টাকা আছে টাকা নাই|260742|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ নভেম্বর, ২০২০ ০০:০০
টাকা আছে টাকা নাই
প্রতীক ইজাজ

টাকা আছে টাকা নাই

করোনার টিকা পেতে বাংলাদেশ জোর তৎপরতা শুরু করেছে। মানবদেহে পরীক্ষার শেষ ধাপের প্রায় শেষের দিকে থাকা অক্সফোর্ডের তৈরি ভ্যাকসিনের তিন কোটি ডোজ কিনতে ৫ নভেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, দেশের বেসরকারি ওষুধ কোম্পানি বেক্সিমকো ফার্মা ও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী অক্সফোর্ডের টিকা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদন পেলে সেরাম ইনস্টিটিউট বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের মাধ্যমে তা বাংলাদেশ সরকারকে সরবরাহ করবে। ৩ কোটি টিকার ডোজ দুবার করে প্রতি ব্যক্তিকে দেওয়া হবে। ফলে প্রথম দফায় টিকা দেওয়া হবে ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষকে। এরপর একইভাবে ২৮ দিন পর তাদের টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২১ সালের জানুয়ারির শেষ বা ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে এই টিকা বাংলাদেশ পাবে বলে আশা করছেন বেক্সিমকোর কর্মকর্তারা।

অক্সফোর্ডের টিকা কিনতে সরকার চুক্তি করলেও টিকা ব্যবস্থাপনার সার্বিক চিত্র এখনো পরিষ্কার নয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভাইরাসের বিস্তার বন্ধ করার জন্য ‘হার্ড ইমিউনিটি’ তৈরি করতে দেশের মোট জনগোষ্ঠীর অন্তত ৬০-৭০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে হবে। সে হিসেবে দেশের প্রায় ১৩ কোটি মানুষের জন্য দুই ডোজ করে ২৬ কোটি টিকা কিনতে হবে সরকারকে। সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, এই টিকা কিনতে ও দিতে বিপুল অঙ্কের অর্থের জোগান কীভাবে হবে, সে ব্যাপারে পরিষ্কার কোনো ধারণা নেই তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের কভিড-১৯ ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির এক সদস্য গতকাল বুধবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, টিকা কিনতে ও দিতে কী পরিমাণ টাকা লাগতে পারে, সে ব্যাপারে সরকারকে একটা ধারণা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ অর্থ কীভাবে আসবে, সে ব্যাপারে এখনো কিছু স্পষ্ট নয়। আগামীকাল (আজ বৃহস্পতিবার) কমিটির বৈঠক আছে। সেখানে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

টাস্কফোর্স কমিটির টিকা ব্যবস্থাপনার যে হিসাব-নিকাশ করেছে, তাতে দেখা গেছে, হার্ড ইমিউনিটি তৈরি করতে যে ৬০-৭০ শতাংশ মানুষকে টিকা দিতে হবে, সে হিসেবে মোট জনগোষ্ঠীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ কোটি। অর্থাৎ ১৩ কোটি মানুষের জন্য ২৬ কোটি ডোজ টিকা লাগবে। এর মধ্যে ২০ কোটি ডোজ কিনতে হবে সরকারকে। অক্সফোর্ডের টিকা কিনলে প্রতি ডোজ ৫ ডলার হিসেবে ব্যয় হবে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। গ্যাভি দেবে মোট জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশ ভ্যাকসিন, অর্থাৎ ৬ কোটি ৮০ লাখ টিকা। গ্যাভি যদি অক্সফোর্ডের টিকা দেয়, তাহলে সেখানে সরকারের ব্যয় হবে প্রতি টিকা ২ ডলার হিসেবে ২ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা। সে হিসেবে ২৬ কোটি ডোজ টিকা কিনতে সরকারের মোট ব্যয় হবে ১১ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা। অন্যদিকে প্রতি ডোজ টিকা সংরক্ষণ থেকে শুরু করে মানুষের দেহে দেওয়া পর্যন্ত ব্যয় হবে দুই ডলার করে। সে হিসাবে ২৬ কোটি ডোজ টিকা দিতে সরকারের লাগবে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ শুধু অক্সফোর্ডের টিকা কিনতে ও দিতে সব মিলে সরকারের মোট ব্যয় হবে প্রায় ১৬ হাজার ৮৯০ কোটি টাকা।

