গ্রামে ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থী বাড়ছে বাল্যবিবাহ|260374|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০
গ্রামে ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থী বাড়ছে বাল্যবিবাহ
উম্মুল ওয়ারা সুইটি ও প্রতীক ইজাজ

গ্রামে ঝরে পড়ছে শিক্ষার্থী বাড়ছে বাল্যবিবাহ

দেশে করোনা দেখা দেওয়ার পর গত ১৭ মার্চ থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় সরকার। পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় কয়েক দফা বাড়িয়ে সর্বশেষ ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খুলে দেওয়া হবে ও পাঠদান শুরু হবে। তবে ঠিক কবে নাগাদ এসব প্রতিষ্ঠান খুলবে এবং খুললেও এত দীর্ঘ সময় বাইরে থাকা শিক্ষার্থীদের কীভাবে ফের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানমুখী করা যাবে সে নিয়ে এক ধরনের চ্যালেঞ্জের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা বলছেন, বেশি সমস্যা স্কুলের মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে। এর মধ্যে নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভাবনা বেশি। এসব শিক্ষার্থীর স্বাভাবিক শিক্ষাজীবনে ফেরানোই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ এ দীর্ঘ সময়ে শিক্ষার্থীরা নানা সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, দরিদ্র, নব্য দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে এ বাস্তবতা স্বতন্ত্ররূপে হাজির হয়েছে। যেমন দরিদ্র, নব্য দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অনেক শিক্ষার্থীকেই করোনার সময়ে বিভিন্নভাবে পরিবারকে সহযোগিতা করতে হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীকেই বেছে নিতে হয়েছে আয়-রোজগারের পথ। অন্যদিকে অধিকাংশ পরিবারেই ছিল তীব্র খাদ্য সংকট।

গবেষকরা আরও বলছেন, করোনা দীর্ঘস্থায়ী হলে মাধ্যমিকের প্রায় ৪৫ শতাংশ শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরবে না। স্বাভাবিকভাবেই ‘ড্রপ আউট’-এর সংখ্যা বেড়ে যাবে। বেশি ড্রপ আউট হতে পারে নারী শিক্ষার্থীদের। কারণ করোনাকালীন দেশে বাল্যবিয়ে বেড়ে গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনার কারণে এবার অনেক বড়সংখ্যক শিক্ষার্থী শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ছিটকে পড়বে। এ সংখ্যা শতকরা ৪০ ভাগের ওপরেও যেতে পারে। এর ফলে প্রায় ৬০ লাখ শিক্ষার্থী মাধ্যমিকের গণ্ডি না পেরিয়েই ড্রপ আউট হতে পারে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে নারী শিক্ষার্থীরা।

এ ব্যাপারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক রাশেদা কে চৌধূরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, করোনার কারণে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চারটা জায়গায় উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে বাল্যবিবাহের হার বাড়তে পারে, শিশুশ্রম বাড়তে পারে, ঝরে পড়ার হার বাড়তে পারে এবং অপুষ্টির হার বাড়তে পারে। এটা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত। বাংলাদেশও এ থেকে ব্যতিক্রম নয়। তবে মুশকিলটা হলো, এ বিষয়ে কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। আনুমানিক মাঠের থেকে খবর আসছে, কিন্তু সেটা বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক নয়। অনুমানের ওপর নির্ভর করে শুরু থেকে সারা পৃথিবীতে ব্যক্ত করা হচ্ছে, জাতিসংঘও ব্যক্ত করছে।

যদিও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) মনে করছে, তাদের নেওয়া করোনাকালীন শিক্ষা ও পাঠদানের পদ্ধতির কারণে দেশে ড্রপ আউটের ঘটনা ঘটবে না। এখন পর্যন্ত কোনো সূচকেই এমন কোনো ইঙ্গিত মেলেনি।

