ভাষাসৈনিক ও সংস্কৃতি-যোদ্ধা|274205|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০
ভাষাসৈনিক ও সংস্কৃতি-যোদ্ধা
এহসান মাহমুদ

ভাষাসৈনিক ও সংস্কৃতি-যোদ্ধা

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনা মহামারীতে গেল বছর প্রাণ হারিয়েছেন অনেকে। এর মধ্যে গত ২০ জুন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ভাষাসৈনিক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল লোহানীও মারা গেছেন। কামাল লোহানীর প্রকৃত নাম আবু নাইম মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খান লোহানী। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া গ্রামের খান মনতলা গ্রামে ১৯৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

পাবনা জিলা স্কুলে শেষ বর্ষের ছাত্র থাকা অবস্থায় ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে জড়িয়ে কামাল লোহানীর রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৫৩ সালে নুরুল আমিনসহ মুসলিম লীগ নেতাদের পাবনা আগমন প্রতিরোধ করতে গিয়ে তাকে কারাগারে যেতে হয়। মুক্ত হতে না হতেই আবার ১৯৫৪ সালে গ্রেপ্তার হন কামাল লোহানী। সে সময় তিনি কমিউনিস্ট মতাদর্শে দীক্ষিত হন।

পরের বছর আবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে একই কারাকক্ষে তার বন্দিজীবন কাটে।

এরপর ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র শতবর্ষ পালনে পাকিস্তানি নিষেধাজ্ঞা জারি হলে ছায়ানটের নেতৃত্বে কামাল লোহানী ও হাজারো রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিককর্মী সাহসী প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরের বছর কামাল লোহানী ছায়ানটের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব নেন।

ষাটের দশকের শেষ ভাগে ন্যাপের (ভাসানী) রাজনীতিতে জড়িয়ে কামাল লোহানী যোগ দেন আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে পূর্ববাংলার শিল্পীরা যে ভূমিকা রেখেছেন, তার সঙ্গেও কামাল লোহানী সম্পৃক্ত ছিলেন।

১৯৭১-এ মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে কামাল লোহানী একজন শিল্পী, একজন সাংবাদিক ও একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে যুদ্ধে যোগ দেন। সে সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংবাদ বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি বাংলাদেশ বেতারের পরিচালকের দায়িত্ব পান।

কামাল লোহানী ১৯৮১ সালে দৈনিক বার্তার সম্পাদকের চাকরিতে ইস্তফা দিয়ে নতুন উদ্যমে সাংস্কৃতিক আন্দোলনকে সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন। পরে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট গঠনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

পেশাগত সাংবাদিক হিসেবে সাংবাদিক ইউনিয়নে দুই দফা যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সাংবাদিকতার জন্য ২০১৫ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটেরও উপদেষ্টা কামাল লোহানী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে দুবার মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।