ট্রাম্পের পরাজয়ে জনতুষ্টিবাদ কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে|259586|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ নভেম্বর, ২০২০ ১১:৪৫
ট্রাম্পের পরাজয়ে জনতুষ্টিবাদ কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে

ট্রাম্পের পরাজয়ে জনতুষ্টিবাদ কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কার্লটন বিশ্ববিদ্যালয়, অটোয়া এবং অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। জাপানের ইয়োকোহামা সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বরত। তার প্রকাশিত গ্রন্থ : ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং টেররিজম ইন সাউথ এশিয়া : বিয়ন্ড স্ট্যাটিস্ট ডিসকোর্সেস’। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতি, বাইডেন প্রশাসনের সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক কৌশল, জনতুষ্টিবাদসহ আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে তিনি দেশ রূপান্তরের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অনিন্দ্য আরিফ

দেশ রূপান্তর : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজিত হওয়া সত্ত্বেও ডোনাল্ড ট্রাম্প হার মেনে নিতে সম্মত হচ্ছেন না। নির্বাচনোত্তর সহিংসতার ঘটনাও ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন-পরবর্তী এই পরিস্থিতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

ইমতিয়াজ আহমেদ : বিষয়টির দুটি দিক রয়েছে। প্রথমত, ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সব ইলেকটোরাল বসবে এবং লিখিত ভোট দেবে। তারা জানুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করবে না। এই সময়ে বোঝা যাবে যে, তারা শিফটিং করছে কি না। যদিও সব অঙ্গরাজ্যেই ইলেকটোরালদের শিফটিং করার বাধ্যবাধকতা নেই। এখন তারা যদি অভিযোগ তোলে নির্বাচনে কারচুপি হয়েছে কিংবা নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, তখন তা নির্ধারণের দায়ভার চলে যায় স্টেটের পার্লামেন্টের হাতে। এখন যেহেতু অনেক অঙ্গরাজ্যে রিপাবলিকনরা পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ, তাই তাত্ত্বিকভাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আশা রয়েছে যে, তারা তার পক্ষে ভোট দেবে। তবে আমার মনে হয় না বিষয়টি এত দূর যাবে। দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প এটা করছে তার রাজনৈতিক ভিত্তিটা ধরে রাখার জন্য। এ রকম উদাহরণ আমাদের দেশে দেখা যেত। আগে বলা হতো ‘হোয়াট বেঙ্গল সেইস টুডে, ইন্ডিয়া উইল সে টুমরো’। আর এখন বলা যায়, ‘হোয়াট বাংলাদেশ সেইস টুডে, ওয়ার্ল্ড উইল সে টুমরো’। আমাদের দেশে আগে দেখা যেত যারা নির্বাচনে পরাজিত হতো, তারা ফল মেনে নিত না। আসলে এটা করা হতো ক্যাডারদের ধরে রাখার জন্য, তারা যেন মনোবল না হারিয়ে ফেলে। এখন যুক্তরাষ্ট্রেও ঠিক ট্রাম্প একই কাজ করছেন, তার জনসমর্থনের ভিত্তি ধরে রাখার জন্য। এর ফলে বাইডেনের নেতৃত্বে ডেমোক্র্যাটরা যেসব পরিবর্তন করতে চাচ্ছেন, সেসব ক্ষেত্রে ট্রাম্প দরকষাকষি করার সুযোগ পাবেন। আর এই দরকষাকষির মাধ্যমে ট্রাম্পের যেসব ব্যক্তিগত সমস্যা রয়েছে, সেগুলো থেকে তিনি মুক্ত হতে পারেন। বাইডেন তো ইতিমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে তিনি কোনো প্রতিশোধ নেবেন না। এখন এটা তো প্রতিশোধের বিষয় নয়, আইনের বিষয়। তার মানে বোঝাই যাচ্ছে যে, বাইডেন শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন চাচ্ছেন। তিনি তো চাইলেই ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতেন। কিন্তু সেটা তিনি করছেন না এবং ট্রাম্পও এ ঘটনাগুলো ঘটিয়ে তার জনসমর্থন ধরে রাখতে চাইছেন। এর ওপর ভিত্তি করে তিনি দরকষাকষিতে যেতে পারবেন এবং এর ওপর ভিত্তি করে তিনি কিছুটা ছাড় পেতে পারবেন।

দেশ রূপান্তর : বাইডেন প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক কৌশলে কী বড় পরিবর্তন আসতে পারে?

