বাংলা ভাষা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান|271789|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২০ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০
বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রাণপুরুষ ।। ১১ মার্চ ১৯৪৮
বাংলা ভাষা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান
বিপ্লব মোস্তাফিজ

বাংলা ভাষা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের কক্ষপথের কেন্দ্রবিন্দু ছিল রাষ্ট্রভাষার বিতর্ক ও ভাষার অধিকারের লড়াই। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ভারত বিভাগের পরপরই ভাষার আধিপত্য কায়েমের এজেন্ডা নিয়েছিল যার উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের ভাষিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে দমিয়ে রাখা। তাদের সেই অপপ্রয়াসের বিরুদ্ধে বাঙালি ছাত্র-শিক্ষক-তরুণ-সংস্কৃতিকর্মীরা ধারাবাহিক প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল আর সেই পথ বেয়ে এসেছিল স্বাধীন বাংলাদেশ। এই লড়াইয়ে সে সময়ের তরুণ রাজনীতিক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আত্মস্থ করেছিলেন রাষ্ট্রভাষা ও সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের রাজনৈতিক গুরুত্ব।

১৯৪৮ থেকে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা রক্ষায় পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা আন্দোলনের বীজতলা তৈরি করে দিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাই আমাদের রক্তস্নাত বর্ণমালার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিক সংগ্রামে এক স্বাপ্নিক কারিগর হিসেবেই ইতিহাসে স্থান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের। যে ভাষার জন্য এমন হন্যে, এমন আকুল হয়েছিল বাঙালি সেই ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদান চিরস্মরণীয়।

১৯২০ সালে ভারতের সাধারণ ভাষা (লিংগুয়া ফ্রাঙ্কা) নির্ধারণের জন্য বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এক প্রবন্ধের মাধ্যমে হিন্দির বিরোধিতা করে বাংলা ভাষার দাবি উপস্থাপন করেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন গড়ে তোলার কর্মকৌশল নির্ধারণ করেন জ্ঞানতাপস ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ।

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভের মধ্য দিয়ে বাংলা ও পাঞ্জাবকে দুই ভাগ করে ভারত-পাকিস্তান দুই রাষ্ট্রের জন্ম তথা দেশভাগ হলে, সে বছরেরই ৩০ ডিসেম্বর গঠিত হয়েছিল প্রথম ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’। অবিভক্ত বাংলাকে এই ভাবে দুই টুকরো করার বেদনা তরুণ শেখ মুজিব মেনে নিতে পারেননি। তাই কলকাতা থেকে ঢাকায় ফিরেই মুজিব অবিভক্ত বাংলার রাজনীতি থেকে পূর্ববাংলার নিজস্ব রাজনীতি নির্মাণে মনোনিবেশ করেছিলেন। দেশভাগের ঠিক পরের বছরই তিনি অছাত্র ও এলিটদের নিয়ন্ত্রিত ‘নিখিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’-এর বিপরীতে গণতান্ত্রিক ধারায় সক্রিয় ছাত্রনেতাদের নিয়ে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’ প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দেন। ঠিক পরের মাসেই, ১৯৪৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি করাচিতে পাকিস্তান সংবিধান সভায় উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাবে সব মুসলিম লীগ সদস্য সমর্থন দেয়। এর প্রতিবাদে ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’ ও তমদ্দুন মজলিশ যুক্তভাবে সর্বদলীয় সভা আহ্বান করে ‘রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে এবং ১১ মার্চ ‘বাংলা ভাষা দিবস’ পালনের ঘোষণা দেয়। মুজিব তার দায়িত্বে থাকা ফরিদপুর, যশোর, খুলনা ও বরিশালে সভা করে দিবসটি পালনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সারা দেশে পালিত হয় প্রথম ধর্মঘট। ১১ মার্চ রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ধর্মঘট পালনকালে অন্য আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ঢাকার সচিবালয় গেট থেকে মুজিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। চারদিন পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। নবগঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রে এটিই তার প্রথম কারাবাসের অভিজ্ঞতা। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের আমতলায় পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের এক সাধারণ সভায় বঙ্গবন্ধু সভাপতিত্ব করেন। এ সভা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে চলমান আন্দোলনে ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’-এর সঙ্গে মুসলিম ছাত্রলীগের ঐক্য প্রক্রিয়া অনুমোদন দেয়। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকায় মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দিলে ছাত্ররা মুখের ওপর তা প্রত্যাখ্যান করে। মুসলিম লীগ এলিটদের মদদপুষ্ট ‘নিখিল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’ জিন্নাহকে অন্ধভাবে সমর্থন দেয় এবং সম্পূর্ণভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এর বিপরীতে মুজিব ও তার সমমনাদের নেতৃত্ব ‘পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ’ বাংলাকে রাষ্ট্র ভাষা করার দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং ছাত্রদের মধ্যে জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

