গণমাধ্যমকর্মীর পদচারণা ছিল সর্বত্র|272507|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০
গণমাধ্যমকর্মীর পদচারণা ছিল সর্বত্র
আরিফুর রহমান তুহিন

গণমাধ্যমকর্মীর পদচারণা ছিল সর্বত্র

‘গণমাধ্যমকর্মী যতটুকু জানায়, জনগণ ঠিক ততটুকুই জানতে পারে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের কারণে এখন আর এই উক্তি তেমন একটা কার্যকর নেই। অনেক ক্ষেত্রে গণমাধ্যমে প্রকাশের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিকের কাছে খবর পৌঁছে যায়। তবে সেই খবরের সত্য-মিথ্যা যাচাই করা খুবই কঠিন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সংবাদটি ছিল গুজব। তাই খবরের উৎস যেখান থেকেই হোক না কেন, সচেতন নাগরিকরা তার সত্যতা নিশ্চিতের জন্য গণমাধ্যমেরই দ্বারস্থ হয়। হোক সেটা সংবাদপত্র, টেলিভিশন, নিউজ পোর্টাল কিংবা এফএম রেডিও। সংবাদের সত্যতা যাচাইয়ের প্রধান মাধ্যমই হলো গণমাধ্যম, যার পেছনে কাজ করে কয়েক হাজার কর্মী।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। গণমাধ্যমের বরাতেই বিশ্ববাসী এই ভাইরাসের কথা জানতে পারে। সেই খবর প্রচার করতে গিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে নিখোঁজ হন চীনের তিন সাংবাদিক। তাদের মধ্যে লি জেহুয়া নামে একজন এপ্রিলে ফিরে আসেন। চেন কুইশির নামের আরেকজনের খোঁজ পরে পাওয়া গেলেও তাকে সরকারি নজরদারিতে রাখা হয়। তবে তৃতীয় সাংবাদিক ফাং বিন এখনো নিখোঁজ। এছাড়া ঝ্যাং ঝান নামের আরেক সাংবাদিককে আটক করে চায়না পুলিশ। দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এতসব বাধার পরও থেমে থাকেননি এই সম্মুখ-যোদ্ধারা। জীবনকে বাজি রেখে তারা বিশ্ববাসীর কাছে চীনের সংক্রমণের খবর পৌঁছে দিয়েছেন। যার কারণে বিশ্ববাসী আগে থেকেই এই ভাইরাস সম্পর্কে অবগত হয়। কিছুটা হলেও তারা প্রস্তুত হওয়ার সময় পায়। 

চীনে করোনার সংক্রমণের খবর প্রকাশের পর থেকেই বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীরা নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে থাকেন। বর্তমানে চীনে কয়েক হাজার বাঙালি বসবাস করছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মাধ্যমে আমরা তথ্য নিলেও মূল সোর্স হিসেবে কাজ করছিল সেখানকার বসবাসরত বাঙালিরা। নিয়মিত তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সংবাদ প্রকাশ করেছে গণমাধ্যমকর্মীরা। বোঝার চেষ্টা করেছিল করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আসলে কী করা উচিত, চীন সরকার ও জনগণ কী করছে। এছাড়া যেহেতু কয়েক হাজার বাঙালি সেখানে বাস করে, তাই এদের পরিবারগুলোও সেখানকার খবর জানার জন্য উদগ্রীব ছিল। প্রথম কয়েক দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজবের ডালপালা ছড়ালেও পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমের কল্যাণে দেশের মানুষ চীন সম্পর্কে মোটামুটি একটা ধারণা পায়। এছাড়া সেখানে অবস্থানরত বাঙালি শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে নিয়মিত চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের দূতাবাস ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতে থাকে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে করোনার পরিস্থিতি কী ও মোকাবিলায় কী কী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। জনগণ যাতে ভুল তথ্যে বিভ্রান্ত না হয় সেজন্য প্রতিদিনই এসব বিষয়ে প্রতিটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হতে থাকে। এটা ছিল করোনার প্রথম দিককার কথা।