ইমতিয়াজ আহমেদ : এখানে মনে রাখতে হবে বাইডেন কিন্তু ডেমোক্র্যাট দলের ডানপন্থি শিবিরের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন, তিনি কিন্তু বামপন্থি শিবিরের নন। তাই তার সঙ্গে রিপাবলিকান দলের নেতৃত্বের সঙ্গে খুব একটা তফাৎ নেই। তার পক্ষে ম্যাককেইনের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে যেমন কোনো সমস্যা ছিল না, আবার রিপাবলিকান দলের সিনেটরদের সঙ্গে কাজ করতেও সমস্যা নেই। তিনি কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো নব্যরাজনীতিবিদ নন। ট্রাম্প নব্যরাজিনীতিবিদ হওয়ায় এত সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। সেক্ষেত্রে বাইডেন হলেন পুরনো রাজনীতিবিদ। বাইডেন প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক কৌশলে খুব একটা বড় পরিবর্তন আসবে না বলে ধরে নেওয়া যায়। তবে এক্ষেত্রে কিছু পরিবর্তন হবে। এর মধ্যে একটা ইস্যু হলো জলবায়ু পরিবর্তন। কেননা, বাইডেন এ বিষয়ে নানা সময়ে অঙ্গীকার করে আসছেন। তবে এক্ষেত্রে যদি ডেমোক্র্যাটরা সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তাহলে বাইডেনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত রিপাবলিকানদের জন্য আটকে যাবে। এখনো সিনেটের দুটি আসনের ফল বাকি আছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ দুটিতে ডেমোক্র্যাটদের পরাজয় ঘটবে। এখন রিপাবলিকনরা যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে, তাহলে তো বাইডেনের ইচ্ছা সত্ত্বেও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে তারা ট্র্যাকিং বা তেল উত্তোলনের ক্ষেত্রে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারবে না। অনেকে বলছেন জো বাইডেনের প্রথম একশ দিনের কাজ হবে যুক্তরাষ্ট্রের কভিড-১৯ অতিমারীর যে ভয়াবহ অবস্থা দাঁড়িয়েছে, সেটা থেকে উত্তরণের প্রচষ্টা চালানো। তবে আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা শুধু প্রথম একশ দিন নয়, প্রথম তিনশ দিনেরই কাজে পরিণত হবে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্রে এখন যে অবস্থা চলছে, তা থেকে নিজেদের পুনরুদ্ধারের জন্য একশ দিন পর্যাপ্ত হবে না, তিনশ দিনের বেশিও লেগে যেতে পারে। তাই বাইডেন এখন এই অভ্যন্তরীণ বিষয়টিতেই জোর দেবেন। এখানে যেটা হতে পারে, সেটা হলো যুক্তরাষ্ট্র ট্রাম্পের সময় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল আর বাইডেনের সময় তারা এই বৈশ্বিক সংস্থায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। তখন তারা গ্লোবাল পার্টনারশিপের দিকে যাবে। কেননা, এই মহামারী তো শুধু নিজের দেশে নির্মূল করলে চলবে না, বাকি দেশগুলো থেকেও নির্মূল করতে হবে। নাহলে আবার বাইরের রাষ্ট্র থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ভাইরাস আবার ছড়িয়ে পড়বে। এজন্য তারা কভিড-১৯ মোকাবিলায় ভ্যাকসিনসহ নানা বিষয়ে গ্লোবাল পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে সচেষ্ট হবে। এখানে চীন একটা বড় ফ্যাক্টর। বাইডেন প্রশাসন এখন নানা সমীকরণ করে দেখতে চাইবে যে, চীনের সঙ্গে ট্রাম্পের সময়ে সৃষ্ট বৈরিতা তাদের জন্য ক্ষতি করেছে, নাকি এর ফলে লাভ হয়েছে। তারা যদি দেখে বৈরিতার ফলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে কিংবা অর্থনৈতিকভাবে লাভ হয়েছে, তাহলে তারা বৈরিতা বজায় রাখবে। আর যদি দেখে এর ফলে ক্ষতির পরিমাণ বেশি, তাহলে তারা চীনের সঙ্গে কভিড-১৯ মোকাবিলায় গ্লোবাল পার্টনারশিপ গড়ে তুলবে। এখন অবশ্য চীন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের পরে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৫টি দেশকে নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোট গড়ে তুলেছে এবং রিজিওনাল কম্প্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) শীর্ষক চুক্তিতে দেশগুলো স্বাক্ষর করেছে। এ জোটে জাপান, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ রয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সখ্য বজায় এসেছে। এখন বাইডেন এ দেশগুলোর উদাহরণ দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণকে বোঝাতে চেষ্টা করবেন যে, এরা যদি এরকম জোটে থাকে, তাহলে আমরা কেন থাকব না কিংবা চীনের সঙ্গে গ্লোবাল পার্টনারশিপ গড়ে তুলব না। তবে বাইডেন যে মার্কিন ভূরাজনৈতিক কৌশলে খুব একটা পরিবর্তন আনতে পারবেন, সেটা মনে হয় না।