এ ব্যাপারে মাউশির মাধ্যমিক বিদ্যালয় শাখার পরিচালক মো. বেলাল হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা ড্রপ আউটের কোনো আশঙ্কা করছি না বা আমাদের ইনডেক্সে ধরনের কোনো তথ্য দিচ্ছে না। আমাদের মাঠ পর্যায় থেকেও এমন কোন তথ্য নেই। আমাদের শিক্ষার্থীরা এখন অনেকটা রিল্যাক্স। তারা নিজ নিজ বাসায় অবস্থান করে পারিবারিক তত্ত্বাবধানে রয়েছে। তাদেরকে সামান্য কাজ দিয়ে দেওয়া হয়েছে, শিক্ষকরা এসাইনমেন্ট দিয়েছে। এতে অনৈতিক সহযোগিতা বা কোচিং শিক্ষক ও পারিবারিক কোনো সহায়তা করা যাবে না। শিক্ষার্থীদের নিজেদের করার জন্য এগুলো দিয়েছি। আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে খোঁজ খবর পাচ্ছি যে, শিক্ষার্থীরা নিজেরাই এসব করছে, কারও লেখা ভালো হচ্ছে কারও লেখা মিড লেভেল হচ্ছে, মুল্যায়নের জায়গাটা নিয়ে আমরা এখন কাজ করছি। তার মানে শিক্ষার্থীরা এখন একদম ফ্রি না। তারা ব্যস্ততার মধ্যেই আছে। এই ব্যস্ততার মধ্যদিয়ে তারা ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত যাবে। তারপর তাদের তো অন্য বছরের মতই ছুটি চলে আসবে। পরবর্তী কার্যক্রম জানুয়ারির ১ তারিখ থেকে শুরু হবে। যেটা আমরা এখনো কিছু করিনি।

স্কুল খোলার পর শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ কোন উদ্যোগ আছে কি না- জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, আমাদের একজন শিক্ষার্থীও যাতে স্কুল বিমুখ না হয় সেজন্য আমাদের তদারকি থাকবে। কোন স্কুলেরই শিক্ষার্থীদের বাদ দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। অর্থাৎ, এক শ্রেণী থেকে অন্য শ্রেণিতে উঠতে গেলে বাদের তো একটা ব্যাপার থাকে, কিন্তু এবার সেটা থাকছে না। তার মানে প্রত্যেক শিক্ষার্থী যারা ক্লাস ফাইভে তারা সবাই ক্লাস সিক্সে উঠবে। যারা সিক্সে ছিল তারা সেভেনে যাবে। কোন বাদ দেয়ার সুযোগ নেই। তবে তাদের লার্নিং যে গ্যাপটা তৈরি হয়েছে সেটা আইডেন্টিফাই করে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের এসাইনমেন্টটা মূল্যায়নের মাধ্যমে তাদের আবার ফিডব্যাকও দিতে হবে। তাহলে তারা জানতে পারবে তাদের কোন জায়গায় গ্যাপটা আছে। সেজন্য এসাইনমেন্টের ব্যাপারটাতে যাতে শিক্ষক, শিক্ষার্থি, অভিভাবক আন্তরিকতার সাথে দেখে সেজন্য আমরা নির্দেশনা দিয়েছি। ফলে আমরা আশা করছি কোনো ড্রপ আউট হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ কোনো চাপে নেইতো শিক্ষার্থীরা

তবে দেশের বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার গবেষণা ও গবেষকরা ড্রপ-আউটের আশঙ্কা করছেন। বিশেষ করে পড়ালেখা বাদ দিয়ে এই দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকার কারণে দেশে স্কুলের মেয়েদের বাল্য বিয়ের হারও বেড়ে গেছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। এ ব্যাপারে ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি বিভাগের জরিপ অনুযায়ি, জরিপ এলাকায় বাল্যবিবাহ আগের চেয়ে ১৩ শতাংশ বেড়ে গেছে। ৮৫ শতাংশ বাল্যবিবাহ হয়েছে মেয়েদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে। ৭১ শতাংশ হয়েছে মেয়েদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার জন্য। বাইরে থেকে আসা ছেলে হাতের কাছে পাওয়া ৬২ শতাংশ বিয়ের কারণ ছিল। করোনা ঠেকাতে ব্যস্ত প্রশাসনের বিয়ে ঠেকানোর কড়াকড়িতে যে শৈথিল্য আছে, তা ব্র্যাকের গবেষণায় স্পষ্ট।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হেল্পলাইনে আসা অভিযোগের বরাত দিয়ে সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ উপপরিচালক (কর্মসূচি) নিনা গোস্বামী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার মধ্যে জোর করে বিয়ে দেওয়ার ঘটনা আগের চেয়ে বেড়েছে। আর আমাদের সহযোগী সংগঠনগুলো জানিয়েছে, প্রত্যন্ত এলাকায় বাল্যবিবাহ বেড়ে যাচ্ছে।

