ম্যারাডোনাকে আমরা ভালোবাসি কেন?|260861|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৬ নভেম্বর, ২০২০ ২০:১৩
ম্যারাডোনাকে আমরা ভালোবাসি কেন?
এহ্‌সান মাহ্‌মুদ

ম্যারাডোনাকে আমরা ভালোবাসি কেন?

মারাডোনাকে আমরা ভালোবাসি কেন? তিনি ফুটবলার ছিলেন বলে?

ফুটবলার ম্যারাডেনা ১৭ বছর বয়সেই আর্জেন্টিনার জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পান। দেশের হয়ে ৪টি বিশ্বকাপ খেলেছেন। ১৯৮৬ তে আর্জেন্টিনাকে এনে দিয়েছেন বিশ্বকাপ শিরোপা। একই বিশ্বকাপে তাঁর গোল ‘হ্যান্ড অব গড’ নামে বিতর্ক তুলে সারাবিশ্বকে দুই ভাগে বিভক্ত করে দিয়েছে। ১৯৯৪ তে নিজের শেষ বিশ্বকাপে মাদক কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে মাত্র ২ ম্যাচ খেলেই ফিরে যেতে হয় নিজ দেশে। ১৯৯৮ সালে সাংবাদিককে গুলি করে যেতে হয় জেলে। - এমন সব তথ্য কেবলই ফুটবলার ম্যারাডোনাকে চিহ্নিত করবে।

কিন্তু ম্যারাডোনা যে ফুটবলারের চেয়েও অধিক !

লাতিন আমেরিকায় জন্ম নেওয়া ম্যারাডোনা ছিলেন আদতে বিপ্লবী! লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে যখন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী বিপ্লব বিস্তৃত হচ্ছে, ম্যারাডোনাও তাতে উদ্দীপ্ত হন। বিপ্লবী চে গুয়েভারা ও ফিদেল ক্যাস্ট্রো হয়ে উঠেন তাঁর আদর্শ! পরে চে গুয়েভারা ও ফিদেলের ছবি নিজের শরীরে উল্কি এঁকে সারাবিশ্বকে জানিয়ে দেন তাঁর অবস্থানের কথা। চে গুয়েভারার ‘সবুজ নোটবুক’ তাই হয়ে যায় ম্যারাডোনার সঙ্গী। ফিদেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, ‘আমার কাছে উনি ছিলেন দ্বিতীয় বাবার মতো’।

আবার এই ম্যারাডোনাকেই দেখি, ইসরায়েলি দখলদারির বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সরাসরি নিজের সমর্থন প্রকাশ করছেন অবলিলায়। চির শিশুর মতো স্বাধীনচেতা ম্যারাডোনার পক্ষেই তা সম্ভব ছিল।

মানুষের প্রবণতা হচ্ছে- নিজে যেটা করতে পারে না, সেটা অন্য কারও মধ্যে হতে দেখলে তাতে সমর্থন জানানো। নিজের স্বপ্নকে অন্যের হাত ধরে হলেও বাস্তবায়িত হতে দেখলেও মানুষের তৃপ্তি আসে। তাই আমরা যখন স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মুখ বন্ধ করে রাখার বিপরীতে একজন ম্যারাডোনাকে দেখি- রাষ্ট্রপ্রধানের বিরুদ্ধে, প্রচলিত নিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে, তখন ম্যারাডোনা হয়ে ওঠেন সারাবিশ্বের শোষিত মানুষের মুখপাত্র।

তাই ম্যারাডোনার হাতে বিশ্বকাপ জয়ের ট্রফি হয়ে ওঠে আমাদেরও বিজয়ের ট্রফি। ফকল্যান্ড যুদ্ধের পর ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের জয় তাই সারা দুনিয়ার স্বাধীনতাকামী মানুষেরই জয়।

ম্যারাডোনাকে তাই শুধুই ফুটবলার হিসেবে আমরা দেখতে পাইনি। নিজেকে তিনি নিয়ে গিয়েছিলেন আরও উচ্চতায়। একজন রাজনীতি সচেতন, গণতন্ত্রকামী, ক্ষ্যাপাটে, অদম্য বিপ্লবীর নাম ম্যারাডোনা। তাই ম্যারাডোনা ছিলেন ফুটবলারের চেয়েও অধিক। আর এসব কারণেই আমরা ম্যারাডোনাকে এতো ভালোবাসি।

উই লাভ ইউ দিয়েগো ম্যারাডোনা ! তোমার স্মৃতি অমর হোক !

লেখক: এহ্‌সান মাহ্‌মুদ

কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক।