নৌকা চান ৭ জন, বিএনপি শীতল|259694|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০
নৌকা চান ৭ জন, বিএনপি শীতল
জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী

নৌকা চান ৭ জন, বিএনপি শীতল

পর্যটন নগরী সমুদ্রসৈকত কুয়াকাটা পৌরসভার নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা না হলেও নৌকা প্রতীক পেতে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ছয়জন সম্ভাব্য মেয়রসহ অন্তত চার ডজন কাউন্সিলর প্রার্থী। ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টারসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তারা চালাচ্ছেন নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। ভোটারদের মন জয়ে চলছে নানা কৌশলের প্রয়োগ। চলছে জেলাসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দেন-দরবার আর তদবির। নির্বাচনী মাঠে আওয়ামী লীগ বেশ উত্তাপ ছড়ালেও মেয়র প্রার্থী সংকটে বিএনপি যেন ততটাই শীতল।

দলীয় প্রতীকে দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী বর্তমান পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. বারেক মোল্লা, সহসভাপতি গাজী মো. ইউসুফ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাবু অনন্ত মুখার্জি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌর কাউন্সিলর শাহ আলম হাওলাদার, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল আলম টিটো এবং জাতীয় পার্টি থেকে সদ্য আওয়ামী লীগে যোগ দেওয়া আনোয়ার হাওলাদার মাঠে রয়েছেন। এছাড়াও শেষ মুহূর্তে দলের মনোনয়ন চাইতে পারেন পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনির আহম্মেদ ভূঁইয়া। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একক প্রার্থী হিসেবে হাজী নুরুল ইসলাম হাওলাদারের নাম শোনা যাচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীসহ স্থানীয়রা আলাপচারিতায় দেশ রূপান্তরকে জানান, নানা ঝড়-ঝাপ্টার পরও দীর্ঘ বছর ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মাঠের রাজনীতি ধরে রাখার কারণে জেলা থেকে কেন্দ্রে পর্যন্ত বর্তমান মেয়র ও কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আ. বারেক মোল্লার রয়েছে শক্ত অবস্থান। পুনরায় দলীয় প্রার্থী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে তার। ফলে নানা অনিয়ম, দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তাকে দলের মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করতে একাধিক নেতাকর্মী মাঠে কাজ করছেন। তবে বর্তমান মেয়রের দুর্নীতির অভিযোগ জায়গামতো পৌঁছতে পারেনি বলে কোনো কাজে আসছে না বলে দাবি স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি বিরাট অংশের।

অন্যদিকে আনোয়ার হাওলাদার গত নির্বাচনে জাতীয় পার্টির হয়ে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। জাতীয় পার্টি থেকে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দিলেও এখনো মেলেনি তার দলীয় সদস্যপদ। স্থান হয়নি কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের কমিটিতে। দলীয় মনোনায় না পেলেও তিনি স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের রাজনৈতিক রেষারেষিকে কাজে লাগিয়ে নিতে পারেন সুবিধা।

অন্যদিকে যথাসময়ে যোগ্য প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনী মাঠে নামতে চায় বিএনপি। দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকা দলটি এবারের কুয়াকাটা পৌর নির্বাচনে কৌশলী হয়ে মাঠে কাজ করবে বলে আভাস দিয়েছে দলীয় সূত্র। দলটির দায়িত্বশীল নেতাদের অভিমত, আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়িসহ গড় তুলেছেন অভিযোগের পাহাড়। নির্বাচনে এর সুফল অবশ্যই বিএনপি ভোগ করবে।

বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক ও কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবিএম মোশারফ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলে কোনো প্রার্থী সংকট নেই। তফসিল ঘোষণার পর একক প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনী মাঠে থাকবে বিএনপি।

কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ. মোতালেব তালুকদার বলেন, তৃণমূলের ভোটের ভিত্তিতে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তিনিই নির্বাচন করবেন। এর বাইরে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।