মার্চে স্কূল-কলেজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর মে মাসে দেশের ‘প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের ওপর করোনার প্রভাব’ শীর্ষক গবেষণা করে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক। গবেষণায় দেখা গেছে, করোনা দীর্ঘস্থায়ী হলে প্রায় ৪৫ শতাংশ ভাগ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা স্কুলে ফিরবে না। স্বাভাবিক ভাবেই ‘ড্রপ-আউট’ এর সংখ্যা বেড়ে যাবে। কারণ হিসেবে গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনার সময়ে প্রায় ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থীকে গৃহস্থলি কাজ ও পরিবারকে সহযোগিতা করতে হয়েছে। সেই সঙ্গে প্রায় ২২ শতাংশ শিক্ষার্থীর পরিবারেই ছিল খাদ্য সংকট। অন্যদিকে যেসব পরিবারে খাদ্য সংকট ছিল না কিংবা শিক্ষার্থীদের কোন রকম আয়রোজগারের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হয়নি সেসব পরিবারের প্রায় ২৭ শতাংশ শিক্ষার্থী শুধুমাত্র গল্প-গুজব করে দিন অতিবাহিত করেছে। অন্যদিকে, বিদ্যালয় থেকে সঠিক নির্দেশনা না পাওয়া ৪৪ শতাংশ, পরিবার থেকে সাহায্য না পাওয়া ১৯ শতাংশ এবং ঘরে পড়ার উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়ার ১১ শতাংশসহ বিভিন্ন কারণে ব্যহত হয়েছে তাদের শিক্ষণ প্রক্রিয়া।

এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন জেলার প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকরা। নোয়াখালী, ঝিনাইদহ ফেনী কেরানীগঞ্জ সাতকানিয়া গলাচিপা সহ দেশের বেশ কয়েকটি মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, করোনায় গরিব মানুষের ছেলেমেয়েদের স্কুলের ফিরানো অনেকটাই অসম্ভব হবে। বিশেষ করে নবম ও দশম শ্রেণীর মেয়েদের ক্ষেত্রে অন্য ধরণের ঘটনা ঘটে গেছে। করোনার প্রথম দফায় এ বছরের মার্চে যখন শহর থেকে মানুষ গ্রামে ফিরেছে। তখনই শহরগামী তরুণরা বিয়ে-শাদী করেছে। বেশিরভাগই অল্প বয়সী নবম-দশম শ্রেণীর মেয়ে। আবার এমপিওভুক্ত না এমন স্কুল গুলি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরাও হতাশ হয়ে পড়েছে। ছেলেরা অনেকেই দিনমজুরসহ বিভিন্ন কাজে জড়িয়ে পড়েছে। এরকম সংখ্যা অনেক। আবার টিউশন ফির কারণে ঝরেপড়াদের সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়তে পারে বলে তারা ধারণা করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রূপগঞ্জের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, আমরাতো শিক্ষকদের বেতন দিতে পারি না। আর ছাত্র-ছাত্রী কিভাবে ধরে রাখবো। বছর শেষ হতে চলেছে অবশ্যই সরকারকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে। শুধু শহরের শিক্ষার্থীদের অনলাইনে ক্লাস করালেই সমস্যার সমাধান হবে না। অভিভাবকদেরও বুঝাতে হবে। অনেকগুলি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান কাজ করেছে তারা বলেছে করোনারি দুই বছরে কয়েক লাখ বাল্যবিবাহ হবে। ড্রপ আউট হবে অনেক বেশি।