দেশ রূপান্তর : আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয়ে বিশ্বব্যাপী জনতুষ্টিবাদ কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে। আপনি বিষয়টিকে কীভাবে দেখছেন?

ইমতিয়াজ আহমেদ : কিছুটা তো বিপর্যয় ঘটেছে। ট্রাম্প জয়ী হলে তো জনতুষ্টিবাদীদের জমিন আরও শক্ত হতো। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে দেখা গেছে যে, একজন জনতুষ্টিবাদী নেতৃত্বের বিপক্ষে যদি বড় ধরনের জোট গড়ে তোলা যায়, তাহলে তার পক্ষে ক্ষমতায় থাকা সম্ভব থাকে না। যুক্তরাষ্ট্রে এবার ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে বামপন্থিরা, পরিবেশবাদীরা, আফ্রো-আমেরিকানরা, এশিয়ানরাসহ নানা শক্তি একত্রিত হয়ে জোট গড়ে তুলেছিল। এদের একটা বড় অংশ ছিল নারী। এখান থেকে শিক্ষা নেওয়ার আছে। বিশেষ করে, আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের বিরোধী শক্তি এখান থেকে শিক্ষা নিতে পারে। জনতুষ্টিবাদকে পরাস্ত করতে বড় জোট তৈরি করার বিকল্প নেই। বিরোধী শক্তিগুলো বিভাজিত হলেই জনতুষ্টিবাদের লাভ হয়। তবে এটা নির্ভর করবে দেশগুলোর রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর। যদি কাঠামোতে সেরকম জনতুষ্টিবাদকে পরাস্ত করার মতো নেতৃত্ব না থাকে, তাহলে লাভ হবে না। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয়ে অবশ্যই জনতুষ্টিবাদের এক ধরনের সেটব্যাক তো ঘটেছেই, কেননা তিনি ছিলেন জনতুষ্টিবাদের সবচেয়ে বড় মডেল।

দেশ রূপান্তর : যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট স্টিফেন ই. বিগান রাষ্ট্রীয় সফরে এসে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত উদ্যোগ ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজিতে (আইপিএস) যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছেন। আইপিএসের মূল উদ্দেশ্য এই যে, চীন পশ্চিমের একমাত্র অর্থনৈতিক শত্রু, এবং ভারতীয়-প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য যেকোনো উপায়ে ঠেকাতেই হবে। কিন্তু বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির (আইপিএস) পক্ষে সমর্থন বা অসমর্থন কোনোটিই দেয়নি। আবার এদিকে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভূস্থানিক সহযোগিতামূলক ‘বেসিক এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কো–অপারেশনবেকা’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার একটা পরোক্ষ লক্ষ্য চীনকে প্রতিহত করা। এখন বাইডেন প্রশাসনের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের এ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে এ ধরনের নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসতে পারে?