এই বিপুল পরিমাণ অর্থের জোগান কীভাবে হবে, জানতে চাইলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান বলেন, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা বাংলাদেশে কিছু প্রকল্প নিয়েছে। আমরা চাইছি এই প্রকল্পগুলো পরিবর্তন করে ভ্যাকসিনের অর্থসহায়তা নিতে। সংস্থাগুলো সাড়াও দিচ্ছে।

সচিব আরও বলেন, সরকার নিজস্ব উৎস থেকে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সংস্থান করেছে। এর অর্ধেক টাকা আমরা ইতিমধ্যেই অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দ পেয়েছি। এর বাইরে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের কভিড প্রকল্প আছে। সেখান থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার জোগান আসবে।

টিকার সার্বিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাদান কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. শামসুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, কীভাবে ব্যবস্থাপনা হবে, সেটা আমরা খুব তাড়াতাড়ি মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়ে দিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় যেভাবে আমাদের নির্দেশনা দিচ্ছে, সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করছি এবং আমরা যেভাবে এগোচ্ছি আশা করছি অল্প সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারব।

তবে সরকার করোনার টিকার জন্য দাতাগোষ্ঠীর ওপর বেশি আশা করছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিপুল অঙ্কের অর্থ জোগাড়ে সরকার বিশ্বব্যাংকসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ওপর নির্ভর করছে বলা যায়। বিদেশি উৎস থেকে অর্থ জোগানের চেষ্টায় ইতিবাচক সাড়া মিলছে। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের কাছে ৫০ কোটি ডলার সহায়তা চেয়েছে, যা সোয়া চার হাজার কোটি টাকার মতো। অন্যান্য সংস্থার কাছেও অর্থসহায়তা চেয়ে অনুরোধ করা হয়েছে। ভ্যাকসিন কেনার জন্য বাংলাদেশ বিদেশি উৎস থেকে অর্থ জোগাড়ের জোর তৎপরতা চালাচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, করোনাভাইরাস মহামারী মোকাবিলার জন্য চলতি অর্থবছরের বাজেটে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সেখান থেকে ভ্যাকসিনের জন্য অর্থ নেওয়া হবে।

কিন্তু অর্থের জোগান নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকার বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে যে বরাদ্দ ও কভিডের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার যে থোক বরাদ্দ রেখেছে, এই অর্থ ভ্যাকসিনের জন্য যথেষ্ট নয়। কারণ থোক বরাদ্দ যেটা, সেটা রাখা হয়েছে বিশ্বব্যাংকসহ বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর অর্থের ওপর নির্ভর করে। সেখানে সরকারের কোনো বরাদ্দ নেই। বিভিন্ন সোর্স থেকে সেখানে অর্থায়ন করতে হবে।

এই স্বাস্থ্য অর্থনীতিবিদ বলেন, সরকারকে টিকা বিনামূল্যে দিতে হবে। সরকার এখানে কারও থেকে পয়সা নিতে পারবে না। তবে বেসরকারি খাতে কিছু ভর্তুকি দিয়ে সরকার ভ্যাকসিন বিক্রি করতে পারে।

ভ্যাকসিনের জন্য বাজেটে বরাদ্দ কম জানিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, কভিডের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা থোক বরাদ্দ, সেটা ভ্যাকসিনের না। কভিড ব্যবস্থাপনার জন্য। এমনকি সরকার ভ্যাকসিনের জন্য যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা বলা বলছে, সেটাও এই ১০ হাজার কোটি টাকার অংশ হতে পারে। কারণ থোক বরাদ্দের অর্থ খরচ করতে হলে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদন নিতে হয়।

