কলারোয়া পৌর নির্বাচন: নানা সমীকরণে চলছে ভোটের হিসেব-নিকেশ|270890|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১৫ জানুয়ারি, ২০২১ ১৭:৩৯
কলারোয়া পৌর নির্বাচন: নানা সমীকরণে চলছে ভোটের হিসেব-নিকেশ
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

কলারোয়া পৌর নির্বাচন: নানা সমীকরণে চলছে ভোটের হিসেব-নিকেশ

সাতক্ষীরার কলারোয়ার পৌরসভা নির্বাচন আগামী ৩০ জানুয়ারি। এই নির্বাচনকে ঘিরে কলারোয়ায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। নির্বাচন উপলক্ষে পোস্টার, আর ব্যানারে ছেয়ে গেছে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড।

নির্বাচনে জয় লাভ করতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে নানান সমীকরণ। তবে ভোট সুষ্ঠু হবে কি না এই সংশয় আছে বিএনপির নেতা কর্মীদের মধ্যে। আর ভোটাররা বলছেন উন্নয়নের জন্য তারা সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন।

কলারোয়ার পৌরসভা নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামি বরখাস্ত মেয়র আক্তারুল ইসলাম ও তার স্ত্রী নাসরিন সুলতানা। নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বুলবুল ও বিদ্রোহী প্রার্থী সাজেদুর রহমান খান মজনুকে নিয়ে দীর্ঘদিনের দলীয় কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। আর বিএনপির প্রার্থী শরিফুজ্জামান তুহিন এই সুযোগে ঘর গুছিয়ে জোর প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।  

কলারোয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, আগামী ৩০ জানুয়ারি কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে লড়ছেন ৫ জন। কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন আর মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩ জন প্রার্থী লড়ছেন। ইতিমধ্যে প্রতীক বরাদ্দ হয়ে গেছে। কলারোয়া পৌরসভায় ২১ হাজার ২’শ ৮১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ২’শ ৮৫ জন ও নারী ভোটার রয়েছে ১০ হাজার ৯’শ ৯৬ জন। এবারের নির্বাচনে ৯টি কেন্দ্রে ৬৩টি কক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

মেয়র পদে নৌকা প্রতীক পেয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মেয়র মনিরুজ্জামান বুলবুল। আর বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক  সাজেদুর রহমান খান মজনুর প্রতীক মোবাইল ফোন। আওয়ামী লীগের একটি অংশ বিদ্রোহী প্রার্থী সাজেদুর রহমান খান মজনুর সাথে কাজ করছে। দলের মধ্যে গ্রুপিং থাকার কারণে কলারোয়ায় পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এই পর্যন্ত জয়লাভ করতে পারেনি। সুষ্ঠু ভোট হলে নৌকার প্রার্থীর ভরাডুবি হবে বলে মনে করেন সাধারণ ভোটারদের মধ্যে অনেকে।

বিএনপির প্রার্থী শরিফুজ্জামান তুহিন পেয়েছেন ধানের শীষ প্রতীক। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন শেখ হাসিনার গাড়িবহরে হামলা মামলার আসামি বরখাস্ত মেয়র গাজী আক্তারুল ইসলাম (নারকেল গাছ প্রতীক) ও তার স্ত্রী নাসরিন সুলতানা (জগ প্রতীক) মেয়র পদে লড়ছেন।

শরিফুজ্জামান তুহিন বলছেন, তার দলের নেতা কর্মীরা দলের বিদ্রোহী দুজনকে দলের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বলেছে। তাদের সাথে আলোচনা চলছে। বিদ্রোহী প্রার্থীরা দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিলে ধানের শীষের জয়লাভ সহজ হবে। তবে বিএনপির কর্মী সমর্থকেরা এ কথাও বলছে, কৌশলগত করণে তারা দলের ৩ জন প্রার্থী রেখেছেন । বরখাস্ত মেয়র আক্তারুল ইসলামের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার সাজা হয়ে যেতে পারে।

বিএনপি দলীয় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শরিফুজ্জামান তুহিন জানান, ভোট যদি সুষ্ঠু হয় আর মানুষ যদি ভোট কেন্দ্রে যেতে পারে তবে তিনিই এই নির্বাচনে জয় লাভ করবেন।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাজেদুর রহমান খান মজনু জানান, তিনি নৌকা প্রতীক চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে নৌকা প্রতীক দেওয়া হয়নি। তিনি পৌরসভার নেতা কর্মী সমর্থকদের চাপে মেয়র পদে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। দলেয় নেতা কর্মীরা তার সঙ্গে আছে। ঢাকা থেকে নৌকা প্রতীক দেওয়া প্রার্থীকে স্থানীয় নেতাকর্মীরা মেনে নিতে পারছে না।

কলারোয়া আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মনিরুজ্জামান বুলবুল জানান, দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। সাধারণ মানুষ তাকে ভালোবাসে। সাধারণ ভোটারদের সাথে নিয়ে  তিনি নির্বাচনী  কাজ করে যাচ্ছেন। এই নির্বাচনে তিনি জয় লাভ করবেন বলে জানান।

কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু জানান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এর আগে পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরোধিতা করেছিল। যার কারণে পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হয়। এছাড়া তিনি বরাবরই দলের লোকজনদের সাথে বিরোধিতা করেন। এবার তার শ্যালক নৌকা প্রতীক পেয়েছেন। সে কারণে দলের লোকজন তাকে মেনে নিতে পারছেন না। দলের নেতা কর্মীদের বুঝিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট নিতে হবে।

কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন জানান, গত নির্বাচনে তিনি নৌকার পক্ষে কাজ করেছেন। তার নিজের কেন্দ্রে সে সময় নৌকা প্রতীক প্রথম হয়েছিল। দলের মধ্যে কিছু লোক আছে নেশাগ্রস্ত। তারা জামায়াত বিএনপির লোক নিয়ে চলে। তারা এবার নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হোসেন জানান, জামায়াত বিএনপির নিকট থেকে টাকা নিয়ে এই পৌরসভা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে মজনু চৌধুরীকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের সিদ্ধান্ত সবাইকে মেনে চলতে হবে। দলের বাইরে কেউ না।