প্রতি ১৭ সেকেন্ডে এক মৃত্যু|259751|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০
প্রতি ১৭ সেকেন্ডে এক মৃত্যু
রূপান্তর ডেস্ক

প্রতি ১৭ সেকেন্ডে এক মৃত্যু

দ্বিতীয় দফায় করোনাভাইরাস আরও ভয়ংকর হয়ে উঠতে শুরু করেছে। গত বছরের শেষের দিকে চীনের উহানে ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হওয়ার পর মার্চ-এপ্রিল নাগাদ ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশে^। ওই সময় ইউরোপ, আমেরিকায় ভয়ংকর হয়ে ওঠে মহামারী রূপ নেওয়া ভাইরাসটি। এরপর ছড়াতে শুরু করে এশিয়া, আফ্রিকা ও ওশেনিয়ায়। তবে জুলাই-আগস্টে এসে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে কিছুটা দম ধরে সংক্রমণ। কিন্তু অক্টোবর থেকে ওই সব অঞ্চলে শুরু হয় দ্বিতীয় ঢেউ। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, পোল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশে প্রবল আঘাত হানে  করোনা। ব্রাজিল, মেক্সিকো, পেরু, আর্জেন্টিনার অবস্থা আরও খারাপ হতে শুরু করে। গত এক মাসের কিছু বেশি সময়ে ইউরোপে নতুন করে দেড় লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। মেক্সিকোয় মৃত্যু ছাড়িয়ে গেছে লাখের ঘর। এর মধ্যেই গতকাল বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা জানাল, দ্বিতীয় ঢেউয়ে ইউরোপের বিপর্যয়ের নতুন তথ্য। সংস্থাটির ইউরোপীয় অঞ্চলের পরিচালক হ্যানস ক্লুজ জানিয়েছেন, ইউরোপে প্রতি ১৭ সেকেন্ডে একজন মানুষ করোনায় মারা যাচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থা ওয়ার্ল্ডোমিটারসের তথ্য বলছে, চলতি নভেম্বর মাসে এসে প্রতিদিনই এখন গড়ে ৬ লাখের বেশি করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। মৃত্যু হচ্ছে অন্তত ১০ হাজার করে মানুষের। বাংলাদেশ সময় গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিশ্বের ২১৬টি দেশ ও অঞ্চলে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫ কোটি ৭৪ লাখ ১৪ হাজার ছাড়িয়েছে। মৃত্যু হয়েছে ১৩ লাখ ৬৮ হাজারের বেশি মানুষের।

এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট (এএনইউ) মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, করোনা মানচিত্রে আক্রান্তের যে সংখ্যা দেখা যাচ্ছে তা আদতে বর্তমান সংখ্যার প্রায় ৬ গুণ! অর্থাৎ বিশে^ ইতিমধ্যে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে প্রায় ৩৫ কোটি! ওই সমীক্ষার গবেষকদের ভাষ্য, চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে প্রায় ১৫টি দেশেই আসল আক্রান্তের সংখ্যা আর নথিভুক্ত আক্রান্তের মধ্যে পাহাড়প্রমাণ পার্থক্য ছিল। সহজ কথায় সরকারি তালিকায় নথিভুক্ত করোনা আক্রান্তের থেকে বাস্তবে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৬ দশমিক ২ গুণ বেশি! অস্ট্রেলিয়ার ওই সমীক্ষা বলছে, ইউরোপের এই অবস্থা আরও খারাপ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও ইতালিতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যাটা নথিভুক্ত সংখ্যার চেয়ে অনেক অনেক বেশি। শুধু ইতালিতে আসল আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১৭ গুণ বেশি।

এএনইউর এই সমীক্ষার সঙ্গে মিল রেখেই হয়তো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইউরোপীয় অঞ্চলের পরিচালক হ্যানস ক্লুজ বলেছেন, ইউরোপের দেশগুলোর স্বাস্থ্যব্যবস্থা বর্তমানে মারাত্মক চাপের মুখে আছে। ক্লুজ জানান, টানা দশ দিন ধরে ফ্রান্সের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ৯৫ শতাংশের বেশি পূর্ণ আছে। অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডের শতভাগ আইসিইউ বেড পূর্ণ হয়ে গেছে।

ক্লুজ বলেন, ভাইরাসটি দুর্বল মানুষের ওপর বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে, সন্দেহজনক পরিস্থিতি কিংবা সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করলে এটা আরও মারাত্মক হয়ে উঠবে।

করোনার দুটি ভ্যাকসিন কার্যকর হওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিন কভিড-১৯ সম্পূর্ণ থামাতে পারবে না, আর আমাদের সব প্রশ্নের জবাবও দিতে পারবে না। তবে, ভ্যাকসিন ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি ইতিবাচক আশা জাগিয়েছে।

তিনি জানান, মানসিক স্বাস্থ্য, পারিবারিক সহিংসতা, অর্থনীতির কথা বিবেচনা করে ডব্লিউএইচও বিশ্বাস করে, কঠোর লকডাউন শেষ উদ্যোগ হওয়া উচিত। তবে মাস্কের ব্যবহার ৯৫ ভাগ কার্যকর করা গেলে লকডাউনের বিশেষ প্রয়োজন হয় না বলে জানান তিনি।

সাম্প্রতিক লকডাউনেও বেশির ভাগ ইউরোপীয় দেশে স্কুল খোলা রাখার প্রতি ইঙ্গিত করে ডব্লিউএইচও কর্মকর্তা ক্লুজ বলেন, শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি কম। তাই করোনা নিয়ন্ত্রণের জন্য স্কুল বন্ধ করা তেমন কার্যকর হবে না। স্কুল বন্ধ করার আগে শিশুদের মানসিক ও সামাজিক সুস্থতার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি।

এদিকে ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্য বলছে, বিশে^ করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রে করোনায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ কোটি ২০ লাখ ৭০ হাজার ৭১২। দেশটিতে করোনায় মারা গেছে ২ লাখ ৫৮ হাজার ৩৩৩ জন।

ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় ভারতের অবস্থান দ্বিতীয়। ভারতে করোনায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯০ লাখ ৪ হাজার ৩২৫। দেশটিতে করোনায় মারা গেছে ১ লাখ ৩২ হাজার ২০২ জন।

ব্রাজিল আছে তৃতীয় অবস্থানে। ব্রাজিলে করোনায় শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৫৯ লাখ ৮৩ হাজার ৮৯। দেশটিতে করোনায় মারা গেছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ১৪১ জন।

তালিকায় ফ্রান্সের অবস্থান চতুর্থ। রাশিয়া পঞ্চম। স্পেন ষষ্ঠ। যুক্তরাজ্য সপ্তম। আর্জেন্টিনা অষ্টম। ইতালি নবম। কলম্বিয়া দশম।