ঘরেই বানানো যাবে হীরা|259670|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০
ঘরেই বানানো যাবে হীরা
রূপান্তর ডেস্ক

ঘরেই বানানো যাবে হীরা

সাধারণ মানুষের কাছে হীরা মানেই বহু মূল্যবান ধাতু। বিজ্ঞানীদের কাছে হীরা মানে কোটি কোটি বছর ধরে ভূগর্ভে সঞ্চিত থাকা কার্বনের স্ফটিক। অনেক আগেই বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম হীরা তৈরি করেছেন। কৃত্রিমভাবে তৈরি করতে উচ্চমাত্রার তাপ দরকার হয়। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (এএনইউ) একদল বিজ্ঞানী এবার ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেই হীরা তৈরি করে তাক লাগিয়েছেন।

সাধারণত কার্বন বা কয়লা ভূপৃষ্ঠের অনেক নিচে অতি উচ্চ তাপ ও চাপের মধ্যে শত শত কোটি বছর থাকার পর মহামূল্যবান হীরায় পরিণত হয়। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, তারা কয়েক মিনিটের মধ্যে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রাতেই হীরা তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। এএনইউ ও মেলবোর্নের আরএমআইটি ইউনিভার্সিটির নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক গবেষক দল জানিয়েছে, তারা ব্যালে নাচে ব্যবহৃত একটি জুতার ডগায় ৬৪০টি আফ্রিকান হাতির ভর পড়লে যে পরিমাণ চাপ সৃষ্টি হয়, প্রায় ততটা চাপ ব্যবহার করে ঘরোয়া তাপমাত্রাতেই কৃত্রিম হীরা তৈরি করেছেন। এই গবেষণার সঙ্গে দ্য ইউনিভার্সিটি অব সিডনি এবং ওক রিজ ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিও যুক্ত আছে।

গবেষকরা বলেছেন, তারা দুই ধরনের হীরা তৈরি করতে পেরেছেন। একটি হচ্ছে গহনায় ব্যবহৃত গতানুগতিক হীরা। অপরটি হলো দুর্লভ লোনসডেলাইট। লোনসডেলাইট অন্য হীরাগুলোর তুলনায় বেশি শক্ত। এগুলো সাধারণত কোথাও উল্কাপাত হলে তার আশপাশে পাওয়া যায়। এ ধরনের হীরা খনি খননের সময় অতিরিক্ত শক্ত কোনো পদার্থ কাটতে ব্যবহার হয়।

১৯৪০’র দশক থেকেই গবেষকরা কিছুটা কমদামি ও পরিবেশবান্ধব কৃত্রিম হীরা তৈরি করছেন। তবে এবারের গবেষণায় স্বাভাবিক তাপমাত্রায় লোনসডেলাইটের মতো হীরা তৈরি করতে পারায় বেশি খুশি তারা। এই প্রকল্পে কাজ করা এএনইউর গবেষক জিংশিং হুয়াং বলেন, এমন বিরল তবে অতিপ্রয়োজনীয় হীরা আরও বেশি তৈরি করাই এই কাজের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। গবেষণাগারে ঘরোয়া তাপমাত্রায় দুই ধরনের হীরা তৈরি করতে পারা বেশ উত্তেজনাপূর্ণ ছিল।

বিজ্ঞানীরা যে হীরা তৈরি করেছেন তা প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হতে ভূগর্ভের ১৫০ কিলোমিটার নিচে কয়লাকে ১০০ কোটি বছর ধরে থাকতে হবে। ভূগর্ভের ওই স্থানে প্রায় এক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে। ভূগর্ভের নিচে যে চাপ থাকে, সেই চাপ কৃত্রিমভাবে তৈরিতে আরএমআইটির গবেষক দ্যুগাল ম্যাককুল্লচ ব্যবহার করেছেন অত্যাধুনিক ইলেকট্রোন মাইক্রোস্কোপি পদ্ধতি।