যুবলীগ নেতা খালেদের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র অনুমোদন|260322|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৩ নভেম্বর, ২০২০ ২৩:৫৩
৫১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ
যুবলীগ নেতা খালেদের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র অনুমোদন
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুবলীগ নেতা খালেদের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগপত্র অনুমোদন

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মোট ৫১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগপত্র অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে তার ৪২ কোটি ৭৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৫৪ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও ৮ কোটি ৭৪ লাখ ৩৩ হাজার টাকা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

সোমবার  দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে অভিযোগপত্র অনুমোদন দেয় কমিশন। কমিশনের পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শিগগিরই এই অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হবে।

এ বিষয়ে দুদকের সিনিয়র সচিব মুহাম্মদ দিলওয়ার বখত বলেন, ক্যাসিনো কারবারে সম্পৃক্ততা ও বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে খালেদের বিরুদ্ধ ৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে  গত বছরের ২১ অক্টোবর মামলা করে কমিশন। মামলাটি তদন্তকালে তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক দেশ-বিদেশ হতে সংগৃহীত তথ্য সংগ্রহ করেন। সেখানে তার প্রায় ৫১ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও পাচারের তথ্য পাওয়া যায়।

কানাডার বহুল আলোচিত বেগম পাড়াসহ বিভিন্ন দেশে অর্থ পাচারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, আমাদের চেয়ারম্যানসহ কমিশন বিষয়টি অবগত আছে। বিভিন্ন দেশের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে বিনিয়োগ কৌটায় বিদেশে নাগরিকত্ব নেওয়া ব্যক্তিদের তথ্য চাওয়া হয়েছে। তথ্য উপাত্ত পাওয়ার পর এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খালেদের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত করেন দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম। আসামি  খালেদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ায় একটি ব্যাংকে ২০১৮ সালে প্রায় ১১ লাখ রিঙ্গিত জমা হয়। যা বাংলাদেশি টাকায় সোয়া ২ কোটি টাকা। তার নামে মালয়েশিয়ার অপর একটি ব্যাংকে সাড়ে ১১ লাখ রিঙ্গিত  বা আড়াই কোটি টাকা জমা দেয়। এফডিআর হিসেবে জমা হয় তিন লাখ রিঙ্গিত বা ২০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। এভাবে তিনি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন ব্যাংকে ৮ কোটি ৭২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা জমা হয়েছে। যা তিনি বাংলাদেশ থেকে পাচার করেছেন মর্মে প্রতীয়মান হয়।

কমিশনের তদন্তকালে তার নামে ৪২ কোটি ৭৫ লাখ ৭০ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বর্হিভূত সম্পদ অর্জন অভিযোগ এবং ৮ কোটি ৭৪ লাখ ৩৩ হাজার অবৈধ প্রক্রিয়া বিদেশে পাচারের প্রমাণ পাওয়া যায় যা মানিলন্ডারিং আইনে অপরাধ।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীদের গ্রেপ্তার হয়। এর ধারাবাহিকতায় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাসিনোর মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে।

কমিশনের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল এতে নেতৃত্বে সাত সদস্যের দল ক্যাসিনো বিরোধী টিমে কাজ করছে।