বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে প্রাণ|273345|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০
সরকারি প্রণোদনায়
বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে প্রাণ
প্রত্যয় রহমান

বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে প্রাণ

সম্প্রতি ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আরও দুটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। এতে প্রণোদনা প্যাকেজ দাঁড়ায় ২৩টি। মোট আর্থিক পরিমাণ এক লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এটি দক্ষিণ এশীয়  দেশগুলোর মধ্যে জিডিপির বিবেচনায় সর্বোচ্চ। সরকারি প্রণোদনার অধিকাংশ প্যাকেজ বাস্তবায়িত হচ্ছে ব্যাংক খাতের মাধ্যমে। আর কিছু হচ্ছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে...

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের প্রভাবে পুরো বিশে^র সব দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের মন্দা তৈরি হয়। দীর্ঘদিনের লকডাউনের প্রভাবে সৃষ্ট মন্দায় অচল হয়ে পড়া অর্থনীতি সচলে প্রায় সব দেশের সরকারই প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। বাংলাদেশও এ থেকে পিছিয়ে থাকেনি। করোনায় সৃষ্ট ক্ষতি মেটাতে সরকার এখন পর্যন্ত ১ লাখ ২৪ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে, মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) বিবেচনায় যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। সরকারের এই প্রণোদনা শিল্প-কারখানায় গতি সঞ্চার করে, প্রাণ ফেরায় দেশের বিপর্যস্ত অর্থনীতিতে।

গত ৮ মার্চ দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম আক্রান্ত চিহ্নিত হওয়ার দুই সপ্তাহ পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। করোনাভাইরাসে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ক্ষতি মেটাতে ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে গত ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিল্প, সেবা, এসএমই, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলের আকার বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতের জন্য মোট ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। পরে কৃষি এবং নিম্ন আয়ের পেশাজীবী কৃষক ও প্রান্তিক বা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা-ব্যবসায়ীদের জন্য আরও ৮ হাজার কোটি টাকার স্বল্পসুদের প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন তিনি। সব মিলিয়ে করোনাভাইরাসে সৃষ্ট ক্ষতি মেটাতে প্রণোদনা প্যাকেজের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮০ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা। পরে প্রণোদনার আওতা বাড়ায় মোট প্যাকেজের আকার দাঁড়ায় ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা।

সম্প্রতি ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সম্প্রসারণে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আরও দুটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে সরকার। এতে প্রণোদনা প্যাকেজ দাঁড়ায় ২৩টি। মোট আর্থিক পরিমাণ এক লাখ ২৪ হাজার ৫৩ কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। এটি দক্ষিণ এশীয়  দেশগুলোর মধ্যে জিডিপির বিবেচনায় সর্বোচ্চ। সরকারি প্রণোদনার অধিকাংশ প্যাকেজ বাস্তবায়িত হচ্ছে ব্যাংক খাতের মাধ্যমে। আর কিছু হচ্ছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মাধ্যমে।

ঘোষণা অনুযায়ী প্রণোদনার এ ঋণ বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিতরণ করে আর এতে সুদহারে ভর্তুকি দেবে সরকার। তবে প্রণোদনা প্যাকেজের ঘোষণাকালীন বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট থাকায় প্রণোদনার ঋণ বিতরণ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণোদনার ঋণ তহবিলের বেশিরভাগ জোগান  দেয়।

সরকারের এই প্রণোদনা প্যাকেজের সহজ শর্তের ঋণ দেশের শিল্পকারখানার উদ্যোক্তারা আর্থিক সংকট কাটাতে জোরালো ভূমিকা রাখে। রপ্তানিমুখী গার্মেন্ট খাত ক্রয়াদেশ বাতিল বা স্থগিতের পরও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করে কারখানা সচল রাখতে পেরেছে। যার ফলে রপ্তানির প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছে। করোনাকালীন বাংলাদেশ ব্যাংকও বিভিন্ন নীতি সহায়তা দিয়ে নানামুখী সহযোগিতা দিয়েছে শিল্পকারখানা উদ্যোক্তাদের। ২০২০ সালের পুরো সময়টাতে ঋণের কিস্তি পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। আবার ব্যাংকগুলোকেও সঞ্চিতি সংরক্ষণে বড় ধরনের ছাড় দিয়েছে। ফলে ঋণের কিস্তি না পেলেও সঞ্চিতি সংরক্ষণের পরিমাণ কমে আসায় ব্যাংকগুলোর মুনাফায় ধারাবাহিকতা ছিল।  

তারল্য বাড়াতে গত ২৫ মার্চ থেকে দুই দফায় নগদ জমা সংরক্ষণের (সিআরআর) হার  দেড় শতাংশ কমানোর ফলে ব্যাংক ব্যবস্থায় আরও ১৮ হাজার ৬০০ কোটি টাকার তারল্যের জোগান দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর বাইরে আলাদা এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে স্বল্প সময়ের জন্য নেওয়া ধারের সুদহার ৫০ বেসিস পয়েন্ট কমিয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে তারল্যের প্রয়োজনে ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে কম সুদে ঋণ নিতে পারবে। কমানো হয়েছে ব্যাংক রেটের হারও।