গাঙকুমারীতে মোশাররফ করিম-জুঁই|259691|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০
গাঙকুমারীতে মোশাররফ করিম-জুঁই
মাসিদ রণ

গাঙকুমারীতে মোশাররফ করিম-জুঁই

স্বামী মোশাররফ করিমের সঙ্গেই ছোটপর্দার অভিনয়ে অভিষেক হয়েছিল রোবেনা রেজা জুঁইয়ের। এরপর তিনি অনেক নাটকে বৈচিত্র্যময় চরিত্রে অভিনয় করেছেন। কাজ করেছেন স্বামীর বাইরে অন্য অভিনেতাদের সঙ্গেও। তবে সিনেমায় পা রাখছেন স্বামীর সঙ্গেই। ‘গাঙকুমারী’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন মোশাররফ করিম ও রোবেনা রেজা জুঁই দম্পতি। এ সিনেমায় আরও আছেন জনপ্রিয় অভিনেতা তারিক আনাম খান। এরই মধ্যে সুনামগঞ্জের হাসাউড়া এলাকায় সিনেমাটির শ্যুটিং শুরু হয়েছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে অনুদান পাওয়া সিনেমাটি পরিচালনা করছেন ফজলুল কবীর তুহিন। গতকাল এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিনেমাটির পরিচালক। ফজলুল কবীর তুহিন বলেন, ‘১৫ তারিখ আমরা শ্যুটিং শুরু করেছি। সুনামগঞ্জে শ্যুটিং চলবে আরও দুই দিন। এখনো তারিক আনাম খান ও মোশাররফ করিম শ্যুটিংয়ে অংশ নেননি। তারা ১৫ ডিসেম্বর থেকে দ্বিতীয় দফার শ্যুটিংয়ে অংশ নেবেন।’

জানা গেছে, ভাটি অঞ্চলের জেলেজীবন নিয়ে নির্মিতব্য এই সিনেমাটিতে খলচরিত্রে অভিনয় করছেন মোশাররফ করিম। কেন্দ্রীয় ‘গাঙকুমারী’র চরিত্রে অভিনয় করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলার শিক্ষার্থী তুরা। তার স্বামীর চরিত্রে দেখা যাবে তারিক আনাম খানকে। গুরুত্বপূর্ণ আরেক চরিত্রে কাজ করছেন রোবেনা রেজা জুঁই। এ ছাড়া জনপ্রিয় অনেক অভিনেতাকে দেখা যাবে এই সিনেমায়। তবে এখনই তাদের নাম প্রকাশ করতে চান না পরিচালক। সিনেমাটির সংগীত পরিচালনা করছেন মকসুদ জামিল মিন্টু।

মোশাররফ করিম বলেন, ‘সিনেমার গল্পটি চমৎকার। নতুন আঙ্গিকের চরিত্র ফুটিয়ে তোলার বিষয়টি সব সময় উপভোগ করি। তবে আমি এখনো কাজ শুরু করিনি। অন্য নাটকের শ্যুটিংয়ে ঢাকার বাইরে আছি। তাই কাজ শুরু না করে সিনেমাটি নিয়ে এখনই কিছু বলতে পারছি না। তবে সিনেমাটিতে ভালো অভিনয়শিল্পীরা কাজ করছেন। নিশ্চয়ই দর্শক উপভোগ করবেন।’

রোবেনা রেজা জুঁই ‘গাঙকুমারী’র সেট থেকে বলেন, ‘সত্যি বলতে কাজটি করে খুব ভালো লাগছে। যে যত্ন নিয়ে সিনেমার শ্যুটিং হওয়ার কথা সেভাবেই হচ্ছে। সেট ডিজাইনার, কস্টিউম ডিজাইনার সব আছেন। ভালো একটি কাজ হবে বলে আশা করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সময় বলেছি গল্পপ্রধান সিনেমা হলে অবশ্যই কাজ করব। এটি তেমনি একটি সিনেমা। নিজেকে নতুনভাবে উপস্থাপনের সুযোগ রয়েছে আমার। একটি সিনেমায় একটি চরিত্রের যে বিকাশ থাকা উচিত আমার চরিত্রটি তেমনি পূর্ণাঙ্গ চরিত্র।’ কী চরিত্রে কাজ করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে আমি সিনেমার নাম ভূমিকা গাঙকুমারীর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করছি।’ কম বয়সে নায়িকার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করাটা চ্যালেঞ্জিং কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মা তো মা-ই। তার সন্তানের বয়স যতই হোক। সন্তানকে নিয়ে শংকা, অনুভূতি একই। তবে চরিত্রটির বয়স যেহেতু আমার চেয়ে অনেক বেশি তাই কিছুটা চ্যালেঞ্জ তো আছেই। কিন্তু আমি চরিত্রটি কীভাবে উপস্থাপন করব সেটা নিয়ে চর্চা করেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি। এখানে আমি একজন জেলের স্ত্রী। আমার স্বামীর চরিত্রে আছেন শাহাদাৎ হোসেন।’

সিনেমাটির গল্পে দেখা যাবে, বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চলের ১৮-১৯ বছরের এক জেলেকন্যা গাঙকুমারী। ভাটি অঞ্চলের নদী, পানি, গাছ, পাখি ও আকাশের সঙ্গে প্রকৃতির অংশ হিসেবেই বিরাজ করে গাঢ়-শ্যামলা এই মেয়েটি। পারিবারিক সূত্রে পাওয়া পেশাগত জীবনের কারণে, নারী হিসেবে পিতৃতান্ত্রিক সমাজের কোনো দ্বিধা, ভয় বা আড়ষ্টতা ভর করেনি তার মনে। মানুষ হিসেবে আত্মরক্ষার সার্বক্ষণিক যে সংগ্রাম চলে সমাজের প্রান্তিক মানুষদের মধ্যে, তা গাঙকুমারী চরিত্রে সৌন্দর্য রূপে প্রতীয়মান হয়ে পৌঁছে গেছে পৃথিবীর সব প্রান্তিক মানুষের অনির্দেশ্য কোনো জীবন-সংগ্রামে। প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করার সহজশক্তি গাঙকুমারী চরিত্রের আরেকটি বৈশিষ্ট্য। এ কারণেই আবহমান বাংলার নারীর আকাক্সক্ষা ও সংগ্রামের প্রতিনিধিত্বও করে সে।