৮ মার্চ, ২০১৯। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হলো দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমগুলো সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হলো। দেশের কোথাও করোনার উপসর্গযুক্ত রোগী আছে কি না সে বিষয়ে খোঁজ নিতে থাকল। হাসপাতালগুলো করোনা মোকাবিলায় কতটুকু প্রস্তুত? কী কী ঘাটতি আছে সে বিষয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে থাকে। এতে করে স্বাস্থ্য খাতের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত হয়। সরকার সেসব সমস্যা দূর করার উদ্যোগ নেয়। ১৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু ঘটলে গণমাধ্যমগুলো আরও গবেষণা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার দিকে নজর দেয়। প্রতিটি গণমাধ্যমের প্রধান শিরোনাম করোনাকেন্দ্রিক হতে শুরু করে। করোনা পরীক্ষার দুর্বলতা, চিকিৎসাসেবা নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হতে থাকে। গণমাধ্যমকর্মীরা প্রতিদিন হাসপাতালগুলো পরিদর্শন করতে থাকেন।

যুদ্ধ, মহামারী কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগসবখানে গণমাধ্যমকর্মী। যুদ্ধের ময়দানে গুলি ও বোমাকে উপেক্ষা করে গণমাধ্যমকর্মীরা তথ্য সংগ্রহ করে মানুষের কাছে সঠিক তথ্য উপস্থাপন করে থাকেন। বিশ্ববাসী এতদিন এমন সাহসীদের দেখেছে। তবে গণমাধ্যমকর্মীদের যে সাহসের কোনো সীমা নেই তা করোনা না এলে বোঝা যেত না। করোনার ভয়াবহতা যুদ্ধের চেয়ে কম নয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অনেক বেশি। যুদ্ধ একটি নির্দিষ্ট দেশ বা স্থানে হয়ে থাকে। করোনা একটি ছোঁয়াচে রোগ, যার ব্যাপ্তি বিশ্বব্যাপী। করোনা মোকাবিলায় বিশ্বের ৪০০ কোটি মানুষ টানা দেড় মাস স্বেচ্ছাবন্দি ছিল। কর্মব্যস্ত পৃথিবী থমকে গিয়েছিল কয়েক দিনের জন্য। চারদিকে নেমে এসেছিল নিস্তব্ধতা। এই ভয়াবহতার মধ্যেও এক দিনের জন্যও বিশ্বের কোনো গণমাধ্যম তার সংবাদ প্রচারে থেমে থাকেনি। বরং দিনে দিনে আরও তথ্যবহুল, আরও গবেষণা ও অনুসন্ধানকেন্দ্রিক সংবাদ প্রচার করে গেছে। এখনো তা চলমান আছে। করোনার হিসাব রাখে ‘ওয়ার্ল্ডো মিটার’ নামে একটি ওয়েবসাইট। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ৯ কোটি ৮২ লাখ ৫৭ হাজার মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যা ২১ লাখ ৪ হাজার অতিক্রম করেছে।

করোনায় দেশে প্রথম গণমাধ্যমকর্মী শনাক্তের ঘটনা ঘটে ৩ এপ্রিল। একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান করোনায় আক্রান্ত হন। যদিও তার ২৬ মার্চ থেকেই উপসর্গ ছিল। ওই টেলিভিশনের ৬৮ জন কর্মীকে ওইদিনই কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। একটি টেলিভিশনের ৬৮ কর্মী অনুপস্থিত থাকলে সেই টেলিভিশন সম্প্রচার করা কঠিন। তবে অন্য আরও দুটি টেলিভিশন তাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। অব্যাহত থাকে সম্প্রচার। এরপর নিয়মিত একের পর এক গণমাধ্যম অফিসে করোনা হানা দিতে থাকে। এখনো তা অব্যাহত আছে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার হিসাব রাখে ‘আমাদের গণমাধ্যম, আমাদের অধিকার’ নামে ফেসবুকভিত্তিক একটি গ্রুপ। ওই গ্রুপের ২২ জানুয়ারির তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১৪১ জন গণমাধ্যমকর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। কর্মীদের করোনার সংক্রমণ কমাতে গণমাধ্যমগুলো বিশেষ করে পত্রিকা ও অনলাইন ওয়ার্ক ফ্রম হোম সিস্টেম চালু করে। যাদের অফিসে আসতেই হবে তাদের রোস্টার আকারে আনা হয়। স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেসব গণমাধ্যমকর্মীর, বিশেষ করে আলোকচিত্রীর তথ্য সংগ্রহের জন্য বাইরে যেতে হয়েছে, তারা মাস্ক, পিপিই ব্যবহার করে কাজ করেছেন।

