প্রণোদনার পেঁয়াজ বীজে কৃষক সর্বস্বান্ত|275105|Desh Rupantor
logo
আপডেট : ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০
প্রণোদনার পেঁয়াজ বীজে কৃষক সর্বস্বান্ত
আহসান হাবীব অপু, রাজশাহী

প্রণোদনার পেঁয়াজ বীজে কৃষক সর্বস্বান্ত

রাজশাহীর দুর্গাপুুরে সরকারি প্রণোদনার বীজ নিয়ে পেঁয়াজ চাষ করে কপাল পুড়েছে প্রায় ৬০০ কৃষকের। কৃষি অফিসের বিতরণ করা সেই বীজ থেকে বেশিরভাগেরই চারা গজায়নি। পড়ে আছে ফাঁকা মাঠ। এতে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে কৃষকরা।

বীজতলায় চারা না গজানোর কারণে অনেকেই এবার পেঁয়াজ চাষই করতে পারবেন না। এতে একদিকে তারা ফলন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন; অন্যদিকে জমি প্রস্তুত ও চাষের শুরুতে কৃষকদের বেশকিছু টাকা খরচ হয়ে গেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলছে, শীতের কারণে এমন সমস্যা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আবারও প্রণোদনা দিয়ে ক্ষতি কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হবে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব মতে, গত বছরের শেষের দিকে চাষিদের সহযোগিতার উদ্দেশ্যে সরকারিভাবে প্রতি কৃষককে ২৫০ গ্রাম করে বীজ দেওয়া হয়। দুর্গাপুরের ৬০০ জনকে দেওয়া হয় ১৫০ কেজি পেঁয়াজের বীজ। সরকারিভাবে ৬০০ টাকা কেজি দরে স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের থেকে এসব বীজ সংগ্রহ করা হয়। দুই একটি ক্ষেত্রে পেঁয়াজের বীজ থেকে চারা বের হলেও বেশিরভাগ কৃষকেরই বীজ থেকে চারা গজায়নি। এ কারণে বীজতলাগুলো এখন ফাঁকা পড়ে রয়েছে। 

দুর্গাপুর উপজেলার ঝালুকা, দেবীপুর, জয়নগর, সিংগাসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। অনেক জমিতে একটিও চারা গজায়নি। পেঁয়াজ চাষিরা বলছেন, মূলত প্রণোদনার বীজেই এই সমস্যা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করে ঝালুকা এলাকার এক কৃষক বলেন, কৃষি অফিস থেকে আমাকে এই বীজ দিয়েছিল, আমি চারা উৎপাদনের জন্য বপন করলে ১-২ ভাগ চারাও বের হয়নি। আমি পেঁয়াজ চাষের জন্য ২৫ শতাংশ জমি রেখেছিলাম। এবার আর পেঁয়াজ লাগানো আমার পক্ষে সম্ভব হবে না। পেঁয়াজ চারা কেনার সামর্থ্য আমার নেই।  পেঁয়াজ চাষি আতাউর রহমান জানান, কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে আমাদের এই বীজ দেয়। এই বীজে চারা করার জন্য লাগিয়ে একটি গাছও ওঠেনি। আমার জমিটা পড়ে থাকবে, আমি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত। তিনি অভিযোগ করেন, এ বছর আমাদের কারও পেঁয়াজ হবে না, আমরা ক্ষতিপূরণ চাই।

জয়নগর এলাকার এক কৃষক বলেন, প্রণোদনার বীজ কোনো কাজে আসছে না। ৮ কাঠা জমি আবাদের জন্য রেখেছিলাম। আমি এর ক্ষতিপূরণ চাই।

দুর্গাপুর কৃষি অফিসার মশিউর রহমান বলেন, আমরা এই প্রকল্পটি নিয়ে বেশ বিপাকে আছি। তিনি বলেন, স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকেই আমরা বীজ কিনে সাধারণ কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেছিলাম। তবে শীতের কারণে অনেক জায়গায় সমস্যা হয়েছে। আমাদের যদিও বিক্রেতারা ৮০ শতাংশ সফলতার গ্যারান্টি দিয়েছিল। তবে সেটি হয়নি। তাদের কিছু পরিমাণ জরিমানা করে কিছু টাকা দেওয়া হবে। আর যেসব কৃষকের ক্ষতি হচ্ছে তাদের আবার অন্য কোনো প্রণোদনার সহযোগিতা দিয়ে পুষিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া করা হচ্ছে।

রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল হক বলেন, আমাদের এসব বীজে শীতের কারণে কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। কিছুটা কম আকারে গজিয়েছে। এগুলো নিয়ে আমরা প্রতিবেদন দিয়েছি। ভবিষ্যতে এসব কৃষকের আবারও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হবে।