভাবে চাকরি করতে পারেন না। প্র্যাকটিস করতে হলেও তাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুমতি নিতে হবে। কিন্তু খ-কালীন চাকরি করতে পারবে না। আমাদের যে লাইসেন্স দেয়, সেখানে লেখা আছে, কর্র্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে।

তিনি বলেন, এ আইন এখনো আছে, কিন্তু অনেক ডাক্তার মানছে না। সেজন্যই আমরা সতর্ক করে চিঠি দিচ্ছি। সবাই যাতে মানে সেজন্যই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যদি অফিস টাইমে কোনো ডাক্তার বাইরে প্র্যাকটিস করেন তবে তার লাইসেন্স বাতিল হতে পারে, বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হতে পারে, জরিমানা হতে পারে।

নিবন্ধনের ব্যাপারে এ কর্মকর্তা জানান, যারা আদৌ অনলাইনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেননি, তাদের জন্য একটা সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, ১৬ নভেম্বরের পর তারা আবেদন করলে সেটা নেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে আমরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ও সিভিল সার্জনদের একটা চিঠি দিয়েছি। যেসব ক্লিনিক অনলাইনে আবেদন করেনি এবং যারা আবেদন করেছে কিন্তু সেবার মান ভালো নয়, এগুলোর তালিকা করতে বলেছি। পাশাপাশি তালিকা ধরে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। ক্লিনিক পরিদর্শনের ব্যাপারে পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ উদ্দিন মিয়া বলেন, এটা নিয়মিত কাজ। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এককভাবে করতে পারবে না। টাস্কফোর্সের সঙ্গে যৌথভাবে করবে।

বেসরকারি হাসপাতালে ফি নির্ধারণের ব্যাপারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মুহাম্মদ খুরশীদ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেটা প্ল্যান হয়েছে প্রাইভেট যতগুলো সংস্থা আছে তাদের অ্যাসোসিয়েশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ একটা কমিটি হবে। তাদের ৩০ দিন সময় দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে তারা যাচাই-বাছাই করে সব তথ্য উপস্থাপন করবে। কমিটি মন্ত্রণালয় করে দেবে। আগামী রবিবার এ কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি হলেই কাজ শুরু হবে।

সিদ্ধান্তের ব্যাপারে এ কর্মকর্তা বলেন, দেশের মানুষের জন্য অবশ্যই এটা ভালো সিদ্ধান্ত। চার্টার অব সিটিজেন, অর্থাৎ হাসপাতালের সামনে একটি দৃশ্যমান জায়গায় কী কী সেবা, সেই সেবাগুলোর দাম কত এগুলো যদি থাকে, তাহলে হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো উল্টোপাল্টা দাম ধরতে পারবে না। এটা সরকারি হাসপাতালেও বাধ্যবাধকতা করা হয়েছে যে সব হাসপাতালের সামনে দেখানোর জন্য তালিকা রাখতে হবে। এটা কোনো কোনো হাসপাতালে হয়েছে। যেগুলোতে হয়নি তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে করার জন্য। সবাই দেখে জানতে পারবে কোন পরীক্ষার কত দাম।

অবশ্য এ দুই সিদ্ধান্তের ব্যাপারে পক্ষে ও বিপক্ষে দুই ধরনের মত দিয়েছেন বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ও শমরিতা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এবি হারুন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকার আমাদের সঙ্গে সমন্বয় ও আলোচনা করেই ফি নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেবে। কমিটিতে আমাদের অ্যাসোসিয়েশনের মেম্বার থাকবে। ইতিমধ্যেই দুই-তিনটা মিটিং হয়েছে। দুটো সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটা হচ্ছে সাধারণভাবে ফি নির্ধারণ ও করোনার সময় মানুষকে বিশেষ সেবা দেওয়ার জন্য করোনা সম্পর্কিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সাত-আটটা টেস্টের ফি নির্ধারণ করে দেবে। আমরা ইতিমধ্যেই একটা খসড়া জমা দিয়েছে। এতদিন একটা রিজনেবল ফি ছিল। সরকার সেটা সব বিভাগে বাস্তবায়ন করতে চায়।

এ সিদ্ধান্ত কেমন হলো এবং এভাবে কি হাসপাতালগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব জানতে চাইলে এ হাসপাতাল মালিক বলেন, পাঁচতারকা বা তারকা হাসপাতালগুলোর জন্য অসুবিধা হবে। কারণ বড় হাসপাতালগুলোর এস্টাবলিস্ট কস্ট বেশি। তাদের জন্য কঠিন হবে। ঢাকার বাইরে ছোট ছোট হাসপাতাল-ক্লিনিক বন্ধ হয়ে যাবে। যারা সরকারের বেসিক রুলস মানবে তারাই টিকে থাকবে।

সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন কতটুকু সম্ভব এ ব্যাপারে ডা. এবি হারুন বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে তো সরকারি সহযোগিতা নেই। বেসরকারি উদ্যোগে একটি হাসপাতাল হলে তাদের ব্যাংক থেকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া, যন্ত্রপাতি আনার ক্ষেত্রে সাহায্য করা, এগুলোর প্রতি সরকারের নেকনজর নেই। ফলে এভাবে ফি নির্ধারণ করে দিয়ে কিছুটা অসুবিধা হবে। তবে আমার মতে, হাসপাতাল চালাতে গেলে বেসরকারি হাসপাতালের মালিকদের সরকারি মূল নিয়মকানুন মানা উচিত। জোড়াতালি দিয়ে করা উচিত নয়। এটাতে সরকারের সঙ্গে এখানে আমরা একমত। কারণ জোড়াতালি দিয়ে একটি ভবনে ৮-১০টা বিছানা ফেলে দিয়ে একটি ক্লিনিক শুরু করে দিলাম, চীন থেকে দুই-তিনটা যন্ত্রপাতি এনে অপারেশন শুরু করে দিলাম, এগুলো হওয়া উচিত নয়। বেসিক জিনিস ও অবকাঠামো থাকা উচিত।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের টাস্কফোর্সের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে এ চিকিৎসক বলেন, সরকারি ডাক্তার সরকারি অফিস সময়ে বাইরে সেবা দিতে পারবে না। ওই সময়ের বাইরে পারবে। এটাকে আমরা সমর্থন করি। এ প্রবণতা আগে বেশি দেখা যেত। এখন অনেক ডাক্তার-নার্স হয়েছে। এখন অসুবিধা হবে না। জিনিসটা গোছানো দরকার। এটার জন্য সরকার দায়িত্ব নিলে হয়ে যাবে। এজন্য সরকারি ডাক্তারদের নিরাপত্তা দেওয়া, সুযোগ-সুবিধা দেওয়া, একটা চেম্বার তৈরির ব্যাপারে সাহায্য করা এগুলো করতে পারলে সরকারি ডাক্তাররা অফিস সময়ে বাইরে থাকবে না।