১৯৫২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি মুজিবসহ রাজবন্দিরা পূর্ব পাকিস্তানের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নুরুল আমিন বরাবর এ মর্মে চিঠি দেন যে, ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তাকে ও অপর বন্দি মহিউদ্দিন আহমেদকে নিঃশর্ত মুক্তি দেওয়া না হলে তারা ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে আমরণ অনশনে যাবেন। ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২ সালে অন্যায়ভাবে দুই বছরেরও অধিক সময় আটকে রাখার প্রতিবাদে শেখ মুজিবুর রহমান কারাগারে অনশন শুরু করেন। কারাগারে বসেই ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্টভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের মিছিলে পুলিশের গুলি চালানো এবং কয়েকজনের শহীদ হওয়ার খবর পান মুজিব। টানা দশ দিন অনশনের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর কারাগার থেকে অসুস্থ অবস্থায় মুক্তিলাভ করেন। সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগেই মুজিব টুঙ্গিপাড়া থেকে ঢাকা যান এবং সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু করেন। রাষ্ট্রভাষার দাবিতে শহীদদের আত্মদানের বিষয়টিকে মুজিব অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করেন এবং রাজনৈতিকভাবে রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়ে যান। মাওলানা ভাসানী ১৯৫২ সালের ১১ এপ্রিল ঢাকা জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আত্মসমর্úণের আগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে একটি চিঠি লেখেন। সেখানে পূর্ব বাংলার সাড়ে চার কোটি নিপীড়িত মানুষের মুক্তির লড়াই এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য শেখ মুজিবসহ আর যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ তরুণ কর্মী-সংগঠক রয়েছেন তাদের প্রতি অনুরোধ করেন।

১৯৫২ সালের ৩০ মে সরকারি নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মুজিব করাচিতে প্রধানমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। সেখানে ভাষা আন্দোলনে গ্রেপ্তারকৃত সব বন্দিকে মুক্তির দাবি জানান একুশে ফেব্রুয়ারি শান্তিপূর্ণ মিছিলে কেন গুলি চালানো হলো এবং হত্যাযজ্ঞ চালানো হলো সে বিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর একটি সংবাদ সম্মেলন করে পূর্ব বাংলার ভাষা আন্দোলন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি সবিস্তারে তুলে ধরেন শেখ মুজিব। ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৩ সালে প্রথম শহীদ দিবস ঢাকার আরমানিটোলা মাঠে আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বঙ্গবন্ধু বলেন একুশে ফেব্রুয়ারি কেবল ভাষার অধিকার আদায়ের সংগ্রামের দিন নয়। বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার আন্দোলন, খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা বিধান, অধিকার, বাক-স্বাধীনতা ও বঞ্চনামুক্ত সমাজ নির্মাণের আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

১৯৫৫ সালের ২৪ ও ২৫ জুলাই মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জে দুটি সমাবেশে একুশে ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি ঘোষণা এবং ভাষা আন্দোলন স্মরণে শহীদ মিনার স্থাপনের দাবি জানান বঙ্গবন্ধু। বাংলা ও বাঙালির বিষয়ে মুজিব বরাবরই ছিলেন আপসহীন। তাই ২৫ আগস্ট ১৯৫৫ সালে পাকিস্তানের গণপরিষদে দেওয়া এক ভাষণে প্রস্তাবিত ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নামের বিরোধিতা করেন বঙ্গবন্ধু এবং পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটিকে ‘পূর্ব বাংলা’ নামকরণের আহ্বান জানান। সে সময়ে মুজিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন যেএখন একমাত্র বঙ্গোপসাগর ছাড়া আর কোথাও ‘বাংলা’ নামটিও রাখছে না পাকিস্তানিরা। 