২৫ মার্চের পর থেকে যেহেতু দেশে সাধারণ ছুটি চলছিল তাই স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ ছিল। রাস্তাঘাট ছিল অনেকটা জনশূন্য। গণমাধ্যমকর্মীরা নাগরিকের চিকিৎসাসেবা ঠিকমতো পাচ্ছে কি নাতা খুঁজে বের করতে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটে গেছেন। অথচ হাসপাতাল ছিল করোনা সংক্রমণের অন্যতম উৎস। তবুও থেমে থাকেননি তথ্য-যোদ্ধারা। নিশ্চিত বিপদ জেনেও তারা কাজ করে গেছেন। কিছুক্ষণ আগে সহকর্মীর আক্রান্তের বা মৃত্যুর খবর লেখা শেষ করে তথ্য সংগ্রহের জন্য আবারও বাইরে বের হয়েছেন। যোদ্ধার যে কখনো বিরতি নেই। সূর্য ওঠার আগে, রোগী হাসপাতালে পৌঁছানোর আগে গণমাধ্যমকর্মী হাসপাতালে পৌঁছে গেছেন। ছবি তুলেছেন, সরেজমিন প্রতিবেদন করেছেন।

করোনায় দেশে প্রথম গণমাধ্যমকর্মীর মৃত্যু ঘটে ২৮ এপ্রিল। দৈনিক সময়ের আলোর প্রধান প্রতিবেদক হুমায়ুন কবির খোকন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। সাধারণত কোনো গণমাধ্যমকর্মী মারা গেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। তার মৃত্যুর ক্ষেত্রে তা সম্ভব হয়নি। গণমাধ্যমকর্মীরা তখন আরও সতর্ক হতে থাকেন। কিন্তু মৃত্যু থামানো সম্ভব হয়নি। নিয়মিত বিরতিতে একের পর এক গণমাধ্যমকর্মীর মৃত্যু হতে থাকে।

‘আমাদের গণমাধ্যম, আমাদের অধিকার’ গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২২ নভেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ৪৪ জন গণমাধ্যমকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন। এদের মধ্যে নিশ্চিত করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৩২ জনের। উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১২ জন। তবুও চলছে খবরের পেছনে ছুটে চলা।

একদিকে করোনার রোগী বাড়ছে, অন্যদিকে পরীক্ষা করার সুবিধা কমে যাচ্ছে। গণমাধ্যমকর্মীরা সামনের সারির যোদ্ধা। অন্য পেশায় একজন আক্রান্ত হলে সকলকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর সুযোগ আছে। গণমাধ্যমে সেই সুযোগ নেই। তাই নিরাপত্তার স্বার্থে উপসর্গ দেখা মাত্রই পরীক্ষা করা প্রয়োজন। সরকারি হাসপাতালগুলোর দীর্ঘ লাইন ঠেলে গণমাধ্যমকর্মীদের পরীক্ষা করা ছিল দুঃসাধ্য ব্যাপার। এই সমস্যা সমাধানের জন্য জাতীয় প্রেস ক্লাব ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) উদ্যোগ নেয়। সংগঠন দুটি নিজেদের কর্মীদের জন্য করোনা পরীক্ষার বুথ স্থাপনের পরিকল্পনা করে। তাদের পাশে এসে দাঁড়ায় ব্র্যাক নামের বেসরকারি এনজিও। এরপর থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের পরীক্ষার ঝক্কি কিছুটা লাঘব হয়।

