রোকেয়ার কবর কোথায়?|264093|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১২ ডিসেম্বর, ২০২০ ১৯:১৮
রোকেয়ার কবর কোথায়?
অনলাইন ডেস্ক

রোকেয়ার কবর কোথায়?

গত বুধবার (৯ ডিসেম্বর) ছিল বেগম রোকেয়া দিবস। বাংলার নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়ার ১৩৫তম জন্ম ও ৮৩তম মৃত্যুবার্ষিকী।

সারা দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে রোকেয়া দিবস পালিত হলেও অনেকেই জানেন না এই মহীয়সী নারীর কবরটি কোথায়। জানা যায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতার উপকণ্ঠে সোদপুর পানিহাটিতে অন্তিম শয়ানে ঘুমিয়ে আছেন বেগম রোকেয়া।

ফটোগ্রাফার ও ‘পাঠশালার’ প্রতিষ্ঠাতা শহিদুল আলমের ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফাইল থেকে শেয়ার করা এক পোস্ট থেকে এ তথ্য জানা যায়। প্রিয়া সেনের বরাত দিয়ে ফায়জুল হাকিম ফেইসবুকে বেগম রোকেয়ার কবরের খোঁজ উল্লেখ করে মূল পোস্টটি দেন।

জানা যায়, নারী জাগরণের কথা বলাসহ মেয়েদের জন্য স্কুল প্রতিষ্ঠা করায় তৎকালীন ধর্মীয় সমাজের বাধায় বেগম রোকেয়াকে কলকাতার কোনো কবরখানায় সমাহিত করা সম্ভব হয়নি।

অনেক দিন পর্যন্ত বেগম রোকেয়ার কবরের খোঁজই তেমন কেউ জানত না। পরে ঐতিহাসিক অমলেন্দু কলকাতার উপকণ্ঠে সোদপুর পানিহাটিতে এই মহীয়সী নারীর কবরটি খুঁজে বের করেন।

তার কবরটি শ্বেতপাথর দিয়ে বাঁধানো। তার ওপর লেখা- স্ত্রী শিক্ষা ও নারীমুক্তি আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনকে এখানে সমাহিত করা হয়েছিল।

জানা যায়, তৎকালীন কলকাতার ধর্মীয় সমাজের বাধায় লোকচক্ষুর আড়ালে কোনো এক আবদুর রহমানের দেয়া জমিতে পানিহাটিতে গঙ্গার ধারে সমাহিত করা হয় রোকেয়াকে।

তবে আবদুর রহমান কে ছিলেন, তা নিশ্চিত করে জানা যায় না। কেউ বলেন বেগম রোকেয়ার ছোট বোনের বর। কিন্তু তার বোন, হোমায়রা খাতুনের স্বামী তোফাজ্জ্বল হোসেন চৌধুরীর বাড়ি বাংলাদেশে। (তাদের ছেলে আমীর হোসেন চৌধুরী নজরুল গবেষক ছিলেন। তিনি রোকেয়ার কাছে মানুষ। হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা প্রতিরোধকালে শহীদ হন)৷

অন্যদিকে, আবদুর রহমান বলে একজন ব্যক্তি রোকেয়া নামে জীবনীগ্রন্থ লিখেছেন। তার সাথে রোকেয়ার পরিবারের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলে জানা যায়। অনেকে মনে করেন তিনিও রোকেয়াকে সমাহিত করার জমি দিয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, রোকেয়ার কোনো কাজিনের স্বামী ছিলেন উক্ত আবদুর রহমান।

ফেইসবুকের ওই পোস্ট থেকে জানা যায়, মৃত্যুর কিছুদিন আগে বেগম রোকেয়া তার কোন ছাত্রীকে বলেছিলেন ‘কবরে শুইয়া শুইয়াও যেন আমি মেয়েদের কলকোলাহল শুনতে পাই’। সেই ইচ্ছা পূর্ণ হয় রোকেয়ার প্রয়াণের প্রায় এক দশক পরে। ঠিক রোকেয়ার কবরের পাশে, ওই স্থানেই গড়ে উঠেছে ‘পানিহাটি বালিকা বিদ্যালয়’ নামে মেয়েদের একটি স্কুল।