এমএসএমইর জন্য গুচ্ছভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা|273349|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ২৮ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০
এমএসএমইর জন্য গুচ্ছভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা
নাজনীন আহমেদ

এমএসএমইর জন্য গুচ্ছভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা

২০১৯-এর এমএসএমই নীতির ৫ নম্বর কৌশলগত লক্ষ্য ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়নের জন্য পাঁচ ধরনের কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে। এগুলো হলো ১) ক্লাস্টারসমূহে অবকাঠামোগত সুবিধা দিয়ে উন্নতি সাধন, ২) ইনকিউবেশন সেন্টার ও কমিউনিটি সেন্টার স্থাপন, ৩) ক্লাস্টারের সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন সিঙ্গেল ডিজিট সুদের হারে অর্থায়ন, ৪) ক্লাস্টার উদ্যোক্তা ও কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ৫) ক্লাস্টারসমূহের উন্নয়ন চাহিদা নিরূপণপূর্বক বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম।

বাংলাদেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দারিদ্র্য বিমোচনে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা এখন সর্বজনস্বীকৃত। কী উপায়ে এই এমএসএমই-গুলোকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করা যায়, সেটা নিয়ে নানারকম পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়ন চলছে। চলমান শিল্পনীতি অর্থাৎ ২০১৬ সালে প্রণীত শিল্পনীতিতে এমএসএমই-এর উন্নয়নে গুচ্ছ বা ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ২০১৯ সালে প্রণীত এসএমই নীতিতেও এরূপ ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। এসএমই নীতির ১১টি কৌশলগত লক্ষ্যের মধ্যে ৫ নম্বর কৌশলগত লক্ষ্য হলো গুচ্ছভিত্তিক উন্নয়ন মডেল।

বাংলাদেশের পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ অর্থনৈতিক জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশে ৭৮ লাখ ১৮ হাজার অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯ লাখ ৭০ হাজার হলো এমএসএমই। এর সঙ্গে অবশ্য কুটিরশিল্প যোগ দিলে তার সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৭৭ লাখ। অর্থাৎ এদেশে শিল্পসহ অর্থনৈতিক কার্যকলাপের মধ্যে কুটির শিল্পের প্রাধান্য বেশি যা প্রায় ৮৭.৫ ভাগ। তবে এই আলোচনায় আমরা মূলত এমএসএমই-এর উন্নয়নের গুচ্ছভিত্তিক উন্নয়ন মডেল ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়ে আলোচনা করব। এ দেশের মোট ব্যবসা-বাণিজ্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান ১২.৪ ভাগ হলো এমএসএমই। শিল্প খাতে যত কর্মসংস্থান হয় তার ৩২ ভাগই হয় এমএসএমই-তে। বিভিন্ন গবেষণায় অতি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলোর কথা আলোচিত হয় তার মধ্যে অন্যতম হলো ঋণপ্রাপ্তির বাধা, শিল্প স্থাপনে জমির সমস্যা, বাজারব্যবস্থায় সম্পৃক্ততার সমস্যা, দক্ষ জনশক্তির অভাব, আধুনিক প্রযুক্তির অভাব, এমএসএমই পণ্যকে বিদেশে রপ্তানি করার ক্ষেত্রে নানান রকম সমস্যা, নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সমস্যা ইত্যাদি। গুচ্ছভিত্তিক উন্নয়ন মডেল এই সমস্যাগুলো কতটা দূর করতে পারবে তা আলোচনার দাবি রাখে।

প্রথমেই বুঝতে হবে ক্লাস্টারভিত্তিক এমএসএমই উন্নয়ন বলতে কী বোঝানো হয়েছে। এসএমই ফাউন্ডেশনের সংজ্ঞা অনুযায়ী ৫ বর্গ কিলোমিটার স্থানের মধ্যে অবস্থিত কমপক্ষে ৫০টি প্রতিষ্ঠান যদি মোটামুটি একই ধরনের পণ্য অথবা সেবা উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে সেই ভৌগোলিক অঞ্চলটিকে উক্ত পণ্য বা সেবার ক্লাস্টার হিসেবে গণ্য করা হবে। আর প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তি দুর্বলতা সমস্যা সম্ভাবনা সেগুলোর মধ্যে মিল থাকতে হবে।

ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়ন মডেল প্রথমেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় কী ধরনের ক্লাস্টার আছে তা নির্ণয় করা হয়। আর এ প্রক্রিয়ায় এসএমই ফাউন্ডেশন ৫১টি জেলায় ১৭৭টি ক্লাস্টার শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক হলো হস্তশিল্প ও এর সঙ্গে সম্পৃক্ত পণ্যের ক্লাস্টার। এছাড়াও আছে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্লাস্টার, হালকা প্রকৌশল উৎপাদনের ক্লাস্টার, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ক্লাস্টার, চালকলের ক্লাস্টার, কাঠের কাজের ক্লাস্টার, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ক্লাস্টার, স্বাস্থ্য ও রোগ-শনাক্তকরণ ক্লাস্টার, তৈরি পোশাক পণ্যের ক্লাস্টার ইত্যাদি। এসব ক্লাস্টারের ৩২ ভাগ হলো ঢাকা বিভাগে, ১৭ ভাগ চট্টগ্রামে, ১৫ ভাগ রাজশাহীতে, প্রায় ১৪ ভাগ রংপুরে, ১৩ ভাগ খুলনায়, ৫ ভাগ বরিশালে এবং ৪ ভাগ সিলেট বিভাগে। এসব ক্লাস্টারে প্রায় ৭০ হাজার প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে ১৯ লাখ ৩৭ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে।

