ইসলামকে ‘অরাজনৈতিক ধর্ম’ হিসেবে মানতে হবে|259756|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২১ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০
ফ্রান্সের মুসলিমদের ম্যাক্রোঁর আল্টিমেটাম
ইসলামকে ‘অরাজনৈতিক ধর্ম’ হিসেবে মানতে হবে
রূপান্তর ডেস্ক

ইসলামকে ‘অরাজনৈতিক ধর্ম’ হিসেবে মানতে হবে

ফ্রান্সের ‘প্রজাতন্ত্রের মূল্যবোধের সনদ’ মেনে নেওয়ার জন্য দেশটির মুসলিম নেতাদের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। এই সনদ মেনে নেওয়ার জন্য গত বুধবার ফ্রান্সের মুসলিম নেতাদের শীর্ষ সংগঠন ফ্রেঞ্চ কাউন্সিল অব দ্য মুসলিম ফেইথকে (সিএফসিএম) তিনি ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিবিসি।

গত বুধবার এলিসি প্যালেসে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জেরাল্দ দারমানিন আটজন সিএফসিএম নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে লা প্যারিসিয়েঁ পত্রিকা একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে জানায়, ‘সনদে দুটি মূলনীতি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা থাকবে; রাজনৈতিক ইসলাম প্রত্যাখ্যান এবং যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ।’ ওই বৈঠকে ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইমামস প্রতিষ্ঠা করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে ফ্রান্সে তিনটি সন্দেহজনক ইসলামি উগ্রপন্থি হামলার ঘটনার পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানাল দেশটি। ধারাবাহিক হামলার মুখে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ ফরাসি ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন। এসব হামলার মধ্যে ছিল একজন শিক্ষকের শিরেদের ঘটনা, যিনি গত মাসে তার ক্লাসে আলোচনার সময় মহানবী (সা.)-এর বিতর্কিত কার্টুন দেখিয়েছিলেন।

পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় মুসলমান বাস করে ফ্রান্সে। দেশটির জাতীয় পরিচয়ের কেন্দ্রে রয়েছে রাষ্ট্রীয় ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি। স্কুলসহ অন্যান্য জনসমাগমস্থলে বাকস্বাধীনতার বিষয়টি এরই একটি অংশ। একে ক্ষুন্ন করে কোনো একটি ধর্মীয় অনুভূতিকে সুরক্ষার চেষ্টা করাকে ফ্রান্সের জাতীয় ঐক্যের পরিপন্থী হিসেবে মনে করা হয়।

প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ যে বিষয়টিকে ‘ইসলামি বিচ্ছিন্নতাবাদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সে বিষয়টি প্রতিহত করার উদ্দেশ্যে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। এসব পদক্ষেপের মধ্যে থাকছে একটি আইন প্রণয়ন, যার লক্ষ্য হবে মৌলবাদকে প্রতিহত করা।

বুধবারে প্রকাশ করা এই নতুন কৌশলের মধ্যে রয়েছে হোম-স্কুলিং বা ঘরে থেকে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ধর্মীয় কারণে সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকি দেওয়া বা ভয় দেখানো হলে আরও কঠিন শাস্তির বিধান। নতুন আইনের অধীনে শিশুদের একটি পরিচিতি বা আইডেন্টিফিকেশন নম্বর প্রদান করা, যার মাধ্যমে নিশ্চিত করা যাবে যে তারা স্কুলে যাচ্ছে কি না। যেসব অভিভাবক এই আইন অমান্য করবেন, তাদের বড় অঙ্কের জরিমানাসহ ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তি দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত তথ্য, যার ফলে তার ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, সে ধরনের তথ্য শেয়ার করার ওপর নিষেধাজ্ঞা। প্রস্তাবিত খসড়া আইনটি নিয়ে আগামী ৯ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভায় আলোচনা হবে।