অন্ধকারে বেশিরভাগ দেশ|272476|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০
অন্ধকারে বেশিরভাগ দেশ
করোনাভাইরাসের নতুন ধরন
রূপান্তর ডেস্ক

অন্ধকারে বেশিরভাগ দেশ

করোনাভাইরাস মহামারীতে গোটা বিশ্বে যখন প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ মারা যাচ্ছে তখনই জায়গায় জায়গায় ভাইরাসটির নতুন ধরনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে। আর এমন ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিজ্ঞানীরাও শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। গত শুক্রবার যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তার দেশে পাওয়া করোনার নতুন ধরনটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী। তবে পিছিয়ে নেই যুক্তরাষ্ট্রের ধরনটিও। ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, করোনায় শুধু তার দেশেই মৃতের সংখ্য ছয় লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

করোনার নতুন ধরনগুলোর যখন এই অবস্থা, তখন কী করছে বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এমন প্রশ্নের উত্তর আসলে পাওয়া যায়নি। হাতেগোনা কয়েকটি দেশ নতুন ধরনগুলোর রূপান্তর মনিটর করছে। বাকি দেশগুলোর কোনো ধারণাই নেই এ ব্যাপারে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে করোনাভাইরাসটি রূপান্তরিত হয়ে আরও প্রাণঘাতী হলে কিছু করার থাকবে না মানুষের পক্ষে।

গত বছরের শুরুতে সার্স-কভ-২ সিকোয়েন্স নজরে আসে বিজ্ঞানীদের। ওই শনাক্তকরণের ভিত্তিতেই মূলত করোনা চিকিৎসায় বা প্রতিরোধে ওষুধ ও টিকা তৈরিতে নামেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু করোনার নতুন রূপান্তরের ফলে প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে যে, তৈরি হওয়া করোনা টিকাগুলো রূপান্তর হওয়া ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারবে কি-না। এমন প্রশ্নের কোনো সঠিক উত্তর এখনো বিজ্ঞানীরা দিতে পারেননি। তবে মডার্নার মতো ওষুধ কোম্পানিগুলো বলছে, তাদের উদ্ভাবিত টিকা করোনার নতুন ধরনগুলোর বিরুদ্ধেও সমান কার্যকরী। প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারিতে প্রথম করোনা শনাক্তের পর এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজারের বেশিবার ভাইরাসটি রূপান্তরিত হয়েছে।

তথ্য পর্যালোচনাকারী প্রতিষ্ঠান জিআইএসএআইডি একাই করোনার তিন লাখ ৭৯ হাজার সিকোয়েন্স মনিটর করেছে। এই সিকোয়েন্সগুলোর মধ্যে ১ লাখ ৬৬ হাজারই যুক্তরাজ্যে। যুক্তরাজ্যের স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ট ট্রান্সফর্মেশন ইনস্টিটিউটের প্রধান এওয়ান হ্যারিসন এএফপিকে বলেন, ‘মানব ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একটি ভাইরাসের এত দ্রুত ও অধিকসংখ্যক রূপান্তর প্রত্যক্ষ করছি আমরা। আমাদের ভাবনার চেয়েও অধিক গতিতে এই ভাইরাস রূপান্তরিত হচ্ছে।’ ইনস্টিটিউটটি বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে ১০ হাজার সিকোয়েন্স পর্যালোচনা করছে। এই সিকোয়েন্সগুলোর ৬ শতাংশই যুক্তরাজ্যের।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, বিশ্বজুড়ে ভাইরাস শনাক্ত ও রূপান্তরের বিষয়টি অগ্রাধিকারের সঙ্গে দেখা উচিত। কিন্তু ভাইরাসকে ক্রমাগত মনিটর করার জন্য যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় তা অধিকাংশ দেশেরই নেই। ডব্লিউএইচওর কভিড-১৯ টেকনিক্যাল দলের প্রধান মারিয়া ভ্যান কারখভ জানান, করোনার রূপান্তর প্রায় সব দেশে শুরু হলেও মাত্র কয়েকটি দেশ থেকে এর খবর ও উপাত্ত পাওয়া যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘ভৌগোলিকভাবে এই সিকোয়েন্স করার প্রবণতা খুব কম। করোনাভাইরাসের রূপান্তরের ব্যাপারে দেশগুলো অন্ধের মতো চলছে।’

২০০২ সালে যখন সার্স ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছিল তখন প্রথম মাসে ভাইরাসটির তিনটি রূপান্তর প্রকাশ করেছিলেন বিজ্ঞানীরা। এর পরের তিন মাসে ৩১ বার রূপান্তরিত হয় ভাইরাসটি। তখন বিজ্ঞানীরা সার্স ভাইরাসকে ঠেকিয়ে দিতে পারলেও এর রূপান্তরকে বন্ধ করা যায়নি। একদল বিজ্ঞানী বিশ্বাস করেন, সার্স ভাইরাসেরই রূপান্তরিত ধরন কভিড-১৯। কভিড-১৯-এর রূপান্তরিত ধরনগুলো কতটা বৈচিত্র্যময় তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। ইউরোপজুড়ে নতুন ধরনগুলোর ব্যাপক প্রকোপ লক্ষ করা যাচ্ছে অন্য মহাদেশের তুলনায়। ইউরোপের মধ্যে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েও এই রূপান্তর ঠেকানো যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত নতুন ধরনগুলোর মধ্যে একটি সাধারণ মিল হলো, এগুলো সবই অনেক বেশি সংক্রামক। কভিড-১৯-এর তুলনায় অনেক বেশি গতিতে মানুষকে সংক্রমিত করছে এই নতুন ধরনগুলো।