করোনাকালে ফ্রন্টলাইনার হিসেবে কাজ করেছে গণমাধ্যমকর্মীরা। অথচ এই সময়ে তাদের নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। করোনার নিয়মিত সংবাদকর্মীদের বাইরে বের হতে হয়েছে। এতে অনেককেই বাড়িওয়ালা বা এলাকাবাসীর রোষানলে পড়তে হয়েছে। অনেককে বাসা ছাড়তেও বলা হয়েছে। হকারদের পত্রিকা বিলি করার জন্য বাসায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছিল না। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা গবেষণা করে ঘোষণা দিয়েছে পত্রিকায় করোনা ছড়ায় না। এসবের পরও অনেকেই হকারদের বাসায় প্রবেশ করতে দেয়নি। নানাভাবে হেনস্থা করেছে তাদের। এছাড়া করোনাকালে গণমাধ্যমগুলোর, বিশেষ করে পত্রিকার আয় ও প্রচার সংখ্যা কমে যায়। এতে অনেক গণমাধ্যম সাময়িক সময়ের জন্য ছাপা পত্রিকা বন্ধ করে দেয়। আর্থিক সংকট মেটাতে অনেকে বেতন কমিয়ে দেয়, অনেকে আবার কর্মী ছাঁটাই শুরু করে। কোনো কোনো গণমাধ্যমে বেতন বকেয়া পড়ে যায়। এই মহামারীকালে এটা ছিল সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তা। তবুও থেমে থাকেননি গণমাধ্যমকর্মীরা। নিয়মিত তারা মানুষের মধ্যে তথ্য পরিবেশন করে গেছেন। গুজব প্রচারকে থামিয়ে দিয়েছেন। করোনায় কী করতে হবে? কোথায় গেলে কোন সেবা মিলবে এসব বিষয়ে নিয়মিত পরামর্শ দিয়েছেন, দিচ্ছেন গণমাধ্যমকর্মীরা।

করোনার সময় গণমাধ্যমের এক কর্মী আরেক কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। কেউ আক্রান্ত হলে সঙ্গে সঙ্গে ওই গণমাধ্যমকর্মীকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়েছে। তখন তার বাসার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পৌঁছে দিয়েছেন তারই কোনো সহকর্মী। অনেকেরই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন পড়েছে। এজন্য গণমাধ্যম কর্মীরা তার সহকর্মীকে সর্বাত্মক সহায়তা করেছেন। বকেয়া বেতন আদায় ও শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধে মাঠে থেকেছে ট্রেড ইউনিয়নগুলো।

মহামারীকালে গণমাধ্যম কেবল করোনার তথ্য নিয়েই কাজ করেনি; এই করোনাকালে সৃষ্ট নানাবিধ সংকট নিয়েও কাজ করেছে। শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকরা বেতন পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়ে। সাংবাদিকরা সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে শ্রমিকদের সঠিক তথ্য দেয়। এতে করে এই খাতটি বড় ধরনের অরাজকতার হাত থেকে রেহাই পায়। করোনার সুযোগে একশ্রেণির অসাধু চক্র বাজারে সিন্ডিকেট গড়ে দ্রব্যমূল্য বাড়িয়ে দেয়। গণমাধ্যম এসব নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে। কোথায় রিলিফ চুরি হলো, কোথায় কোথায় সরকারের অনুদান প্রয়োজন, সেসব নিয়ে গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করে। সরকার তখন সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়। একথা বলাই যায়, অন্য ফ্রন্টলাইনার একটি খাত নিয়ে কাজ করেছে। গণমাধ্যম কাজ করেছে গোটা বিশ্ব নিয়ে।

পৃথিবীতে মানুষ যতদিন আছে, তাদের তথ্য জানার আকাক্সক্ষা ততদিন থাকবে। এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমের বাইরে এমন কোনো প্রতিষ্ঠান জন্ম নেয়নি যার মাধ্যমে মানুষ সঠিক তথ্য পাবে। তাই একথা বলা যায়, তথ্য-প্রযুক্তির এই যুগে গুজব রোধ ও মানুষকে সঠিক তথ্য দিতে গণমাধ্যমের ভূমিকাই মুখ্য। যেসব গণমাধ্যমকর্মী তথ্যযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশ রূপান্তরের পক্ষ থেকে তাদের প্রতি রইল বিনম্র শ্রদ্ধা।

লেখক : সাংবাদিক