নিভৃতচারী লেখক|274231|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০
নিভৃতচারী লেখক
এহসান মাহমুদ

নিভৃতচারী লেখক

‘জোরে শ্বাস নাও’ ছিল কবি মনজুরে মওলার শেষ কাব্যগ্রন্থ। গ্রন্থটি মাত্র দু-মাস আগেই অর্থাৎ প্যানডেমিক করোনাকালেই প্রকাশিত। করোনার থাবায় পড়ে আরও অনেকের মতো মনজুরে মওলাও না ফেরার দেশে চলে গেলেন। কর্মময় বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী ছিলেন মনজুরে মওলা। সেই প্রাচীন প্রবাদের কথাই আজ মনে পড়ছে সমাজ থেকে যখন এখন বয়স্ক নাগরিক চলে যান, তখন যেন একটি সমৃদ্ধ লাইব্রেরি পুড়ে গেল। কবি-অনুবাদক মনজুরে মওলার প্রয়াণেও সে কথা প্রণিধানযোগ্য। আমলাতন্ত্রের চাকরির বাইরে তিনি কবি, অনুবাদক। মানুষ হিসেবে অসাধারণ রসবোধের ব্যক্তিত্ব তার। আমাদের মনে থাকবে তার দীর্ঘ জীবনের ইতিবৃত্ত। বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক ও সাহিত্যিক মনজুরে মওলা পেশাজীবনে তিনি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন।

বাংলা একাডেমির তিন বছরের কার্যকালে ‘একুশ আমাদের পরিচয়’ প্রত্যয়ে সে সময়েই আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় অমর একুশে গ্রন্থমেলা যা বিশ্বের দীর্ঘ সময়ব্যাপী চলা বই উৎসব।

ঐতিহাসিক বর্ধমান ভবন সংস্কার, প্রথম জাতীয় ফোকলোর কর্মশালার আয়োজন, আরজ আলী মাতুব্বর বা খোদা বক্স সাইয়ের মতো লোকমনীষাকে ফেলোশিপ প্রদান, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, ডেভিডসনের চিকিৎসাবিজ্ঞান কিংবা আনিসুজ্জামানের পুরনো বাংলা গদ্যের মতো বই প্রকাশের উদ্যোগী হয়েছিলেন মনজুরে মওলা। বাংলা একাডেমির তার অসামান্য কীর্তি ‘ভাষা শহীদ গ্রন্থমালার’ ১০১টি বই।

প্রশাসক-গবেষক-সম্পাদক-অনুবাদক-কবি মনজুরে মওলা লিখেছেন দুটো কাব্যনাট্য ‘আমি নই’ ও ‘জালিয়ানওয়ালাবাগ’। রবীন্দ্র-বিষয়ে তার অসাধারণ এক কীর্তি গ্রন্থমালা সম্পাদক হিসেবে তারই পরিকল্পনায় রবীন্দ্রসার্ধশতবর্ষে রবীন্দ্রবিষয়ক ১৫১টি বই প্রকাশ। সুধীন্দ্রনাথ দত্তের ‘দশমী’ বইটিকে কেন্দ্র করে ‘নষ্ট নীড়’ নামে বই লিখেছেন মনজুরে মওলা। অনুবাদ করেছেন ইবসেনের নাটক ‘ব্র্যান্ড’, এলিয়টের ‘সুইনি’ ও ‘দ্য রক’, ‘গির্জায় খুন’। এলিয়ট অনুবাদের পাশাপাশি তার ব্যাখ্যাভাষ্যও করেছেন সমান গুরুত্বে। একাডেমির কর্মকর্তা/কর্মচারীদের অবসরভাতা নিশ্চিতকরণ-সহ নানা যুগান্তকারী কর্মসূচির বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলা একাডেমির ইতিহাসে তিনি স্মরণীয় হয়ে আছেন। তিনি সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি রবীন্দ্র পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।