ভ্যাকসিনের জন্য কি আমরা দাতাদের ওপর নির্ভরশীলএমন প্রশ্নের উত্তরে স্বাস্থ্য অর্থনীতির এই শিক্ষক দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি সেটা বলব না। তবে যেটা দেখা যাচ্ছে, কভিডের ইনিশিয়াল ব্যয়টা এডিবি থেকে নেওয়া হয়েছে। আবার যখন ভ্যাকসিন কেনার কথা উঠল তখনো বিশ্বব্যাংক, এডিবি কারও না কারও সঙ্গে সরকার যোগাযোগ করেছে। তাতে কিছুটা মনে হতে পারে যে, এটা সরকার অনেকটা দাতাদের ওপর নির্ভরশীল। তবে পুরোটা নয়।

সেক্ষেত্রে টিকা কিনতে অর্থের সঠিক জোগান কী হতে পারেজানতে চাইলে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ভ্যাকসিনের জন্য সরকার যে অর্থ বরাদ্দের কথা বলছে, সেগুলো রেগুলার বরাদ্দ না। এই টাকাটা যদি সরকারের রেভিনিউ থেকে আসত তাহলে ভালো হতো। কিন্তু কভিডের কারণে অর্থনীতির স্থবিরতা আছে। মানুষের কর্মকান্ড থমকে গেছে। ইনকাম নেই। ফলে সরকারের ভ্যাট কালেকশন কম আসবে। সরকারের রেভিনিউ কালেকশন কমে যাচ্ছে। ফলে এখনকার পরিস্থিতিতে নিজস্ব অর্থায়নে ভ্যাকসিন কেনাটা বেশ কঠিন।

‘তবে আমার ব্যক্তিগত সাজেশন ছিল’ উল্লেখ করে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, আমাদের গুরুত্বপূর্ণ যেসব প্রকল্প চলমান আছেসেগুলো বাদে যেগুলো ২-৪ বছর পিছিয়ে করা যায়, সেগুলো পিছিয়ে দেওয়া যেত। এখান থেকে যে ফিন্যান্স থাকত সেটা দিয়ে ভ্যাকসিন ব্যয় মেটানো যেত। কিন্তু ঋণ নিয়ে ভ্যাকসিন কিনলে সেটা আমাদের সুদে আসলেই শোধ করতে হবে। যেটা ভবিষ্যৎ জেনারেশনের ওপরেই যাচ্ছে। কিন্তু পলিটিক্যাল ইকোনমিক প্রেক্ষাপটে সরকারপ্রধান চাইলেই সেটা করতে পারেন না। ফলে বিকল্প হিসেবে সরকার দাতা সংস্থা থেকে অর্থ সংগ্রহের পথ বেছে নিয়েছে বলে আমি মনে করি।

অবশ্য আর্থিক সংগতির কথা বিবেচনা করে সরকার এখনই সবাইকে টিকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন টিকা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনা টাস্কফোর্স কমিটির এক সদস্য গতকাল বুধবার রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, সব বয়সের মানুষকেই টিকা দিতে হবে। এখন যারা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বলা হয় যে, দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ যদি হার্ড ইমিউনিটি ডেভেলপ করে তা হলে বাকি ২০ শতাংশ মানুষের টিকা লাগবে না। তবে সরকার এখনই সবাইকে টিকা দিচ্ছে না। প্রাথমিকভাবে ২০ শতাংশ গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশনস-গ্যাভি থেকে পাবে, আর ১০ শতাংশ কিনছে। এখন সরকার মোট জনগোষ্ঠীর ৩০ শতাংশে টিকা দেবে। কারণ পৃথিবীতে টিকা তো নেই। কেউ চাইলেই তো পাবে না। এটা পেতেও আমাদের বেশ সময় লাগবে। এর মধ্যে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলবে আরও লাগবে কি না। যদি করোনা থাকে, তাহলে আরও বেশি লাগবে। না থাকলে আর লাগল না।

