মৌলভীবাজারে ক্ষতিকর বিদেশি গাছে বনায়ন|260688|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০
কৃষি ও প্রাণবৈচিত্র্যের হুমকি
মৌলভীবাজারে ক্ষতিকর বিদেশি গাছে বনায়ন
রুহুল ইসলাম হৃদয়, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার)

মৌলভীবাজারে ক্ষতিকর বিদেশি গাছে বনায়ন

প্রকৃতি বিনাশী আকাশি, ম্যানজিয়াম, রাবার, ইউক্যালিপটাসসহ বিভিন্ন প্রজাতির ভিনদেশি গাছের বনায়নে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মৌলভীবাজারের কৃষি ও প্রাণবৈচিত্র্য। আগ্রাসী প্রজাতির এসব গাছের কাঠ ব্যাপক জনপ্রিয় ও দ্রুত বর্ধনশীল হওয়ায় সড়কের দুইধারে, বাড়িঘরের আশপাশে, বনের টিলায় কৃত্রিমভাবে বনায়ন করা হচ্ছে বলে মৌলভীবাজারের ক্ষতিগ্রস্ত ও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।

 খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আকাশি, ম্যানজিয়াম প্রজাতির বিদেশি গাছগুলো দ্রুত বর্ধনশীল। অধিক মুনাফার আশায় কয়েক যুগ ধরে এসব গাছ দিয়ে বনায়নের হিড়িক শুরু হয়। সিলেট বিভাগের সংরক্ষিত বনাঞ্চলে সামাজিক ও সুফল বনায়নে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব গাছ রোপণ করা হচ্ছে। এছাড়া রাস্তার দুইধারে সামাজিক বনায়ন এবং ব্যক্তি উদ্যোগে আগ্রাসী এসব বিদেশি গাছের কৃত্রিম বনায়নসমূহ শোভা পাচ্ছে।

এতে কৃষি আবাদ, মৎস্য চাষাবাদে ক্ষতি ছাড়াও পশুপাখির খাদ্য তৈরি না হওয়ায় পরিবেশেরও ক্ষতি করছে। ফলে দেশীয় প্রজাতির মূল্যবান কাঠ ও ফলের গাছ এবং ঔষধি বৃক্ষের চাষাবাদ উৎপাদন ও সংরক্ষণের বিষয়টি এখন প্রায় উপেক্ষিত। সড়ক ধারের সামাজিক বনের এসব গাছের ছায়ায় পড়ে ধান গাছে রোগ ও পোকার আক্রমণ মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জমিতে ধানগাছ মরে যাচ্ছে। অন্যদিকে কম ব্যয়ে অধিক আর্থিক সুবিধার কারণে চা-বাগানের টিলায় ক্ষতিকর রাবার গাছের চাষাবাদও বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা পরিবেশের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কমলগঞ্জের কৃষক নজির মিয়া, রুশন মিয়া, তোয়াবুর রহমান, মোবাশ্বির আলী বলেন, ধানিজমির সড়কের পাশে আকাশমনি, ম্যানজিয়াম গাছ ধান চাষাবাদ ও কৃষিজমি বিনষ্ট করে। মৎস্য খামারের আশপাশে থাকলে মৎস্য উৎপাদনেও ব্যাপক ক্ষতি করে। গাছের ছায়ায় ধানি জমির জায়গা দখল করে ও ধানগাছ মরে যায়। চাষকৃত ধানগাছ কেটে গরু-মহিষকে খাওয়ানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না।

বাংলাদেশ পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (বাপা) সিলেট বিভাগীয় সম্পাদক আব্দুল করিম কীম বলেন, এসব গাছ মাটির নিচের অতিরিক্ত পানি শোষণ করে মাটির নিচে পানিশূন্য করে দেয়।

মৌলভীবাজারের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা জানান, আগ্রাসী প্রজাতির গাছগাছালি পশুপাখির খাবার তৈরি করে না এবং ব্যাপক বিস্তারে অন্য গাছগুলোর সালোক-সংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ব্যাহত করে। জীববৈচিত্র্যের জন্য এসব গাছ খুবই ক্ষতিকর।

কমলগঞ্জের রাজকান্দি বন রেঞ্জ কর্মকর্তা আবু তাহের বলেন, এখন এসব গাছ রোপণ এবং সরকারি নার্সারিগুলোতে আকাশমনি, ম্যানজিয়াম গাছের চারা উৎপাদন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই গাছগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন মহলেও আলোচনা হচ্ছে এবং বনায়নে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্তি উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) শামসুদ্দীন আহমদ জানান, আকাশি, ইউক্যালিপটাস গাছের ছায়ায় ধানগাছের পাতা মোড়ানো রোগসহ বিভিন্ন ছত্রাকে আক্রান্ত করে। তাছাড়া আকাশি গাছের পাতা ঘন, এমনকি সূর্যের আলো মোটেও পড়ে না। এগুলোর পাতা পড়ে কৃষিক্ষেত বিনষ্ট হয়।