১৯৫২ সালের ২৬ এপ্রিল আওয়ামী মুসলিম লীগের সহ-সভাপতি আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মুজিবকে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। দায়িত্ব পাওয়ার পর মুজিব একটি সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা, রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি এবং ২১ ফেব্রুয়ারির শহীদদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি জানান এবং কেনো শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো হলো তা তদন্তেরও দাবি জানান।

১৯৫২ সালের ২ অক্টোবর চীনের রাজধানী পিকিং-এ (পেইচিং) এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীর ৩৭টি দেশের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত শান্তি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলায় বক্তৃতা করেন। ইতিহাসের নানা পর্যায়েই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এমন বাঙালি-সত্তার বলিষ্ঠতা বারবার ঘুরে ফিরে এসেছে। কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদায় প্রতিষ্ঠার সাফল্য বাঙালির স্বাধিকারের আন্দোলনের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছিল। স্বাধিকারের পথপরিক্রমা আর স্বাধীনতার চূড়ান্ত সংগ্রামে বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা হয়ে উঠেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ রেসকোর্সের ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের মধ্য দিয়ে ফুঠে উঠেছিল বাংলা ভাষার দ্রোহী সৌন্দর্য। নিজ ভাষার ভাষণের যে বিশ^জনীনতা রয়েছে বঙ্গবন্ধুর বাচিক মহাকাব্য সেটা সেদিন প্রমাণ করেছিল। যে ভাষণ এখন ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব স্মৃতির অনন্য ঐতিহাসিক দলিলের মর্যাদায় অভিষিক্ত।

স্বাধীনতার পর মাত্র ১১ মাসের মধ্যেই পৃথিবীর অন্যতম সুলিখিত সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেই সংবিধানের হাতে লেখা বাংলা সংস্করণ অলংকরণের দায়িত্ব দিয়েছিলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনকে।

১৯৭৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু বাংলা একাডেমির উদ্যোগে সপ্তাহব্যাপী জাতীয় সাহিত্য সম্মেলন উদ্বোধন করেন। এটিই অমর একুশে গ্রন্থমেলার প্রাতিষ্ঠানিক যাত্রার ভিত্তি। ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার প্রধান হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় অংশগ্রহণ করেন। এবার এই বিশ^সভায়ও তিনি বাংলায় ভাষণ দেন। এই ভাষণের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষাকে বিশে^র দরবারে অন্য আঙ্গিকে পৌঁছে দেন তিনি। ওই ভাষণে বঙ্গবন্ধু বলেন‘একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসেবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়’। সর্বস্তরে বাংলাভাষার প্রচলনে বঙ্গবন্ধু জোরালো ভূমিকা রেখেছিলেন। তার লেখনীতে, বক্তব্যে রাজনৈতিক বাণীতে ভাষার সারল্য অতুলনীয়। বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করেছিলেন ‘ফাঁসির মঞ্চে যাওয়ার সময়ও আমি বলব আমি বাঙালি, বাংলা আমার দেশ, বাংলা আমার ভাষা।’ বাংলাভাষার প্রতিটি রক্তস্নাত অক্ষরে মিশে আছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নাম। 

ভাষা আন্দোলন থেকে ছেষট্টির ছয় দফা, উনসত্তরের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে কারামুক্তি আর সত্তরের নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালির বঙ্গবন্ধু এভাবেই ইতিহাসের ধাপে ধাপে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রাণপুরুষে পরিণত হয়েছিলেন। আজ প্রায় ২৬ কোটি মানুষের ভাষা হিসেবে বাংলা বিশ^ মানচিত্রে এক শক্তিশালী সংস্কৃতিক আত্মপরিচয়ের ভাষিক মাধ্যম। চর্যাপদ থেকে যে ভাষার লালনীল দীপাবলী জ¦লেছেএ মাটির মানসপুত্র বঙ্গবন্ধুর মনন ও চৈতন্য সে ভাষার প্রতি নিমগ্ন ছিল তার মহাকাব্যিক জীবন প্রবাহে।

লেখক : বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক

গণমাধ্যম ও উন্নয়নকর্মী