ইমতিয়াজ আহমেদ : বাইডেন খুব সম্ভবত যুক্তরাজ্যের বরিস জনসন, ভারতের নরেন্দ্র মোদি কিংবা ব্রাজিলের বোলসোনারোর মতো জনতুষ্টিবাদীদের সঙ্গে সদ্ভাব বজায় রাখতে চাইবেন না। তাদের সঙ্গে ট্রাম্পের মাখামাখি নিশ্চয়ই তিনি ভালো চোখে দেখেননি। বিশেষ করে ভারতের মোদি সরকারের প্রশ্নে তার আগে থেকেই স্পষ্ট অবস্থান রয়েছে। ভারত সরকারের কাশ্মীরে সব মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া উচিত উল্লেখ করে বাইডেন আগে বলেছিলেন শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে না দেওয়া, ভিন্নমত প্রকাশে বাধা দেওয়া এবং ইন্টারনেট বন্ধ রাখা বা তার গতি কমিয়ে দেওয়া গণতন্ত্রকে দুর্বল করে। আসামে নাগরিকদের জন্য জাতীয় রেজিস্ট্রার বাস্তবায়নে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ এবং নাগরিকত্ব আইন সংশোধনে বাইডেন হতাশ হয়েছেন জানিয়ে বলেছিলেন, বহু জাতিগোষ্ঠী এবং বহু ধর্মীয় গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখা এবং দেশটির ধর্মনিরপেক্ষতার দীর্ঘ ঐতিহ্যের সঙ্গে এসব পদক্ষেপ সংগতিপূর্ণ নয়। আর এই এনআরসি এবং সিএএ’র বিরুদ্ধে তার ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস আরও সরব ছিলেন। তাই বাইডেনের সময় মোদি বা অন্য জনতুষ্টিবাদী সরকারগুলোর সামনে জনতুষ্টিবাদ থেকে সরে আসার বিকল্প নেই। আর বাইডেনের এ অবস্থানের জন্য এশীয় প্রশান্ত অঞ্চলের মেরুকরণে পরিবর্তন আসতে পারে। চীনের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্র আগের সেই ঠা-া যুদ্ধের পরিস্থিতিতে অবস্থান করবে না। বিশেষ করে এখন চীনের নেতৃত্বে যে আরসিইপি শীর্ষক চুক্তির মাধ্যমে বৃহত্তম বাণিজ্যিক জোট হলো, তাতে আগের অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব হবে না। এখানে তো জাপান, অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশ রয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের আইসোলেশন পলিসির কারণে হতাশ ছিল। এগুলো বাইডেন প্রশাসন বিবেচনা করবে। সবাই তো নিজের অর্থনৈতিক স্বার্থ দেখবে। এখন ভারতের মোদি সরকার যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনের আগে যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে ডেকে এনে সংবর্ধনা দিল এবং ভূস্থানিক সহযোগিতামূলক ‘বেসিক এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কো–অপারেশনবেকা’ চুক্তিতে স্বাক্ষর করল, এ ঘটনাকে আমার কাছে অপরিণত কাজ বলে মনে হয়েছে। আসলে মোদি মনে হয় ভেবেই নিয়েছিলেন যে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হবেন। কিন্তু বাস্তবে তার উল্টো ঘটায়, তার এই কাজ ভারতীয় জনগণের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তবে বাংলাদেশকে তার আগের পররাষ্ট্রনীতির মৌলিকতা রক্ষা করতে হবে। স্বাধীনতার আগে থেকেই আমরা সবার সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে আসছি। এখনো সবক্ষেত্রেই এটা বজায় রাখতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের শত্রু যেন আমাদের শত্রু না হয়, আবার ভারতের শত্রু কিংবা চীনের শত্রুও যেন আমাদের শত্রুতে পরিণত না হয়। আমরা সেরকম সম্পর্কই বজায় রেখে এসেছি। যেমন রোহিঙ্গা সংকট সত্ত্বেও আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রেখে আসছি। অন্য দেশ হলে পারত কি না সন্দেহ আছে। কারও কাছে আমরা সুযোগসন্ধানী হিসেবে প্রতিপন্ন হলেও, এই নীতি বজায় রেখে নিজেদের উন্নয়নের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।