শীত-বায়ুদূষণে বাড়ছে সংক্রমণ|259669|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০
শীত-বায়ুদূষণে বাড়ছে সংক্রমণ
দক্ষিণ এশিয়া
রূপান্তর ডেস্ক

শীত-বায়ুদূষণে বাড়ছে সংক্রমণ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো লকডাউন ব্যবস্থার ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। কিছুদিন আগেও দক্ষিণ এশিয়ায় করোনার সংক্রমণের নিম্নগতি লক্ষ করা যাচ্ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক প্রাপ্ত তথ্য বলছে, এই অঞ্চলে আসন্ন শীত ও বায়ুদূষণের কারণে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। আগামী কয়েক মাস এই অঞ্চলের জন্য বেশ সমস্যাপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সর্বাধিক সংখ্যক আক্রান্তের হিসাবে বিশ্বের শীর্ষ ৩০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশে করোনা পরীক্ষার হার সবচেয়ে কম। দেশটিতে প্রতি ১০ লাখে ১৫ হাজার ৭৬৯ জনের করোনা পরীক্ষা হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, করোনায় সংক্রমণের বাস্তবিক চিত্র আনুষ্ঠানিক চিত্রের তুলনায় অনেক গুণ বেশি। ভারতে কমবেশি ২ কোটি মানুষ করোনায় আক্রান্ত, যা দেশটির অফিশিয়াল তথ্যের চেয়ে ১০ গুণ বেশি। নয়াদিল্লি এবং লাহোরের মতো শহরগুলোতে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্যাপক ধোঁয়াশা লক্ষ করা গেছে। প্রতি বছর এ সময় এমনটা হয়। কারণ, এ সময় কৃষকরা জমি পুড়িয়ে নতুন শস্য উৎপাদনের প্রস্তুতি নেন।

ধোঁয়াশার মাত্রা অতিরিক্ত হওয়ায় দিল্লির বাতাসে শ্বাস নেওয়াও এখন কষ্টকর হয়ে গেছে। এই দূষণের কারণে মানুষের মধ্যে অ্যাজমা, চোখ ও নাকের সংক্রমণ এবং ফুসফুসে প্রদাহ বাড়ছে। বাতাসের এই অবস্থার কারণে মানুষের গলায় প্রদাহ বাড়ে। করোনার উপসর্গগুলোর মধ্যে গলায় খুসখুসে কাশি একটি। ফলে ওই কাশি বায়ুদূষণে নাকি করোনায়, তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে।

কিছু রিপোর্ট বলছে, বায়ুদূষণের কারণে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এতে মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছে। ইউরোপের একদল বিজ্ঞানীর করা রিপোর্ট বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার বাতাসে যে মাত্রায় দূষণ তাতে ওই অঞ্চলে করোনার সংক্রমণ ১৫ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে আগামী মাসগুলোতে। দ্য ইনস্টিটিউট ফর গেলথ মেট্রিকস অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন ইউনিভার্সিটির মতে, এই সময়ে মানুষ মাস্ক ব্যবহার করলে সংক্রমণের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। যদি প্রত্যেকে মাস্ক পরেন তাহলেও ডিসেম্বরের ৩১ তারিখের মধ্যে দিনে আড়াই লাখ ভারতীয় সংক্রমিত হবে। আর মাস্ক না পরলে এই সংখ্যা গিয়ে দিনে ৬ লাখ ১০ হাজারে ঠেকতে পারে।

বঙ্গোপসাগরের কৌশলগত সামরিক জোট কোয়াডের মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, জাপান এবং যুক্তরাষ্ট্র। এই জোটের পক্ষ থেকে দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি উন্নয়নে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও অঞ্চলের অন্য শক্তিধর দেশগুলোর উপস্থিতি না থাকায় পরিস্থিতি তেমন সুবিধার নয়।