২০১৯-এর এমএসএমই নীতির ৫ নম্বর কৌশলগত লক্ষ্য ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়নের জন্য পাঁচ ধরনের কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে। এগুলো হলো ১) ক্লাস্টারসমূহে অবকাঠামোগত সুবিধা দিয়ে উন্নতি সাধন, ২) ইনকিউবেশন সেন্টার ও কমিউনিটি সেন্টার স্থাপন, ৩) ক্লাস্টারের সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন সিঙ্গেল ডিজিট সুদের হারে অর্থায়ন, ৪) ক্লাস্টার উদ্যোক্তা ও কর্মীদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ৫) ক্লাস্টারসমূহের উন্নয়ন চাহিদা নিরূপণপূর্বক বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম। তবে একথা উল্লেখ্য যে, ক্লাস্টারের উন্নয়নকে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন তথা বিসিকের উন্নয়নের সঙ্গে মিলিয়ে নীতি-কৌশল করা হয়েছে। এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যসমূহ ২০২৪ সালের জুন মাসের মধ্যে বাস্তবায়ন হওয়ার কথা। তবে কভিড-১৯ এর নেতিবাচক প্রভাবের কারণে সেই লক্ষ্যপূরণ কতটা সম্ভব তা প্রশ্নসাপেক্ষ। আরেকটা বিষয় লক্ষণীয় যে, এই নীতি যখন নেওয়া হয় তখন বৃহৎ শিল্পের জন্য সুদের হার ২ ডিজিটের ছিল এবং সে কারণেই ক্লাস্টারে এক ডিজিটের সুদের হারে ঋণ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যে যেহেতু সরকার সর্বত্র ৯% সুদের হারে ঋণ প্রদানের নিয়ম করেছে, তাই ক্লাস্টারগুলোসহ অন্যান্য অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ হারে ঋণ সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা দরকার।