এমনকি মাউশির পক্ষ বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদানের কারণ দেখিয়ে ড্রপ-আউটের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া হলেও সেখানেও প্রশ্ন তুলেছেন গবেষকরা। ব্র্যাকের এই গবেষণায় সঠিক পাঠদানের বার, বিকল্প শিক্ষণ পদ্ধতি হিসেবে অনলাইন ক্লাস ও সংসদ টেলিভিশনের কার্যকরিতা সঠিকভাবে কাজে লাগেনি বলে উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রায় ৫৬ শতাংশ শিক্ষার্থী এই ধরণের শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়নি। এর মাঝে ৪০ শতাংশ ভাগ গ্রামাঞ্চলের শিক্ষার্থী, ২৫ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, ৩২ শতাংশ মাদ্রাসার শিক্ষার্থী এবং ৩৯ শতাংশ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। অংশগ্রহণ না করা শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭১ শতাংশ প্রযুক্তিগত অবকাঠামো (টিভি, ইলেকট্রিসিটি, ইন্টারনেট একসেস প্রভৃতি) এবং ২১ শতাংশ শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় তথ্যের অভাবে ক্লাসে অংশ নিতে পারে নি।

স্কুল বন্ধ থাকার কারণে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা শারীরীক ও মানষিকভাবেও সংকটে পড়েছেন বলে গবেষণায় বলা হয়েছে। গবেষণা অনুযায়ি, এই ধরণের শিক্ষণ পদ্ধতি খুব একটা কার্যকরী নয়। শিক্ষার্থীদের শিক্ষণ প্রক্রিয়া ব্যহত হবার পাশপাশি তাদের মধ্যে বিভিন্ন রকমের আসক্তি দেখা দিয়েছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে আঘাত হেনেছে। দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে একদিকে যেমন তাদের দৈনন্দিন রুটিনে পরিবর্তন এনেছে, অন্যদিকে বেড়েছে ভবিষ্যত নিয়ে আশঙ্কা ও দুঃশ্চিন্তা। করোনাকালীন সময়ে ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর মানসিক স্বাস্থ্য খারাপ হয়েছে। ফলে প্রায় ১৩ শতাংশ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার ওপর বিরূপ মনোভাব পোষণ করেছে। একই সঙ্গে বেড়েছে বিবিধ রকম আসক্তি। প্রায় ১৯ শতাংশ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইন্টারনেট আসক্তি দেখা দিয়েছে। এছাড়া বেড়েছে শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা।

অবশ্য করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে এসব সংকট কাটিয়ে সঠিক উদ্যোগের মধ্য দিয়ে সব শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষামুখী করা সম্ভব বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। এ ব্যাপারে অধ্যাপক রাশেদা কে চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ড্রপ-আউট কমাতে ও শিক্ষার্থীদের স্কুলে ফেরাতে সরকার একটা প্রস্তুতি পরিকল্পনা করেছে। অর্থাৎ পরিকল্পনা তৈরি আছে। সেখানে নানা ধরনের প্রস্তুতির কথা বলা আছে। কিন্তু পরিকল্পনা করা এক জিনিস, আর বাস্তবায়ন করা আরেক জিনিস। কাজেই পরিকল্পনা মাফিক বাস্তবায়ন করলে অনেক কিছুই আমাদের সামাল দেয়া সম্ভব। প্রথমত অর্জনগুলো ধরে রাখা দ্বিতীয়ত ঝুঁকি প্রশমন। এ দুটোই পরিকল্পনার মধ্যে আছে। ভালো করেছে পরিকল্পনাটা।

তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য করোনা পরবর্তি শিক্ষাখাতে বিনিয়োগের পরামর্শ দেন এই শিক্ষাবিদ। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, যেকোন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে তো বিনিয়োগ লাগে। অতএব শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। মানে প্রশমন ও অর্জনগুলো ধরে রাখার জন্য। সব জায়গায় প্রণোদনা দিয়েছে শিক্ষায় দেয়নি কেন? করোনার কারণে অবশ্যই ঝরে পড়া শিক্ষার্থী বাড়বে। প্রাথমিকে কম হবে, কিন্তু মাধ্যমিকে বেশি হবে। এসব শিক্ষার্থী ফেরানোও যাবে না। কারণ মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। তাদের ফেরাবেন কিভাবে?