টিকা কিনতে কেমন ব্যয় হবেজানতে চাইলে এই সদস্য বলেন, অক্সফোর্ডের টিকা প্রতি ডোজ ৫ ডলার। গ্যাভি ফ্রি দেবে না, প্রতি ডোজের দাম পড়বে সাশ্রয়ী মূল্যে ২ ডলার। এটাকে বলা হচ্ছে কো-ফিন্যান্সিং। আমরা তো মধ্যম আয়ের দেশের দিকে যাচ্ছি। ফলে আমরা টাকা দেব। যারা দরিদ্র দেশ হয়তো তাদের ফ্রি দেওয়া হবে। এ ছাড়া টিকা দিতে প্রতি ডোজে আমাদের খরচ হবে প্রায় ২ ডলার। তবে এখন যেহেতু কম আসবে, তাই দিতে ব্যয়ও কিছুটা কম হবে ১ দশমিক ২৫ ডলার।

টিকার টাকার জোগান কীভাবে হবে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, সরকার দুর্যোগ তহবিল থেকে ৭৩৫ কোটি টাকা দেবে। এই ফান্ডে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাখা আছে, পরে আরও আসবে। এটা দিয়ে সরকার ১০ শতাংশ টিকা কিনবে। আর গ্যাভি থেকে যেটা নেব সেটা কেনা ও নেওয়ার জন্য বিশ্বব্যাংকের মাধ্যমে একটা চুক্তি হবে। বিশ্বব্যাংক আমাদের এজন্য ঋণও দেবে। এটা থোক বরাদ্দ থেকে আসছে।

গতকাল বুধবার ‘কভিড-১৯ এবং স্বাস্থ্যবিষয়ক হালনাগাদ তথ্য অবহিতকরণ সভা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মা, শিশু ও কৈশোর স্বাস্থ্য কর্মসূচির লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. শামসুল হক জানান, গ্যাভি কোভ্যাক্স সুবিধা থেকে বাংলাদেশ ৬৮ মিলিয়ন বা ৬ কোটি ৮০ লাখ ডোজ করোনার ভ্যাকসিন পাচ্ছে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে এই ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। তবে গ্যাভি এটা বিনা পয়সায় দেবে না। এজন্য কো-ফিন্যান্সিংয়ে যেতে হবে সরকারকে। এটা এক দশমিক ছয় থেকে দুই ডলারের মধ্যে কিনতে পারব। তবে ভ্যাকসিন আসার আগে জরুরি হচ্ছে ন্যাশনাল ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট প্ল্যান নিয়ে কাজ হচ্ছে যেটা একেবারেই শেষ পর্যায়ে। অক্সফোর্ড ও গ্যাভির ভ্যাকসিন ছাড়াও চীনের সিনোভ্যাকের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে, রাশিয়ার স্পুৎনিক এগিয়ে আসছে, তাদের সঙ্গেও আমাদের যোগাযোগ রয়েছে। এ ছাড়া জেএসকের সেনোফি এবং ফাইজারের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তবে কোনো কোনো ভ্যাকসিন আমাদের দেশের আবহাওয়ার সঙ্গে খুবই ‘কোয়েশ্চেনেবল’ এবং পৃথিবীর অনেক দেশেই এত ‘লো টেম্পারেচার’ এর ব্যবস্থা না থাকায় তারাও এ নিয়ে চিন্তিত। এসব ভ্যাকসিন বিষয়ে কাজ করতে কভিড ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করেছে সরকার। এছাড়াও বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অব ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট কাজ করছে। রয়েছে কভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রিপায়ের্ডনেস অ্যান্ড ডেপ্লয়মেন্ট কোর কমিটি।