উপরোক্ত যে গুচ্ছ বা ক্লাস্টারগুলো নিয়ে বর্তমানে কাজ চলছে সহজেই অনুমেয় যে এগুলো প্রকৃতিগতভাবে বা সময়ের প্রয়োজনে গড়ে ওঠা ক্লাস্টার। এগুলোর জন্য কোনো বিশেষ সুবিধা আগে দেওয়া হয়নি। বরং একেক এলাকায় নানা ধরনের কাঁচামাল কিংবা দক্ষ জনশক্তির প্রাপ্যতার পরিপ্রেক্ষিতে একেক ধরনের পণ্য বা সেবার ক্লাস্টার গড়ে উঠেছে। তাছাড়া কোনো কোনো এলাকায় বিশেষ পণ্যের চাহিদা থাকার কারণেও শিল্পগুচ্ছ গড়ে উঠেছে। এখন নানা রকম উদ্যোগের মাধ্যমে এই স্বাভাবিক নিয়মে গড়ে ওঠা ক্লাস্টারগুলোকে সুবিধা দিয়ে এগুলোর কলেবর বাড়ানো এবং উৎপাদনশীলতা বাড়ানো হচ্ছে ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়নের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এর একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ক্লাস্টারের অভ্যন্তরে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানগুলো ক্লাস্টারবিহীন প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি পুঁজিঘন এবং তাদের পক্ষে ঋণপ্রাপ্তিও তুলনামূলকভাবে সহজ। তাছাড়া ক্লাস্টারের মধ্যে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানকে এসএমই ঋণ দেওয়া হলে তার তদারকিও সহজ হয়।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়ন কৌশল দিয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানে বিকাশ ঘটানো সম্ভব হয়েছে। জাপানে এর উদাহরণ আছে। এছাড়া আমাদের পাশের দেশ ভারত এই ধরনের গুচ্ছভিত্তিক শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। জাপানের রেশম পণ্য উৎপাদনের ক্লাস্টার, ভারতের ত্রিপুরা, লুধিয়ানা এবং জয়পুরে বস্ত্র ও পোশাক ক্লাস্টার কিংবা চীনের সিরামিক ও নানারকম গৃহসামগ্রী উৎপাদনের ক্লাস্টার ইত্যাদি ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে কাজ করছে। বিভিন্ন দেশের এই অভিজ্ঞতাগুলো থেকে বাংলাদেশ নানারকম কৌশলগত শিক্ষা নিতে পারে। ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া নানান রকমের নীতিগত পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ যদি প্রাকৃতিক উপায় বা যুগের পরিক্রমায় গড়ে ওঠা নানান রকম ক্লাস্টারগুলোকে এসএমই পলিসি অনুযায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি সহায়তা এবং সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা দিতে পারে তাহলে এদেশের এমএসএমই প্রতিষ্ঠানগুলো আরও বেশি সক্ষমতা অর্জন করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে পারবে। এক্ষেত্রে ক্লাস্টারগুলোতে দক্ষ জনশক্তির জোগান দেওয়া বিশেষ জরুরি। কারণ একটি এলাকায় যখন এক ধরনের শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানের কলেবর বাড়তে থাকবে, তখন সে এলাকায় ওই ধরনের শিল্প বা সেবা প্রতিষ্ঠানের জন্য উপযোগী শ্রমিক, টেকনিশিয়ান ইত্যাদি দক্ষতার মানবসম্পদ প্রয়োজন হবে। আবার ক্লাস্টারগুলো যখন বড় হতে থাকবে তাদের পণ্য বা সেবা বিক্রয়ের জন্য, সম্ভাব্য ক্ষেত্রে দূরবর্তী বাজারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে হবে। নইলে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করা যাবে না। সেক্ষেত্রে বাজার ব্যবস্থার সম্প্রসারণে দক্ষ জনশক্তির প্রয়োজন হবে আরও অনেক বেশি। তাই ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়নের পরিকল্পনায় বিভিন্ন ক্লাস্টারের জন্য দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে। বিভিন্ন ক্লাস্টারের জন্য ক্লাস্টারভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গড়ে তুলতে হবে এবং এসব প্রশিক্ষণের জন্য পাঠ্যসূচিতে হাতেকলমে শিক্ষার সুযোগ বেশি রাখতে হবে। তাছাড়া এগুলোতে ব্যবসা পরিচালনা, বৈদেশিক যোগাযোগ এবং রপ্তানির সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রশিক্ষণ ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ক্লাস্টারগুলোর ক্ষেত্রেও এটি সত্য। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত ক্লাস্টারগুলোরতে পণ্যের কাঁচামাল পৌঁছানো কিংবা উৎপাদিত চূড়ান্ত পণ্য দূরবর্তী বাজারে প্রেরণ সব কাজে উন্নত রাস্তাঘাট বিশেষ দরকার। কভিড-১৯ এর পরিপ্রেক্ষিতে এটিও স্পষ্ট যে, বিভিন্ন ক্লাস্টারে স্বাস্থ্য সুরক্ষার নানারকম ব্যবস্থা থাকা উচিত।

সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনভিত্তিক কেনাকাটা যেহেতু অনেক জনপ্রিয় এবং এর মাধ্যমে যেহেতু দূরবর্তী বাজারে পণ্য বিক্রি সম্ভব হয়, তাই ক্লাস্টারভিত্তিক অনলাইন সেবা প্রদানের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। প্রতিটি ক্লাস্টারে এক একটি ভার্চুয়াল বাজার গড়ে উঠবে, যেখান থেকে ওই ক্লাস্টারে অবস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার অর্ডার নেওয়া হবে এবং তা সাপ্লাইয়ের ব্যবস্থা করা হবে।

অবকাঠামোগত উন্নয়নের সঙ্গে কারিগরি উন্নয়ন ও গবেষণার জন্য সরকারি সহযোগিতার প্রয়োজন হবে।

ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়ন কৌশল নারী উদ্যোক্তাদের কথা আলাদা করে স্পষ্টভাবে বলা নেই। কিন্তু নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়ন মডেল বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। বিভিন্ন ক্লাস্টারের নারী উদ্যোক্তারা সমন্বিতভাবে ঋণপ্রাপ্তির ব্যাপারে একসঙ্গে কাজ করতে পারেন।

ক্লাস্টারভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নারী উদ্যোক্তাদের জন্য অগ্রাধিকার থাকতে হবে।

গুচ্ছ বা ক্লাস্টারভিত্তিক উন্নয়ন কৌশল বাংলাদেশের এমএসএমই-এর উন্নয়নে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। তবে এ উন্নয়ন কৌশল সফল হতে হলে এসএমই নীতি ২০১৯-এ বর্ণিত কর্মকৌশলগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন দরকার। ক্লাস্টারের সম্ভাব্য কলেবর বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত জমির প্রয়োজন কীভাবে মেটানো হবে সেই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কারিগরি জ্ঞান বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি উন্নয়নে সহযোগিতা, আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যকে সংযুক্ত করা, রপ্তানিতে সহায়তা ইত্যাকার সেবা যদি বিভিন্ন ক্লাস্টারের জন্য নিশ্চিত করা যায় তাহলে এই উন্নয়ন মডেল সফল হবে। অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি তথা দারিদ্র্য বিমোচনে এই মডেল এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যায়।